লিলিথ: অদূর ভবিষ্যতের গল্প

পরিচালক দীপঙ্কর দীপনের ‘ঢাকা অ্যাটাক’ পরবর্তী কাজ ‘লিলিথ’। ভালবাসা দিবস উপলক্ষে ওপার বাংলার স্ট্রিমিং চ্যানেল হইচই.কমে মুক্তি পায়। যদিও ওপার বাংলার চ্যানেল তবে ফিল্মটির কলাকুশলীর লিস্টটায় সব পরিচিত মুখেরই দেখা পাওয়া যায়।

‘লিলিথ’ গল্পটি  তৈরি হয়েছে অদূর ভবিষ্যতের এক পৃথিবী নিয়ে। যেখানে প্রযুক্তিগতভাবে অনেকটাই এগিয়ে গিয়েছে আমাদের এই ছোট্ট এই গ্রহ। পরিচিত হয়েছে অদ্ভুত এক সিস্টেমের সাথে, যার নাম এনটিআর (নেশন ট্রুথ রেটিঙ)।

এনটিআর এমন একটি সিস্টেম যার উপর ভিত্তি করে নির্ধারণ করা হয়, একজন ব্যক্তি কতোটা সমাজ বান্ধব। এনটিআর ৪০ হওয়া মানে আপনি খুব স্বাভাবিক একজন। তবে যতই আপনার এনটিআর কমতে থাকবে আপনি ভোগ করবেন করুন এক পরিণতি।

একদিকে যেমন এই সিস্টেম কমিয়ে এনেছে ভবিষ্যত পৃথিবীর অপরাধ বিস্তৃতি, তেমনি বাড়িয়েছে মানুষের প্রাণের ঝুঁকি। ওয়েব ফিল্মটি প্রধান রোলে দেখা মিলবে, বর্তমানে বাংলাদেশের অন্যতম জনপ্রিয় অভিনেতা সিয়াম আহমেদের, এবং আয়নাবাজি খ্যাত নাবিলার।

যেখানে সিয়াম আহমেদ অভিনয় করেছে আদনান নামক একজন স্ট্যান্ড-আপ কমিডিয়ানের চরিত্রে, আর নাবিলা আছেন নাম ভূমিকায়, লিলিথ চরিত্রে। গল্পটা শুরু হয় আদনানকে ঘিরে, যার এনটিআর ৯০ এবং তাঁকে সন্দেহ করা হয় প্রবাবল থ্রেট হিসেবে, এব্যাপারে ইনভেস্টিগেট করতে মাঠে নামেন লিলিথ।

তারপর গল্প চলেছে গল্পের গতিতে, আমি আসি কাঁটাছেড়ায়, আপনি যদি নেটফ্লিক্সের ব্ল্যাক মিরর দেখে থাকেন তবে গল্পের উঠোনটা আপনার অনেকটাই পরিচিত হবে, যদিও মোটেও বলছি না, লিলিথ ব্ল্যাক মিররের কপি। আমি অনেক আশা নিয়েই শুরু করেছিলাম গল্পের শুরুটা দেখে, তবে আমি প্রচণ্ড আশাহত হয়েছি। কারণ ক্ষণে ক্ষণে গল্পের সুরে কোথায় যেনো বাধা পাচ্ছিলো।

আদনান চরিত্রের রহস্যের সাথে তাঁর ব্যক্তিগত জীবনের কোনো সম্পর্ক আমি খুঁজে পাইনি, বারবার মনে হচ্ছিলো এর সাথে গল্পের কি সংযোগ! আদনানের প্রেমিকার চরিত্রে অভিনয় করা মেয়েটার চরিত্রকে প্রচন্ড দুর্বল মনে হয়েছে। কারণ একই চরিত্র, ফিল্মের শুরুতে আদনানের সাথে অন্য মেয়ের সম্পর্ককে খুব স্বাভাবিক ভাবে দেখছিলো, অথচ ফিল্ম শেষ হওয়ার সময় তাঁর চরিত্রের গ্রাফ সম্পূর্ণ উল্টো হয়ে দাঁড়ালো।

লিলিথ চরিত্রে নাবিলা খুব একটা ভালো করেননি, যতোটা স্ট্রং পার্সোনালিটি কিংবা নার্ভ, চরিত্রটি ডিমান্ড করে তা নাবিলা পূরণ করতে পারেনি। আদনানের চরিত্রে সিয়াম ভালো ছিলো। তবে একজন স্ট্যান্ড আপ কমেডিয়ান হিসেবে তাঁর ডায়লগ গুলো প্রচণ্ড ভাড়ামো পূর্ণ, এর পুরো দোষটাই লেখকের। সংলাপ গুলো খুবই দুর্বল।

২০১৮ সালে ভাইরাল হওয়া কিছু ছ্যাবলামো মার্কা ডায়লগ শুনে অদূর ভবিষ্যতে মানুষ হাসবে, এটা লেখক কিভাবে ভাবেন কে জানে। দৃষ্টিকটু লেগেছে ভবিষ্যতের মানুষের ভেস্পা চালানো দেখে। আর এনটিআর হেড অফিসের জানালার পৃথিবীর সাথে, আউটডোরে শুট হওয়া দৃশ্যগুলোর হাস্যকর পার্থক্য দেখে।

তবে আমি বলবো, তবুও সবার লিলিথ দেখা উচিত, কারণ লিলিথ একটি সাহসী পদক্ষেপ। সায়েন্স ফিকশনের যা বাজেট লাগে, তা পরিচালক পাননি সেটা অনুমেয়, তবে তিনি ভালো কাজ করেছেন। প্রতিটা দৃশ্য যত্ন নিয়ে বানানো। সিনেমাটোগ্রাফি ভালো, ভিন্ন চেষ্টা, এবং অবশ্যই ভবিষ্যতের পৃথিবীর প্রযুক্তির ভয়াবহতা, কিংবা যত্ন বনে যাওয়া মানুষের খুব সুন্দর উপস্থাপন লিলিথ।

দীপঙ্কর দীপনকে সাধুবাদ। আপনি এগিয়ে যান। এবং ভালো নির্মাণ করুন।

অলিগলি.কমে প্রকাশিত সকল লেখার দায়ভার লেখকের। আমরা লেখকের চিন্তা ও মতাদর্শের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। প্রকাশিত লেখার সঙ্গে মাধ্যমটির সম্পাদকীয় নীতির মিল তাই সব সময় নাও থাকতে পারে।