রাজ পরিবারের জীবন ছেলের হাতের মোয়া নয়!

শিশু বেলায় আমরা সবাই রাজপুত্র কিংবা রাজকন্যা হতে চাইতাম। রুপকথার গল্প পড়ে কিংবা কার্টুনে দেখে আমাদের ধারণা হত, বাহ ওদের জীবনটা তো খুবই মজার।

এজন্যই হয়তো সত্যিকারের রাজাদের গল্প সবাই খুব মন দিয়ে পড়ে। ওদের প্রতি বাড়তি আগ্রহ বোধ করে। যদিও কঠিন বাস্তবতা হল, ওদের জীবনে যত আভিজাত্যই থাকুক না কেন, হাজারটা নিয়ম, বিধি-বিধান আর শতাব্দী প্রাচীন ঐতিহ্যবাহী নীতি আর একগাদা প্রটোকাল মেনে চলতে হয় রাজপরিবারের সদস্যদের।

  • ডাক নাম নিষিদ্ধ

ডাচেস অব ক্যামব্রিজকে ব্রিটিশ মিডিয়া এখনো কেট মিডলটন কিংবা আদরের প্রিন্সেস ডায়ানাকে কেউ কেউ ‘প্রিন্সেস ডি’ বলে ডেকে থাকে। তবে, রাজ পরিবারের কোনো ধরণের ডাক নাম বা মূল নাম সংক্ষিপ্ত করে ব্যবহার একেবারেই নিষিদ্ধ।

  • সব উপহারের মালিক খোদ রানী

রাজ পরিবার উপহার হিসেবে যাই পাক না কেন, সব যাবে রানীর কাছে। পরিবারের অন্য কাউকে সেসব দেওয়া একেবারেই নিষিদ্ধ। রানী সেই উপহার চাইলে নিজের কাছে রাখতে পারেন, চাইলে অন্যদের দিতে পারেন। এজন্যই তো প্রিন্সেস ডায়ানা ব্যবহৃত গহনা এখন পরিবারের অন্য সদস্যদেরও পরতে দেখা যায়।

  • সবাই রানীর অনুসারী

রয়্যাল এটিকেট অনুযায়ী এখানে সবাই রানীকে অনুসরণ করবে। সেটা আনুষ্ঠানিক কোনো মিলন মেলা হোক, কিংবা হোক স্রেফ পারিবারিক কোনো আয়োজন। এটা কেমন একটা উদাহরণ দিলে পরিস্কার হবে। ধরেন, রানী খেতে খেতে খাওয়া বন্ধ করে দিলেন। ওই সময়ে উপস্থিত বাকিদেরও খাওয়া বন্ধ করতে হবে।

  • নিয়ম সবার জন্য সমান

রাজ পরিবারে নিয়ম সবার জন্য সমান। রানী এলিজাবেথের স্বামী প্রিন্স ফিলিপও নিয়ম মেনে তার স্ত্রীর চেয়ে কয়েক কদম পিছনে থেকে হাঁটেন।

  • কুসংস্কার

রাজ পরিবার কিছু উদ্ভট কুসংস্কারও মানে। যেমন বলা হয়, টাওয়ার অব লন্ডনে সর্বদা ছয়টা দাঁড় কাক থাকেতে হবে। রাজা দ্বিতীয় চার্লসের সময় থেকে এই প্রথা মেনে আসা হচ্ছে। কথিত আছে, ‘দাঁড় কাকগুলো টাওয়ার ছেড়ে গেলেই রাজ্যের পতন ঘটবে!’

