অথচ শেষ বয়সে টিউশনিতে জীবন চালাতেন তিনি

| শুভদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়, কলকাতা থেকে |

‘হার মানা হার’ ছবিতে সুচিত্রা সেনের সঙ্গে একই মেক আপ রুমে লাঞ্চ করতেন ললিতা চট্টোপাধ্যায়। যে অধিকার অনেকেই পাননি। সুচিত্রাই ললিতাকে ডেকে নিতেন লাঞ্চের সময়। ললিতা একদিন সুচিত্রা সেনের পায়ের সামনে বসে বলেছিলেন, ‘আপনি আমার কাছে দেবী আপনি যে আমায় এত ভালোবাসা দিয়েছেন আমি ধণ্য।আমি আপনার বিশাল ফ্যান।’

‘হার মানা হার’ এ ললিতা করেছিলেন এক নায়িকার চরিত্র এনাক্ষী দেবী। যাকে বিয়ে করে আনবেন ছবিতে সুচিত্রার দাদা অমরনাথ মুখার্জ্জী। তাই সুচিত্রার বৌদির রোল করেন ললিতা জুনিয়র হয়েও। ছবির শ্যুটিং চলাকালীন ম্যাডামের সঙ্গে ভীষন সখ্যতা গড়ে ওঠে ললিতার। ললিতা বন্ধু সার্কেলে বলে বেড়াতেন, ‘তোমরা সুচিত্রা সেন মেজাজি নাকউঁচু বল কৈ আমায় তো খুব ভালোবেসে একসঙ্গে লাঞ্চ করেন।’

হার মানা হার-এ সুচিত্রা সেনের সঙ্গে

তখন সবাই বলত ললিতাকে, ‘কর কর ঐ শ্যুটিং শেষ হলেই দেখবে অন্য রূপ’। ললিতা সেসব কথা পাত্তা দেননি।আনন্দের সঙ্গে কোন ভয় না পেয়েই সুচিত্রা সেনের মতো স্টারের সঙ্গে স্ক্রিন শেয়ার করেন। যদিও তখন ললিতা নামী অভিনেত্রী। তবু সুচিত্রা সেনের সঙ্গে এক দৃশ্যে অভিনয় করতে ম্যাডামের ঐ মেজাজের জন্য অনেকেই ভয় পেতেন। একদিন যতদূর সম্ভব সুচিত্রা ললিতাকে ওনার বাড়িও নিয়ে যান।

‘হার মানা হার’ র শ্যুটিং শেষ হয়ে গেল। যে যার অন্য ছবির কাজে ব্যস্ত হয়ে পড়ল। তারপরই ললিতা আর ম্যাডামের নাগাল পাননি। হাজার যোগাযোগ করলেও সুচিত্রা সেন আর যোগাযোগ রাখেননি। ললিতা ওনার ছেলের বিয়েতে বলতেও গিয়েছিলেন সুচিত্রা সেনের বাড়ি কিন্তু এক সাহায্যকারী নিমন্ত্রণ পত্র গ্রহন করেন।

সুচিত্রা সেনের সেই ‘হার মানা হার’ র ভালোবাসা আর পাননি ললিতা।খুব দুঃখ পেয়েছিলেন ললিতা। পরে বুঝেছিলেন বাকিদের কথাই ঠিক। কিন্তু এটাও বুঝেছিলেন,ম্যাডাম অভিনয়ে জড়তা কাটাতে সেই সময়টুকু বন্ধুত্বপূর্ন সম্পর্ক রাখেন। এই বিষয়ে ‘উত্তর ফাল্গুণী’র সুপর্ণার শিশু চরিত্রে অভিনয় করা অভিনেত্রী কৃষ্ণকলি মন্ডল বলেছেন একই অভিজ্ঞতার কথা।

