মহারাজা ভূপিন্দর সিং: উন্মত্ত যৌনতা ও ১২ টি রোলস রয়েসের গল্প

একাধারে তিনি ভারতের সবচেয়ে উজ্জ্বল, সবচেয়ে প্রসিদ্ধ আবার সবচেয়ে বিতর্কিত ও ভুতুড়ে একজন রাজা। তাকে নিয়ে অনেক রকম কথা প্রচলিত আছে। তাকে নিয়ে দিস্তার পর দিস্তা কাগজ খরচ করেছেন ইতিহাসবিদরা। তাঁকে নিয়ে হয়েছে অনেকরকম গবেষণা। তাঁকে ঘিরে যা শোনা যায়, এর অধিকাংশই সত্য। কিছু আছে লোকের মুখে মুখে প্রচলিত কথা, সেসব নিয়ে সন্দেহ আছে। তবে, তিনি যে, সবার চেয়ে আলাদা সে নিয়ে কোনো সন্দেহ নেই।

১৮৯১ সালের ১২ অক্টোবর মহারাজা ভূপিন্দর সিংয়ের জন্মদিন, ভারতের সবচেয়ে উজ্জ্বল ও অদ্ভুত রাজকুমার হিসেবে তিনি প্রসিদ্ধ  পিতা রাজিন্দর সিংয়ের মৃত্যুর পর, নয় বছর বয়সে ভূপিন্দর মহারাজা হিসেবে অভিষিক্ত হন।

মহারাজা ভূপিন্দর সিং তার শাসনকালের উপর একটি গভীর ছাপ ফেলে গিয়েছেন এবং শুধু বিলাসিতার প্রতীক হিসাবেই নয়, অহংকার, অদ্ভুত উপায়ে জীবনধারণের জন্যেও জনপ্রিয় ছিলেন। এবং আমরা যখন তাকে অদ্ভুত হিসেবে আখ্যায়িত করি তখন বুঝায় যায় তার জীবন কতোটা বৈচিত্র্যময় ছিলো।

মহারাজা ভূপিন্দর সিং ১৯০০ থেকে ১৯৩৮ সাল পর্যন্ত পাটিয়ালা প্রদেশ শাসন করেছিলেন। তাঁর প্রথম অর্জন ছিলো, তিনি একজন ভারতীয় হয়েও প্রথম বিশ্বযুদ্ধের সাম্রাজ্যবাদী যুদ্ধ কাউন্সিলের একজন প্রতিনিধি হিসেবে রণজি ট্রফিতে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ অনুদান প্রদান করেন এবং গোল টেবিল সম্মেলনের সময় শিখদের হয়ে প্রতিনিধিত্ব করেছিলেন।

তিনি ছিলেন প্রথম ভারতীয় ব্যক্তি, যিনি ব্যাক্তিগত বিমানের মালিক ছিলেন এবং সেই বিমান তিনি যুক্তরাজ্য থেকে কিনেছিলেন। ১৯২৬ সালে তিনি পাটিয়ালা নেকলেস তৈরির জন্য প্যারিসিয়ান গহনা কারিগর কারটিয়ের এসএকে এর নিকট বহুমূল্য রত্ন, গহনা এবং বিশ্বের সপ্তম বৃহত্তম হীরা সমৃদ্ধ একটি ট্রাঙ্ক পাঠিয়েছিলেন। বলা হয়ে থাকে এই ২৫ মিলিয়ন ডলারের পাটিয়ালা নেকলেস আজো ভারতবর্ষের অন্যতম দামী গহনা।

শুধু কি এতোটুকুই?

বল হয় ভূপিন্দর সিং সম্পূর্ণ একটি রোলস রয়সের বহরের মালিক ছিলো, যে বহরে গাড়ির সংখ্যা ছিলো প্রায় ২৭ থেকে ৪৪ টি।

১৯২২ সালে তিনি ১৪০০ খণ্ডের একটি ডিনার সেটের অনুমোদন দেন, যা কিনা সম্পূর্ণ রুপা এবং স্বর্নের তৈরী ছিলো।আর এই ডিনার সেট বানানোর পিছনের কাহিনী ছিলো ‘প্রিন্স অব ওয়েলস’ এর রাজকীয় ভ্রমনকে স্মরণীয় করে রাখা।বলা হয়ে থাকে হিটলার রাজা ভূপিন্দর সিং এর খুব ভালো বন্ধু ছিলো এবং হিটলার মহারাজাকে উপহার দিয়েছিলো দুর্লভ ম্যাইবেক গাড়ি।

কিন্তু বিভিন্ন বই ও সংস্থার মতে, মহারাজা ভূপিন্দর সিংয়ের রাজকীয় এবং জাকজমকপূর্ন জীবনধারার সবটাই দাতব্য কিংবা সুখের উদ্দেশ্যে ছিলো না। ‘দ্য ম্যাগনিফিশেন্ট মহারাজা’ শিরোনামের একটি বইয়ের পর্যালোচনায়, খুশবন্ত সিং মন্তব্য করেছিলেন – ‘তিনি একজন হতাশাজনক, মর্মাহত, মাতাল, নারীঘেষা মানুষ ছিলেন।’

তিনি পাঁচবার বিয়ে করেন এবং ৮৮ টি সন্তানের জন্ম দেন এবং শোনা যায় তার অসংখ্য উপপত্নীও ছিলেন। বলা হয় যে, গ্রীষ্মের মাসগুলিতে, তিনি তার উপপত্নীদের উন্মুক্ত বক্ষে পুলের রিমে বসিয়ে রাখতেন আর সাতার কাটার পাশা পাশি হুইস্কিতে চুমুক দিয়ে এই সব উপভোগ করতেন।

‘মহারাজা’ – দীওয়ান জার্মি দাসের একটি ভণ্ডামিপূর্ণ বই – যার বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে এখনো প্রশ্ন তোলা হয়,তাতে বলা হয়ছে যে, মহারাজা এবং অন্যান্য পুরুষরা কুমারী নারীদের উপর মদ ঢালতেন এবং সেই মদ তারা নানান উপায়ে খেয়ে থাকতেন। বোঝাই যাচ্ছে, কতটা বিকৃত যৌনাচারে অভ্যস্ত ছিলেন তিনি।

তার যৌন ক্ষুধা তার পেটের ক্ষুধার চেয়েও বেশি ছিল এবং তিনি একদিনে ২০ পাউন্ড খাবার খেতেন বলে শোনা যায়। তিনি ব্যক্তিগতভাবে ৩৫০জন নারী (উপপত্নী) নিয়ে একটি হারেম তৈরি করেছিলেন, যাকে তিনি পুনর্নির্মাণ করেছিলেন, কারণ তিনি সৌন্দর্যবিদ, গহনাকার, পোশাক প্রস্তুতকারী এবং ভারতীয়, ফ্রান্স এবং ইংল্যান্ডের প্লাস্টিক সার্জনদের কাছ থেকে বিভিন্ন সাহায্য গ্রহণ করতে পেরেছিলেন।

স্কুপহুপ অবলম্বনে

অলিগলি.কমে প্রকাশিত সকল লেখার দায়ভার লেখকের। আমরা লেখকের চিন্তা ও মতাদর্শের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। প্রকাশিত লেখার সঙ্গে মাধ্যমটির সম্পাদকীয় নীতির মিল তাই সব সময় নাও থাকতে পারে।