নব্বই দশকের হারিয়ে যাওয়া ব্যান্ড দল

বাংলাদেশের ব্যান্ড সঙ্গীত এখন যে অবস্থায় পৌঁছেছে তাঁর বিস্তার শুরু হয় ৭০-এর দশক থেকে। তবে, সেটা পূর্ণতা পায় ৯০-এর দশকে এসে। পপ, মেলোডি, রক কিংবা হার্ডরক ঘরানার বেশ অনেকগুলো ব্যান্ডের অ্যালবাম কিনতে হুমড়ি খেয়ে পড়তেন শ্রোতারা। এর মধ্যে বেশ কয়েকটা ব্যান্ড ছিল যাদের শ্রোতা তুলনামূলক কম হলেও বেশ আলোচিত হয়। যদিও, কেউই লম্বা দৌঁড়ে টিকতে পারেনি।

  • সিম্ফনি

১৯৮৯ সালে খুলনায় ব্যান্ডটি গঠিত হয়। মাত্র দুই বছরের ব্যবধানে ‘অনুভবে’ ও ‘হৃদয়ের পালকি’ শিরোনামের দুটি অ্যালবাম প্রকাশ করে দারুণ সাড়া ফেলে তাঁরা। ‘ভালো আছি ভালো থেকো আকাশের ঠিকানায় চিঠি লিখো’ কিংবা ‘অনুভবে যে কল্পনাতে মিশে রয়’ গানগুলো জনপ্রিয় হয়। ১৯৯৫ সালে আর্থিক টানাপোড়েনে ব্যান্ডটি ভেঙে যায়।

  • সাবকনশাস

ব্যান্ডটি যাত্রা শুরু করে ১৯৯৮ সালে। গানগুলোর কথা একটু ব্যাতিক্রম হওয়ায় সমালোচনার মুখেও পড়তে হয়েছিল। ২০০০ সালে ব্যান্ডের প্রধান নারী ভোকাল সেরিনা যোগ দেন। ২০০১ থেকে ২০০৫ সালের মধ্যে দারুন জনপ্রিয়তা অর্জন করে ব্যান্ডটি। ২০০২ সালে বেনসন অ্যান্ড হেজেস ‘স্টার সার্চ প্রতিযোগিতায়’ চ্যাম্পিয়ন হয় ব্যান্ডটি।  সেবার আসে ‘মাটির দেহ’ অ্যালবামটি। এরপর ২০০৪ সালে আসে ‘তারার মেলা’। এরপর নয় বছর বিরতি দিয়ে ২০১৩ সালে আসে ‘শিল্পের ঘর’।

  • উইনিং

‘উইনিং’ ছিল সফট রক ও মেলোডি ধাঁচের দারুণ একটি ব্যান্ড। প্রতিষ্ঠা হয় ১৯৮৩ সালে। মূলত আজম খানের ব্যান্ডেরই একটা অংশ ভেঙে এটা সৃষ্টি হয়েছিল। ১৯৯১ সাল থেকে ১৯৯৪ সাল ছিল ব্যান্ডটির জন্য সবচেয়ে সফল সময়। ব্যান্ডটি মোট চারটি অ্যালবাম বের করেছিল – উইনিং (১৯৯১), অচেনা শহর (১৯৯৪), উইনিং প্রবাসে (২০০৩) ও বহুদূরে (২০১৬)। এখন সদস্যরা কেউ থাকেন দেশের বাইরে, কেউ নিজের ব্যবসা-বানিজ্য বা পেশাদার জীবন নিয়ে ব্যস্ত। উইনিং থেকে বের হয়ে এখন ‘ওয়ারফেজ’ নিয়ে ব্যস্ত ড্রামার টিপু।

  • ইভস

নব্বইয়ের দশকের আলোড়ন সৃষ্টিকারী ব্যান্ড ইভস। ভোকাল ছিলেন নাসির। নীল নয়না, বন্যেরা বনে রয়, ভাঙচুর প্রেম, যাবি রে তবে চলে যা, এই মনটারে ডানা মেলে, কি যেন হারালাম, যদি পৃথিবীর সব আলো ইত্যাদি গানগুলো জনপ্রিয় হয়। ১৯৯৩-৯৪ সালের দিকে ব্যান্ডটিতে ভাঙন ধরে। ২০১৩ সালে আবার ব্যান্ডটি নিজেদের কার্যক্রম শুরু করে।