অ্যান্টনি ফিরিঙ্গিতে উত্তম ও ললিতা

কৃষ্ণকলি বলেছেন ‘ম্যাডাম আমায় চিড়িয়াখানায় নিয়ে গিয়ে শিপাঞ্জিদের সঙ্গে হ্যান্ডসেক করিয়েছিলেন।আমি ভয় পাচ্ছিলাম। ম্যাডাম আমার হাত ধরে শিপাঞ্জির সঙ্গে হ্যান্ডসেক করান।শুধু কি তাই আমায় ওর বাড়ি নিয়ে গিয়ে ব্রেক ফাস্ট করান। এক গ্লাস দুধ জোর করে খাওয়ান।বড় হয়ে বুঝেছি আমি ছবিতে ওর মেয়ের রোল করেছিলাম তাই উনি ভয় জড়তা কাটাতে চাইতেন।’

কৃষ্ণকলির থেকে এ কথা শুনে ললিতা দেবীও নিজের অভিজ্ঞতা মেলাতে পারেন। বোঝেন আসল ব্যাপার। তবু সেই সুচিত্রা সেনকে মিস করতেন যে তাকে সঙ্গে নিয়ে লাঞ্চ করতেন। ললিতার সুচিত্রা সেনের চেয়েও গৌরবর্না ‍ছিলেন। তবে, অভিনয় ক্ষমতা একটু হয়তো কম ছিল কিন্তু ছিল অসম্ভব স্ক্রিন প্রেজেন্স। নিজের ফিল্মোগ্রাফি সম্পর্কে নিজে বিশ্লেষণ করে বলেছেন, ‘আমার সময়ে সুচিত্রা সাবিত্রী সন্ধ্যা রায় কিছু ক্ষেত্রে সুপ্রিয়াও যে ধরনের নিটোল ঘরোয়া বাঙালী বউ মেয়ের চরিত্র করতেন সেগুলো আমার লুকসের সঙ্গে যেতনা।তাই হয়তো ছবিতে সহনায়িকা হয়ে গেলাম।’

এই বিদেশি লুকের জন্যই ললিতা বিদেশির রোলে টাইপ কাস্ট হয়ে গেলেন। কিন্তু মেম দের রোল করতেন অসাধারন।অ্যান্টনি ফিরিঙ্গীর বিদেশি প্রেমিকা হতে ললিতা ছাড়া আর কে পারত?

ললিতার বিয়ের দিন উত্তম ললিতা সুপ্রিয়া ললিতা স্বামী পাহাড়ী ভট্টাচার্য্য

মাত্র চার বছর বয়সে মাতৃহারা হন ললিতা। তখন অবশ্য নাম রুণু। আসল নাম রুণু। পিতা মায়ের মমতা ভালোবাসায় ভরিয়ে দেন।পিতা আর্মিতে চাকরি করতেন তাই রুণুর ছোটবেলা কেটেছে পশ্চিমবঙ্গের বাইরে। কখনও পটনা, কখনও মিরাটে। এরপর চলে আসেন সবাই দক্ষিণ কলকাতার ম্যাডক্স স্কোয়ারের কাছে রিচি রোডে।তখন সব বাড়িতেই খুব সাংস্কৃতিক পরিমন্ডল থাকত।

রোববার মানেই একটা বড় স্ক্রিন টাঙিয়ে দেওয়া হত বড় চাদর আর পর্দার সামনে রুণুরা দাদা ভাই বোন বন্ধু-বান্ধব রা মিলে অনুষ্ঠান করতেন। কখনও ‘রথের রশি’, কখনও বা ‘ডাকঘর’। চার বোন, তিন ভাই। যদিও আজ আর কেউ নেই। ললিতা নিজেও নেই।

স্বাধীনতার ঢেউ আবহ। আজাদ হিন্দ বাহিনীর আনাগোনা। এক এক দিন সেই ফৌজের অংশীদার হয়ে ঘুরে বেড়িয়েছেন ললিতা। এমনকি ১৯৪৭ সালের ১৪ আগস্ট, অর্থাৎ স্বাধীনতার আগের দিন সারা রাত আজাদ হিন্দ ফৌজের সঙ্গে ঘুরেছেন।

