একজন মেসির বিশ্বজয়ের ভাবনা

এইতো সেদিন আমি অমরত্ব থেকে ৯০ মিনিট দূরে ছিলাম! না ঠিক সেদিন বলা যাবেনা, আদতে সেই ফাইনালের পাঁচ বছর শেষ হয়ে যাওয়ার পথে। ২০১৪ বিশ্বকাপ শুরুর আগে সম্ভবত আমি বলেছিলাম, ‘এবার আমাদের সেরা সুযোগ থাকছে!’

শুধু কথা না কাজের বেলাতেও আমার দল আর আমি মিলে সেটা করে দেখিয়েছি। ফাইনাল, বিশ্বকাপ ফাইনাল যেটা জিতলে আমি অমর হয়ে যেতাম ফুটবল ইতিহাসে। পুরো টুর্নামেন্ট দুর্দান্ত খেলে আমরা ফাইনালে গেলাম, হেরে গিয়েছিলাম এক মারিও গোটজের কাছে! কী দুর্দান্ত এক গোল দিয়েছিল সে। আর ভেঙে দিয়েছিল কোটি কোটি আর্জেন্টাইন ভক্তদের মন।

ওর গোলের পর সম্ভবত একটা ফ্রি-কি পেয়েছিলাম। দূরত্ব বেশি ছিল। তবে হয়তো আমি পারতাম গোল দিতে। কিন্তু তখন তো আমি চলতেই পারছিনা! স্বপ্নভঙ্গ বলে কথা। মনে পড়ল আমি নিজেই তো এমন কত দল, সমর্থকদের স্বপ্ন ভেঙেছি শতবার। সেবার হলাম বিশ্বকাপের সেরা, পেলাম গোল্ডেন বল! কিন্তু লাভ কী? আমি তো সবকিছুর বিনিময়ে একটা বিশ্বকাপ চাই। আমার সব অর্জন দিয়ে হলেও চাই।

শৈশবের কথা মনে পড়ল। চারদিকে দুঃখকষ্টে জর্জরিত আমি। তবে ফুটবল পেলে সব ভুলে যেতাম। ভালোই খেলতাম! কিন্তু হঠাৎ হরমোনজনিত এক রোগ ধরা পড়ে। চিকিৎসার জন্য লাগবে অনেক টাকা। এতো টাকা দেবে কে? সুদূর স্পেনের বার্সেলোনা থেকে একজন এসে চুক্তিতে সব ব্যয়ভার বহন করল। হাতের কাছে কাগজ না থাকায় টিস্যুতে চুক্তি হয়েছিল। ভাবা যায়?

এরপরে পরিবার ছেড়ে লা মাসিয়ায় আসা। ক্ষুদ্রকায় দেখে কোচরা ডিফেন্ডারদের মানা করেছিল আমায় কড়া ট্যাকেল না করতে। সেই আমি কয়েকবছর পর পৃথিবীর সেরা সব ডিফেন্ডারদের রাতের ঘুম হারাম করে দিলাম আমার পায়ের জাদুতে।

বার্সা ক্যারিয়ার বা ক্লাবের হয়ে অর্জন বলে শেষ করা যাবেনা! প্রায় সব রেকর্ডস লুটোপুটি খাচ্ছে পায়ে।

স্পেনের নাগরিকত্ব পেলাম। চাইলে স্পেনের হয়েও খেলতে পারতাম। কিন্তু জন্মভূমি আর্জেন্টিনার মায়া ত্যাগ করতে পারিনি! তাই বেছে নিলাম প্রিয় আকাশী সাদাদের!

জাতীয় দলের হয়ে অর্জনের ভাণ্ডারে ষাটের অধিক গোল। অনূর্ধ্ব ২০ বিশ্বকাপ আর বেইজিং অলিম্পিকে গোল্ড জেতা ছাড়া আর কোন অর্জন নেই। নেই কোন বৈশ্বিক শিরোপা। দুটা কোপা আমেরিকার ফাইনাল আর ২০১৪ বিশ্বকাপের ফাইনালে দলকে নিয়ে যাওয়া সাফল্য বলা যেতে পারে! আর গোল্ডেন বলের কথাও আসতে পারে।

এইতো সেদিন চিলির বিপক্ষে টাইব্রেকারে পেনাল্টি মিস করলাম। রাগে, ক্ষোভে অবসর নিলাম। তবে ফিরে আসলাম আবার সমর্থকদের জন্য! আর যদি দলের হয়ে কোন ট্রফি জেতা যায়।

কিন্তু আসলে জিততে পারব? বিশ্বকাপ কোয়ালিফাই করতেই রীতিমতো হিমশিম খেলাম আমরা। বাদ পরে যেতাম যদিও শেষ ম্যাচ হ্যাটট্রিক করে দলকে নিয়ে আসি বিশ্বকাপের মঞ্চে।

দলের বেহাল অবস্থার কথা জানি। এইতো বিশ্বকাপ শুরুর আগে স্পেনের কাছে ৬-১ গোলে দল হারল। গ্যালারিতে বসে দেখলাম ডিফেন্ডারদের সব শিশুতোষ ভুল। ১৮ বিশ্বকাপে নাইজেরিয়ায় বিপক্ষে লড়ে শেষ ষোলোতে ফ্রান্সের কাছে হেরে বিদায় নিলাম।

বাড়তে থাকা বয়স পা রাখল ৩২ বছবে। খুব সম্ভবত আরেকটা বিশ্বকাপ খেলা হবে, নাও হতে পারে। সুযোগ পেলে সেবার শেষ সুযোগ কাজে লাগাতে চাই। আর জিততে চাই কোপা আমেরিকা ট্রফিও। জানিনা সতীর্থদের সমর্থন পাবো কিনা। ক্লাবের হয়ে সম্ভাব্য সব জিতে ফেলেছি। অনেক নিন্দুক গায়ে ‘ক্লাব লিজেন্ড’ তকমাআঁটায়! আমি তা ছুড়ে ফেলতে চাই চিরদিনের মতো। সবচেয়ে বড় কথা আমি দেশের হয়ে একটা বিশ্বকাপ জিততে চাই! অমর হয়ে যেতে চাই ফুটবল ইতিহাসে। পেলে, ম্যারাডোনার পরেই যেন লোকজন আমার নাম নেয়! সম্ভব হলে এঁদেরও আগে!

আমি লিওনেল আন্দ্রেস মেসি কুচ্চিত্তিনি কী পারব বিশ্বকাপ জেতাতে আমার দলকে? জানিনা। এই প্রশ্নের জবাব দেবে সময়। তবে আরো অনেক বছর আমার পায়ের জাদুতে বিমোহিত হবে ফুটবল বিশ্ব তা বলে দিতেই পারি!

_______________

লেখাটি সম্পূর্ণ কাল্পনিক। এমন কোন লিখা বা সাক্ষাৎকার মেসি কখনো দেয়নি। একজন মেসির হয়ে বিশ্বজয়ের ভাবনাটা আমি নিজেই লিখলাম।

Related Post

অলিগলি.কমে প্রকাশিত সকল লেখার দায়ভার লেখকের। আমরা লেখকের চিন্তা ও মতাদর্শের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। প্রকাশিত লেখার সঙ্গে মাধ্যমটির সম্পাদকীয় নীতির মিল তাই সব সময় নাও থাকতে পারে।