  • রানীই আগে কথা শেষ করবেন

কখনো যদি আপনার রানীর সাথে কথা বলার সৌভাগ্য হয়, তাহলে একটা ব্যাপার নিশ্চিত করবেন যে, কথা শেষ হওয়ার পর যেন রানী নিজে আগে যান। এখানে আপনার আগে সরে যাওয়ার কোনো সুযোগ নেই। এটা রাজ পরিবারের প্রটোকলের বিরুদ্ধে।

  • মেয়েদের দাঁড়ানোর ভঙ্গী

রাজ পরিবারের নারীরা সাধারণের মত আঁকাবাকা হয়ে দাঁড়িয়ে সেলফি তুলতে পারেন না।  কারণ মেঝের সমান্তরালে তাঁদের থুতনি সোজা করে রাখতে হয়।

  • ড্রেস কোড

রাজপরিবারের জীবনে পোশাক খুব গুরুত্বপূর্ণ। রাজপরিবারের নারীরা দিনের কোনো অনুষ্ঠানে মাথায় হ্যাট পরেন। আর সন্ধ্যা ছয়টার পর কোনো অনুষ্ঠানে পরে পারিবারিক গহনা, মাথায় তখন থাকে টায়রা। এই নীতি অবশ্য শুধু বিবাহিত নারীদের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। এর অর্থ হল, বাকিংহ্যাম প্যালেসে সন্ধ্যার অনুষ্ঠানে কোনো নারীকে টায়রা ছাড়া দেখার অর্থ হল তিনি এখনো জীবনসঙ্গী খুঁজে পাননি।

  • বিয়ের ফুলের তোড়া

প্রাচীন ঐতিহ্য অনুযায়ী রাজ পরিবারের যেকোনো বিয়ের তোড়ায় মেদিগাছের গুল্ম ব্যবহার করা হয়। এটাকে ভালবাসা ও বিয়ের প্রতীক বলে মনে করা হয়। রানী ভিক্টোরিয়ার সময় থেকে যেকোনো বিয়ের তোড়ার ক্ষেত্রেই এই রীতি মেনে চলা হয়। আর এই গুল্ম তৈরি হয় রানীর ১৭০ বছরের পুরনো বাগানে।

  • রানীর পোষা কুকুর

রানী দ্বিতীয় এলিজাবেথ কুকুর খুব ভালবাসেন। রাজ পরিবারে তারাই একমাত্র সদস্য যাদের ক্ষেত্রে কোনো নিয়ম প্রযোজ্য নয়। তারা রাজ পরিবারের নিজস্ব কুকের হাতের রান্না খান। এমনকি কোনো অতিথি আসলেও, বলে দেওয়া হয় যে তাঁরা যেন কোনো ভাবেই ওই কুকুরদের বিরক্ত না করে। আর এজন্য রানী উইলিয়াম ও কেটের কুকুরকেও রাজ প্রাসাদে নিষিদ্ধ করে দেন। রানীর কুকুরগুলো প্রাসাদের যেকোনো জায়গায় যখন ইচ্ছা তখন যেতে পারে। আর কর্মীরাও তাই জানে সেক্ষেত্রে পুরনো আসবাব ও দামী কার্পেটগুলো কি উপায়ে পরিস্কার করতে হবে।

  • রাজপরিবারের সবাই সেনাবাহিনীর সদস্য

রানী হলেন ব্রিটেনের সেনাবাহিনীর প্রধান। একই সাথে তিনি একজন স্ত্রী, একজন মা ও একজন দাদী। তাঁর সাথে পারিবারিক সম্পর্ক আছে, এমন সবাইই সেনাবাহিনীর হয়ে কাজ করেন। রানীই একমাত্র ব্যক্তি যিনি যুদ্ধ ঘোষণা করতে পারেন। তিনি সেনাবাহিনীর বিভিন্ন অলঙ্কারিক পদে আছেন। এই ছবিটিতে সারেতে তাঁকে ব্রিটিশ ব্যাটেল রাইফেলে ফায়ারিং করতে দেখা যাচ্ছে।

অলিগলি.কমে প্রকাশিত সকল লেখার দায়ভার লেখকের। আমরা লেখকের চিন্তা ও মতাদর্শের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। প্রকাশিত লেখার সঙ্গে মাধ্যমটির সম্পাদকীয় নীতির মিল তাই সব সময় নাও থাকতে পারে।