  • অডেসি

নব্বই দশকের শুরুর দিকে যাত্রা করে অডেসি। প্রথম অ্যালবাম ‘মন মন কি যে চায়’ প্রকাশিত হয় ১৯৮৭ সালে। এই অ্যালবামটি বেশ সফল ছিল। ব্যান্ড ভোকাল বাবু ছিলেন ওই সময়ের ক্রেজ। যদিও তিনি একক অ্যালবামে মনোযোগী হন। সারাদেশে ঝড় তোলে বাবুর অ্যালবাম। ‘ও পরানের পাখিরে’, ‘মৌচাক মার্কেটে হলো দেখা’, ‘তুমি আমার আশা’, ‘সজনি রজনি ফুরিয়ে গেলো’, ‘পাশের বাড়ীর ঐ মেয়েটি গানগুলো আলোড়ন সৃষ্টি করে। দ্বিতীয় অ্যালবাম প্রকাশিত হয় ১৯৯০ সালে। বাবু আলাদা হয়ে নিউ অডেসি নামের আলাদা ব্যান্ড নিয়ে আসেন। তাঁরাও একটা অ্যালবাম বের করেছিল।

  • অরবিট

নব্বই দশকের শুরুর দিককার ব্যান্ড। তাঁরা দু’টি অ্যালবাম বের করেছিল – অরবিট ও প্রতীক্ষা। ব্যান্ডটি শেষ কবে গান করেছে ১৯৯৭ সালে। এরপর ব্যান্ডের দুজন সদস্য দেশের বাইরে চলে যান। খুলনা থেকে অরবিট ব্যান্ডের মধ্য দিয়ে ১৯৯০ সালে গানের জগতে আসেন গায়ক পলাশ। ১৫ বছর পর আবারো ব্যান্ডটি একত্রিত হয়।

  • মনিটর

মনিটর ব্যান্ড ‘মনিটর’ নামে প্রথম অ্যালবাম বের করে ১৯৮৯ সালে। রেকর্ডির স্টুডিওর নাম ছিল ঝংকার। ভোকাল ছিলেন শামীম। ‘আমি একা’ ও ‘ছোট বেলার মত এসো ফুল তুলিতে যাই’ গানগুলো প্রশংসিত হয়। ব্যান্ডটির মোট অ্যালবাম চারটি। সম্প্রতি আবার তারা নতুন করে একত্রিত হয়েছে। বেশ কয়েকটা লাইভ শো-ও করেছে।

  • তীর্থক

নব্বই দশকের হারিয়ে যাওয়া ব্যান্ড ‘তীর্থক। জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় থেকে যাত্রা শুরু হয় ১৯৮৮ সালে। প্রথমে নাম ছিল ‘অর্ক’। পরবর্তীতে আশিকুজ্জামান টুলু ‘আর্ক’ নামে ব্যান্ড গঠন করলে অর্ক নাম পরিবর্তন করে ‘তীর্থক’ করা হয়। প্রথম অ্যালবাম ‘দুয়ারী’ আসে ১৯৯২ সালে। ‘সোনা বউ গো’ গানটি জনপ্রিয় হয়। দ্বিতীয় অ্যালবাম ‘পরাজিত প্রেম’ আসে ১৯৯৪ সালে। ১৯৯৯ সালে আসে ‘রাজকইন্যা’। তীর্থকের অন্যান্য জনপ্রিয় গানগুলোর মধ্যে আছে ‘ভালো আছি ভালো থেকো’, ‘একটা চিঠি এসেছে’ ও ‘তুমিহিনা কেটে গেছে’।

  • চার্মিং

হুট করেই এসেছিল মনি কিশোরের ব্যান্ড ‘চার্মিং’। ১৯৯২ সালে প্রকাশ করে প্রথম অ্যালবাম ‘বৌ’। ‘বকুল তলায় ফুল কুড়াতে আসতে তুমি বৌ’ গানটি জনপ্রিয় হয়। পরে আরো একটি অ্যালবাম বের করেছিল ব্যান্ডটি।

  • ব্যালেন্স

ব্যান্ডটির জন্ম নব্বই দশকের শুরুতে। তাঁদের প্রথম অ্যালবাম ‘ফ্রেন্ডশিপ’ প্রকাশিত হয় ১৯৯২ সালে। বিশাল এক বিরতির পরে আবার ফিরে আসে ব্যালেন্স। প্রকাশ করে তাদের দ্বিতীয় অ্যালবাম ‘অপরাধ’।

Related Post

অলিগলি.কমে প্রকাশিত সকল লেখার দায়ভার লেখকের। আমরা লেখকের চিন্তা ও মতাদর্শের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। প্রকাশিত লেখার সঙ্গে মাধ্যমটির সম্পাদকীয় নীতির মিল তাই সব সময় নাও থাকতে পারে।