পড়াশোনায় ললিতা ছিলেন দারুণ

মাত্র ১৪ বছর বয়সেই বিয়ে করেছিলেন সোমু মুখোপাধ্যায়কে। ললিতা প্রাইভেটে স্কুল ফাইনালে প্রথম হওয়া ছাত্রী ছিলেন। শ্বশুরবাড়ির তাগিদে কিছুদিন পরই চলে গেলেন বিলেতে। লন্ডনে স্কুলে ভর্তি হলেন শাশুড়ির পরামর্শে। চলতে লাগল পড়াশোনা। তারই মধ্যে খুব অল্প বয়সেই দুই ছেলের মা হলেন ললিতা। সেই বিলেতের স্বামী সংসার আর সামলে উঠতে পারলেননা। বিচ্ছেদ।

দুই পুত্রসহ ফিরে এলেন কলকাতায়। ভর্তি হলেন লেডি ব্রাবোর্ন কলেজে। স্কলারশিপ নিয়ে পাশ করলেন। স্নাতকোত্তরে প্রেসিডেন্সি কলেজে ভর্তি হলেন। পড়াশুনোয় ললিতা সবসময় হতেন প্রথম। নামই হয়ে গেছিল ফার্স্ট গার্ল। স্নাতকোত্তর কমপ্লিট না করেই বাড়ির অমতে স্কুলে পড়ানোয় যোগ দেন ললিতা।

ইংরেজিতে দক্ষ ললিতা চট্টোপাধ্যায় সাউথ পয়েন্ট স্কুলের শিক্ষিকাও ছিলেন। শুধু তাই নয় সাঁতার সহ নানা আউটডোর গেমে ললিতা ছিলেন প্রথমা। সঙ্গে ছিলেন দারুন গায়িকা। নায়িকা নয় সুচিত্রা সেনের মতো আগে গায়িকারই অডিশন দেন ললিতা। রেডিওতে ‘ডাকঘর’ নাটকে অভিনয়ও করেছিলেন মেয়েবেলায়।পরে রেডিওতে করেছেন গানের অনুষ্ঠান। এর মধ্যে কানন দেবীর প্রযোজনায় জীবনের প্রথম ছবি শ্রীমতী পিকচার্সের ‘অনন্যা’ করে ফেলেছেন ললিতা। তখন সাত আট বছরের রুণু।

মেমসাহেবের রত্না বৌদি

ললিতা চ্যাটার্জ্জীর দাদার স্ত্রী ছিলেন খ্যাতনামা নায়িকা কাবেরী বসু। ললিতা ছিলেন অসম্ভব উত্তম কুমারের ফ্যান।তাই যখন কাবেরী উত্তম নায়িকা হয়ে ‘রাইকমল’ করছেন তখন একদিন ননদ রুণুকে নিয়ে গেলেন ‘রাইকমল’র সেটে উত্তমকুমারকে দেখতে চাইতেন ললিতা। প্রথম উত্তমকুমারকে সামনাসামনি দেখলেন ললিতা।ললিতার আগুন রুপে মন্ত্রমুগ্ধ হয়ে যান মহানায়ক।

ললিতাকে তাঁর পরের ছবি ‘বিভাস’এ নায়িকা হবার অফার দেন। উত্তমকুমার বলেন সেই শ্রীমতী পিকচার্সের ‘অনন্যা’ ছবি টেনে, ‘রুণু ছোটবেলায় তো অভিনয় করেছ। বড় হয়ে আবারো করোনা। তোমার চেহারা এত সুন্দর।এরা নতুন একটা মুখ খুঁজছে। কাউকেই পছন্দ হচ্ছেনা। তুমি করলে ভালো হয়।’

