লাইট, ক্যামেরা, ড্যান্স!

বলিউড বহমুখী প্রতিভাধরদের জায়গা। এখানে সবাই নতুন কিছু করতে চান। অভিনেতারাও কখনো কখনো পরিচালকের ভূমিকায় অবতীর্ণ হওয়ার রেওয়াজ বহু পুরনো। একালে অবশ্য বেশ নামকরা কোরিওগ্রাফাররা নাম লেখাচ্ছেন পরিচালকের খাতায়। ক্যারিয়ারের নতুন এই মাত্রায় তাঁরা বিস্তর সাফল্যও পাচ্ছেন। তেমনই কয়েকজনকে নিয়ে আমাদের এবারের আয়োজন।

  • প্রভু দেবা

কোরিওগ্রাফার থেকে নির্মাতা বনে যাওয়াদের তালিকায় সবচেয়ে সবচেয়ে সফল ব্যক্তি তিনি। ১০০টিও বেশি সিনেমায় তিনি কোরিওগ্রাফি করেছেন। ১৩ টি সিনেমা এসেছে তার পরিচালনায়, এর মধ্যে ছয়টি সিনেমাই বলিউডের জন্য বানানো। চারটিতে তিনি করেছেন প্রযোজনা। জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার পেয়েছেন দু’বার। সেরা চলচ্চিত্র কোরিওগ্রাফির জন্য পুরস্কার দু’টি আসে ১৯৯৪ ও ২০০২ সালে।

  • রেমো ডি সৌজা

‘রঙ্গিলা’ সিনেমায় ব্যাকগ্রাউন্ড ড্যান্সার হিসেবে ছিলেন রেমো। অ্যাসিস্ট করেন আহমেদ খানকে। বলিউডে তাঁর কোরিওগ্রাফ করা প্রথম গান হল কাঁটে সিনেমার ‘ইশক সামুন্দার’ গানটি। গানটা আকাশছোয়া জনপ্রিয়তা পায়। এরপর কাজ করেন ‘তুম বিন’ সিনেমায়। এরপর একে একে ধুম, লাকি, সাথিয়া, আকসার, লাভ স্টোরি ২০৫০, কিডন্যাপ, ভুতনাথ, রক অন, বাজিরাও মাস্তানি, ইয়েহ জাওয়ানি হ্যায় দিওয়ানি, স্টুডেন্ট অব দ্য ইয়ার, অ্যানি বডি ক্যান ড্যান্স, অ্যানি বডি ক্যান ড্যান্স ২, ফালতু, বাজরাঙ্গি ভাইজান, টু স্টেটস, রোবট – ইত্যাদি সিনেমায় কাজ করেন রেমো।

তার পরিচালিত প্রথম সিনেমা ফালতু বক্স অফিসে পায় আশাতীত সাফল্য। এরপর এবিসিডি ও এবিসিডি ২ ছাড়িয়ে যায় প্রত্যাশাকেও। এরপর রেমো করেন ‘আ ফ্লাইং জ্যাট’। এরপর সালমান খানকে কাস্ট করে করেন ‘রেস থ্রি’। সিনেমার প্লট, কাস্টিং নিয়ে যতই বিতর্ক থাকুক না কেন, ঠিকই সিনেমাটি ব্যবসাসফল সিনেমার কাতারে নাম লিখিয়ে ফেলেছে।

  • ফারাহ খান

‘জো জিতা ওহি সিকান্দার’ ছবিতে সহকারী পরিচালক হিসেবে কাজ শুরু করেছিলেন ফারাহ খান। সেই ছবির বিখ্যাত ‘প্যাহলা ন্যাশা’ গানের কোরিওগ্রাফিতে তাঁর বড় ভূমিকা ছিল। এরপর ‘কুছ কুছ হোতা হ্যায়’, ‘দিল তো পাগল হ্যায়’, ‘দিলওয়ালে দুলহানিয়া লে জায়েঙ্গে’-সহ আরো বেশ কিছু ছবিতে নৃত্য পরিচালনা করেন তিনি। সিনেমা পরিচালনা করেছেন চারটি, তবে নিজেকে সমাদৃত করতে পারেননি। ‘ম্যায় হু না’ (২০০৪), ‘ওম শান্তি ওম’ (২০০৭) ও ‘হ্যাপি নিউ ইয়ার’ (২০১৪) ব্যবসায়িক সাফল্য পেলেও ‘তিস মার খান’ (২০১০) ব্যর্থ হয়।

  • গনেশ আচার্য

মাত্র ১৯ বছর বয়সেই প্রথম সিনেমা পরিচালনা করেন গনেশ আচার্য। জুহি চাওলা ও মনোজ বাজপেয়ি অভিনীত ২০০৭ সালের ‘স্বামী’ নামের ছবিটি আলোচিত হয়। এরপর ২০০৮ সালে ‘মানি হ্যায় তো হানি হ্যায়’ ও ২০১১ সালে ‘অ্যাঞ্জেল’ নামের আরো দু’টি ছবি নির্মান করলেও বানিজ্যিক সাফল্য পাননি গনেশ। তবে, কোরিওগ্রাফার হিসেবে নিজের সাফল্যের ধারাবাহিকতা ধরে রেখেছেন তিনি। ‘রাম লিলা’ কিংবা ‘ইয়েহ জাওয়ানি হ্যায় দিওয়ানি’ তাই প্রমাণ করে।

  • আহমেদ খান

‘মিস্টার ইন্ডিয়া’ ছবিতে চাইল্ড আর্টিস্ট হিসেবে যাত্রা শুরু করেন আহমেদ খান। কালক্রমে ইন্ডাস্ট্রি’র ‘কুলেস্ট’ কোরিওগ্রাফারে পরিণত হন। ‘কিক’ ছবির জুম্মে কি রাত হ্যায় তারই কোরিওগ্রাফ করা। তিনি দু’টি ছবি পরিচালনা করেন। সেগুলো হল – ২০০৪ সালের ‘লাকির’ ও ২০০৭ সালের ‘ফুল অ্যান্ড ফাইনাল’।

Related Post

অলিগলি.কমে প্রকাশিত সকল লেখার দায়ভার লেখকের। আমরা লেখকের চিন্তা ও মতাদর্শের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। প্রকাশিত লেখার সঙ্গে মাধ্যমটির সম্পাদকীয় নীতির মিল তাই সব সময় নাও থাকতে পারে।