ভুতুড়ে জীবন, অতি-ভুতুড়ে মৃত্যু

এযাবৎকালের সবচেয়ে আকর্ষণীয় অভিনেত্রী কে? এই প্রশ্নের জবাবে প্রথমেই আসবে মেরিলিন মনরোর নাম। প্রশ্নটা পাল্টে যদি বলা হয়, বিশ্বের ইতিহাসে সবচেয়ে রহস্যময় অভিনেত্রী কে? তাহলেও সবার আগে আসবে সেই মেরিলিন মনরোর নামই। তাঁর জীবন, তার এক গাদা প্রেমিক, কিংবা তাঁর মৃত্যু – কোনো কিছু নিয়েই রহস্যের কোনো শেষ নেই।

সেই ভুতুড়ে জীবনটাকে চলুন একদম গোড়া থেকে জানি। ১৯২৬ সালে জন্ম নেওয়া এই তারকার শৈশবটা সহজ ছিল না। বলা ভাল, সুখ নামক সোনার হরিনের পেছনে ছুটেছেন বটে, কিন্তু তাকে ছুঁয়ে দেখা হয়নি।

চলচ্চিত্রের ক্যারিয়ারে প্রায় ২০০ মিলিয়ন ডলার আয় করেছেন। যদিও, অস্বাভাবিক মৃত্যুতে অকালেই জীবনাবসান ঘটে তার। ১৯৬২ সালের পাঁচ আগস্ট মাত্র ৩৬ বছর বয়সেই মারা যান তিনি। জীবনটা যেমন ভুতুড়ে ছিল, তার সাথে মিল রেখে মৃত্যুটা হয়েছে আরো বেশি ভুতুড়ে।

ফটোশ্যুট করার সময় তোলা ছবি – হলিউডের হিলস ম্যানশন ও সান্তা মনিকা সমুদ্র সৈকতে।

কারো ধারণা তিনি খুন হয়েছেন; তবে, অধিকাংশ মনে করেন মাত্রাতিরিক্ত মাদকাসক্তিই তার জীবন কেড়ে নিয়েছে। আবার কেউ কেউ বলেন গাদাখানেক ঘুমের ওষুধ খেয়ে আত্মহত্যা করেন তিনি।

ক্যালিফোর্নিয়ায় জন্ম নেওয়া মনরোর আসল নাম নর্মা জেন মর্টেনসন। শিশুবেলায়, এমনকি কৈশোরেও তোতলাতেন মনরো। যদিও, বয়স হওয়ার সাথে সাথে কেটে যায়। তবে, ‘সামথিংস গট টু গিভ’ সিনেমায় প্রচুর মানসিক চাপের মধ্যে তাকে আবারো তোতলাতে দেখাতে যায়।

মনরোর মা গ্লাডিস পার্ল বেকার ফিল্ম ইন্ড্রাস্টিতে নেগেটিভ কাটার হিসেবে কাজ করতেন। দু’বার বিয়ে হয়েছিল তার। তবে, মনরোর পিতার পরিচয় অজ্ঞাত। মনরোর মা’র আরও দুই রবার্ট ও বার্নিস নামের আরো এক ছেলে ও মেয়ে ছিল। মনরো অবশ্য খুব কমই নিজের ভাইবোনের সাথে দেখা করতে পেরেছিলেন।

বড় একটা সময় তাকে কাটাতে হয় অনাথাশ্রমে। বাইরের গণমাধ্যমগুলো বলছে ১১ বার পালক পিতা-মাতা পাল্টাতে হয়েছে মনরোকে। ১৯৪২ সালে মাত্র ১৬ বছর বয়সেই মনরোর বিয়ে হয়। স্বামীর সংসার শুরু করেন মনরো। স্বামী জেমস ডগার্থির সাথে তার সম্পর্ক ভাল ছিল না। বিয়ে খুব বেশিদিন টিকেনি।

সব ছেড়েছুড়ে ১৯৪৬ সালে মডেলিং শুরু করেন মনরো। ১৯৪৭ সালে টুয়েন্টিয়েথ সেঞ্চুরি ফক্স স্টুডিওর সাথে চুক্তিবদ্ধ হয়ে দুনিয়া কাঁপানো শুরু করেন। ১৯৫০ সালে অল অ্যাবাউট ইভ সিনেমায় প্রথমবার তাকে দেখা যায়।

১৯৫৭ সালে মুক্তি পায় বিখ্যাত সিনেমা দ্য সেভেন ইয়ার ইচ। তার জন্য বিশ্বব্যাপী খ্যাতি পান মনরো।  হাও টু ম্যারি আ মিলিয়নিয়ার, দ্য প্রিন্স অ্যান্ড দ্য শোগার্ল ইত্যাদি সিনেমাতেও তিনি প্রশংসিত হন। সাম লাইক ইট হট ছবির জন্য গোল্ডেন গ্লোব পুরস্কার পান। যদিও, কখনো অ্যাকাডেমি অ্যাওয়ার্ড পাননি তিনি।

অভিনয় জীবন শুরু করার পর আরো দু’বার বিয়ে করেন মনরো। ১৯৫৪ সালে জো ডিম্যাজ্জিওর সাথে এক বছর সংসার করেন। এরপর ১৯৫৬ সালে বিয়ে করেন আর্থার মিলারকে। সেই সম্পর্ক টিকে ছিল পাঁচ বছর।

আমেরিকার রাষ্ট্রপতি জন এফ. কেনেডির সাথে মনরোর সম্পর্ক ছিল বলে তখন বেশ কানাঘুষা ছিল। রাষ্ট্রপতির জন্মদিনে মনরো যে পোশাক গায়ে দিয়েছিলেন সেটা ১৯৯৯ সালে বাংলাদেশি মূল্যমানে প্রায় ১০ লাখ টাকায় নিলামে বিক্রি হয়।

১১ ফেব্রুয়ারি, ১৯৫৪: কোরিয়ায় অবস্থারত সেনাবাহিনীর জন্য মেরিলিন মনরোর পরিবেশনা।

মনরোর মৃত্যুর পর তার দ্বিতীয় স্বামী ডিম্যাজ্জিও প্রতীজ্ঞা করেন বেঁচে থাকলে ২০ বছর সাবেক স্ত্রীর কবরে ফুল দেবেন তিনি। সেই কথা রেখেছিলেন ডিম্যাজ্জিও!

– বায়োগ্রাফি.কম অবলম্বনে

Related Post

অলিগলি.কমে প্রকাশিত সকল লেখার দায়ভার লেখকের। আমরা লেখকের চিন্তা ও মতাদর্শের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। প্রকাশিত লেখার সঙ্গে মাধ্যমটির সম্পাদকীয় নীতির মিল তাই সব সময় নাও থাকতে পারে।