রুনু কোনকিছু না ভেবে উত্তমের নায়িকা হতে নিজেকে সমর্পন করেন। উত্তমকুমার বলেছেন না করে কার সাধ্য।আর প্রথম ছবিতেই ম্যাটিনী আইডলের নায়িকা। ভীষণ উত্তেজিত হয়ে এককথায় হ্যাঁ বলে দেন ললিতা।

স্ক্রিন টেস্ট,পাশ,ছবি সাইন। ‘বিভাস’র নায়িকা রুণু কিন্তু বিদেশি ছিলেননা। সাবেকী রোলে ভালোই করেছিলেন রুণু। সঙ্গে ছিলেন উত্তম সহ অনুভা গুপ্ত। সফল ছবি।

‘বিভাস’-এর পর দ্বিতীয় ছবির সেটে কাজের ফাঁকে ডুবেছিলেন ভ্লাদিমির নোবোকভের ‘লোলিটা’-য়। কয়েক জন সাংবাদিক এসে রুণুর কাছে জানতে চান, তাঁকে কী নামে ডাকবেন। সঙ্গে সঙ্গে উত্তর দিয়েছিলেন, ললিতা!

ব্যস সেই থেকে ললিতা চট্টোপাধ্যায়। এরপর আরও ছবি উত্তমের সঙ্গে ‘মোমের আলো’, ‘অ্যান্টনি ফিরিঙ্গি’, ‘জয় জয়ন্তী’। এছাড়াও ‘সমান্তরাল’, ‘চিঠি’, ‘মেম সাহেব’, ‘মুক্তিস্নান’।

এরমধ্যে চলে এসছেন দেশপ্রিয় পার্কের সাহেবি ভাড়া বাড়িতে। ষাটের দশকে বাংলা ছবিতে কাজ শুরু করার পর মাঝে দুই ছেলেকে নিয়ে চলে গিয়েছিলেন মুম্বাই। বলিউডে পা রাখেন ললিতা। রাজেশ খান্না, মুমতাজ, তনুজা, অঞ্জু মহেন্দ্র, ফিরোজ খান, প্রাণ সবার সঙ্গে বন্ধুত্ব গড়ে ওঠে। ‘ভিক্টোরিয়া নং জিরো থ্রি’, ‘তুম হাসিন ম্যায় জাওয়ান’, ‘তালাস’, ‘রাত আন্ধেরি থি’, ‘পুস্পাঞ্জলি’ অনেক গুলি বলিউড ছবি করেছেন। সঙ্গে পেয়েছেন নায়ক ফিরোজ খান, মনোজ কুমার, রাজেশ খান্নার মতো।

বলিউডে দশ বছর কাটিয়ে কলকাতা ফিরে এলেও বাংলা ছবিতে উল্লেখযোগ্য রোল পাচ্ছিলেন না। তাই চলে গেলেন থিয়েটার যাত্রা করতে এবং সেখানে পেলেন বিশাল সম্মান নায়িকার সম্মান। এমন এমন সব পালা করেছেন যা যাত্রা ইতিহাসের উল্লেখযোগ্য। ইন্দিরা গান্ধী থেকে ওফেলিয়ার মতো চরিত্র করেছেন। অজিতেশ বন্দ্যোপাধ্যায়, অমর ঘোষ এদের অবদান অসীম ললিতার যাত্রা ক্যারিয়ারে। ‘তিন পয়সার পালা’, ‘ভারত জননী ইন্দিরা’, ‘ভগিণী নিবেদিতা’ যাত্রা করে ললিতা জীবনের সেরা স্বপ্নের দিন পান।

ললিতার সাংসারিক জীবন বৈচিত্র্যময়। বহুবার সংসার করেছেন। তিন তিন বার সংসার জীবন। তিন জন পুরুষ। কিন্তু বলেনা – অতি বড় সুন্দরী না পায় বর অতি বড় ঘরণীর না জোটে ঘর।

প্রথম স্বামী সোমু মুখোপাধ্যায়ের সঙ্গে বিচ্ছেদের পর বিয়ে করেন যাত্রার নায়ক পাহাড়ী ভট্টাচার্য্যকে। ললিতা-পাহাড়ীর বিয়েতে সাক্ষী দেন উত্তম কুমার। সঙ্গে ছিলেন সুপ্রিয়া দেবী। উত্তম কুমার ললিতার বিয়েতে সাক্ষী দেবার আগে ধুতি পাঞ্জাবী পরে বসেছিলেন এমনি ললিতার পাশে। বেণুদি দুষ্টুমি করে বলেছিলেন, ‘আর বর আসার কি দরকার এই তো দু’জনকে খুব ভালো জোড়ে মানিয়েছে।’

ভারত জননী ইন্দিরা যাত্রায় ললিতা চ্যাটার্জ্জী

যদিও ললিতার এই বিয়েও টেকেনি। কিন্তু দুই স্বামী ও তাঁদের পরিবারের সঙ্গে ললিতার যোগাযোগ ছিল।

পোশাক নির্বাচন নিয়ে চিরকাল সাহসী ছিলেন ললিতা। মধ্যবিত্ত বাঙালী সমাজে ডিভা সুপ্রিয়া ও ললিতা দুই বান্ধবী ছিলেন তৎকালীন দুই সাহসিকতার প্রতীক। ললিতার কথায়, ‘আমার স্বামী আমাকে বলেছেন, পোশাক বদল না করলে পার্টিতে নিয়ে যাবেন না। আমিও জেদ ধরে থাকতাম। যে পোশাক পরেছি, তাতেই যাব। তবে অনেক ধরনের ওয়েস্টার্ন আউটফিট পরলেও আমার সবচেয়ে পছন্দ শাড়ি। কেন, বেণুও (সুপ্রিয়া দেবী) কি কম রিভিলিং পোশাক পরত? আমাদের নিয়ে সে সময় চর্চা হতো।’

পাহাড়ী ভট্টাচার্য্য সদ্য ৩০ পেরনো তখন ললিতা ৪০-৪৫ পেরিয়েছেন। পাহাড়ী ভট্টাচার্য্য’র সঙ্গে ভাঙলো মিলনমেলা। এর মধ্যে বড় হয়ে গেছেন ললিতার সন্তানরা। ললিতা যেন টলিউডের জিনাত আমান। পাহাড়ীর পর যে সঙ্গী ললিতার জীবনে এলেন তাঁর সঙ্গে বিয়ে করেননি। দীর্ঘদিনের সঙ্গী বন্ধু যার সঙ্গে লিভ ইন করতেন ললিতা। সেই তৃতীয় পুরুষ যখন চল্লিশে পড়েছেন তখন তিনি ৬১ বছরের ললিতার সঙ্গে লিভ ইন করেন। ইনি ছিলেন শেষ দিন অবধি ললিতার সঙ্গে। তিনি দেখভাল করতেন নায়িকার। তাঁর’ক বছর আগে প্রয়ান হয়।

শূণ্য অঙ্ক ছবিতে

সমাজ কে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে নিজের শর্তে নিজের ইচ্ছেতে বেঁচেছেন এই নারী। জীবনে এসেছে নানা ঘাত প্রতিঘাত। ভুলতে পারেননি বৌদি কাবেরী বসু, দাদা, ভাইপোদের অকাল মৃত্যু। বড় ছেলের হঠাৎ প্রয়াণ বাইপাস অপারেশন করাতে গিয়ে। সে তখন মাত্র ৪২-এ। ভেবেছিলেন নিজেকে শেষ করে দেবেন।সামলে উঠেন কাজে ব্যস্ত থেকে। ছোট ছেলে থাকেন গল্ফগ্রিনে। তাঁর ভরাট সংসার। তবু সারা জীবন স্বাধীন ভাবে বেঁচেছেন তাই নিজের সংসারেই শেষ দিন অবধি থাকেন।

কিন্তু এই ব্যস্ততা থাকত না শেষ জীবনে কাজ পেতেন কম। তবে, বেছে নিয়েছেন ভালো ভালো কাজ। গৌতম ঘোষের ‘শূণ্য অঙ্ক’ তে বহু যুগ পর সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়ের বিপরীতে কাজ করেছেন। পাশাপাশি করেছেন শিবু-নন্দিতা জুটির ‘ইচ্ছে’, অরিন্দম শীলের ‘আসছে আবার শবর’ কিংবা আদিত্য বিক্রম সেনগুপ্তর ‘জোনাকি’ ছবির মুখ্য চরিত্র। ‘জোনাকি’ ললিতার জীবনে একটি সেরা ছবি যাতে ললিতার যুবক বয়ফ্রেন্ডের রোল করেছেন জিম সার্ভ। এছাড়াও আছেন রত্নাবলী, সুমন্ত চট্টোপাধ্যায়। ভারতে এখনও ছবিটি মুক্তি পায়নি। নভেম্বরে মুক্তি পাওয়ার কথা।

সিরিয়াল কিছু করেছেন। উত্তম নায়িকাদের এক করে বিষ্ণু পালচৌধুরীর মেগা ‘শান্তিনিকেতন’ কিংবা ‘প্রাপ্ত বয়স্কদের জন্য’। ‘বেণুদির রান্নাঘর’ ভরে উঠত বেণু রুণুর আড্ডায় কতবার। শেষ সিরিয়াল ‘কি করে তোকে বলব’।

বিভাস ছবিতে

ললিতা যে সমাজের বেড়াজাল ভেঙেছেন বারংবার তার পরিচয় শেষ জীবনেও দিয়েছেন। এক সমকামী নারীর চরিত্রে ‘স্পর্শ, দ্য টাচ’ ছবিতে ললিতা। যে ছবি বাংলা ছবির সাহসী পদক্ষেপ। মাসি-বোনঝির সমকামী সম্পর্কের জটিল মনস্তত্বে ঘুরে বেড়ায় এই ছবির কাহিনী। মাসির চরিত্রে অভিনয় করেছেন ললিতা চট্টোপাধ্যায়।

নিজের সম্বন্ধে আত্মমূল্যায়ণ করে বলেছেন, ‘যখন নায়িকা হতে এলাম সে সময় ইংরেজি বলা, বোল্ড পোশাক পরা মানেই ছিল ভিলেনের রোল। সেটাই হয়ে গেলাম। ভুলভাল চরিত্র নিয়ে ফেলতাম। অনেক ছবির অফার উত্তমকুমার নিয়ে আসতেন তা ফেলতে পারিনি। বলিউডেও তখন এক ব্যাপার। সতী সাবিত্রী নায়িকারই চল ছিল। এখন মনে হয় পড়াশোনার জগতে থাকলেই ভালো হত। আজকালকার ঋতুপর্ণ থেকে সৃজিত কেউ ডাকেনি । কাজ কম পাই তাই নিজের পছন্দের স্পোকেন ইংলিশের টিউশানি করে চালাই। যে বাড়িওয়ালার ছেলেকে কোলেপীঠে করে মানুষ করেছিলাম সে এই বাড়ি থেকে আমায় উচ্ছেদ করতে চায়।’ চোখ জলে ভেসে আসত ললিতার।

ললিতার শেষ সঙ্গী

হতে চেয়েছিলেন জগতখ্যাত গায়িকা। মনে করতেন সেই যোগ্যতা তাঁর আছে। নিজের গানের রেকর্ডও বার করেন কিছু। কিন্তু পরিচিত হলেন নায়িকা রূপে। যদিও সবই আজ অতীত।

Related Post

অলিগলি.কমে প্রকাশিত সকল লেখার দায়ভার লেখকের। আমরা লেখকের চিন্তা ও মতাদর্শের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। প্রকাশিত লেখার সঙ্গে মাধ্যমটির সম্পাদকীয় নীতির মিল তাই সব সময় নাও থাকতে পারে।