‘পাপন ভাই’ বরাবর চিঠি

প্রিয় পাপন ভাই,

আপনার কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করে যা বুঝলাম আপনি সোস্যাল মিডিয়ার সমস্ত খোঁজখবর রাখেন, এবং সেই অনুসারে বক্তব্য দিয়ে/মন্তব্য করে আলোচনার কেন্দ্রে থাকতে পছন্দ করেন। আপনার কথা-বার্তা শুনে ব্যক্তিগতভাবে বেশ মজা পাই আমি। কূটনৈতিক দক্ষতা কম থাকায় এবং মতামতের কনসিসটেন্সি পরিবর্তিত হয়ে যাওয়ায় ক্রিকেট ফ্যানেরা আপনাকে নিয়ে তীব্র ট্রল করলেও আমার পর্যবেক্ষণ মতে আপনার মতামতে মেরিট থাকে। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশের জেতা ম্যাচে দোয়া করেন এ জাতীয় কথা বাদে আপনার মন্তব্যগুলোকে সিরিয়াসলি বোঝার আর খোঁজার চেষ্টা করি।

বাংলাদেশ টেস্ট সিরিজে শোচনীয়ভাবে হেরে এসেছে ভারতের কাছে, ক্রিকেট ফ্যানেরা উত্তেজিত, টেস্ট খেলা ছেড়ে দেয়া উচিত মন্তব্য করছে অনেকে। আমি জানি আগামীকাল বিকাল পাঁচটা বাজার আগেই যে যার জীবনে ফিরে যাবে, এবং জানুয়ারিতে পাকিস্তানের বিপক্ষে সিরিজের আগে হয়তোবা কারোরই এ বিষয়ে ভাবনা থাকবে না। তবে যারা সিরিয়াসলি ক্রিকেট পছন্দ করে, তারা ভুলবে না; তাদের জন্য আপনার কোনো বক্তব্য কি আছে? কিছুদিন সংবাদ সম্মেলনে বলেছেন আপনার চাইতে বেশি কথা কেউ বলে না; আজ বলা নয়, শোনা মোডে থাকুন।

আপনি একজন মাননীয় সংসদ সদস্য, ওপেন প্লাটফরমে আপনাকে চিঠি লিখে নিজের কোনো বিপদ ডেকে আনছি কিনা বুঝতে পারছি না। আমি একজন আদ্যন্ত অরাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব, আপনার রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড সম্পর্কে কোনো ধারণাই নেই, কার্যত যেমনই হোক কাগজে-কলমে বিসিবি একটি অরাজনৈতিক প্রতিষ্ঠান, এবং বাংলাদেশের ক্রিকেট সাংবাদিকরা নিজেদের কাটতি বাড়ানোর জন্য ক্রিকেটকে যতোই দেশাত্মবোধের সাথে লিংকড আপ করুক, ক্রিকেটকে একটি এন্টারটেইনমেন্ট ইন্ডাস্ট্রির বাইরে কিছু এ জীবনে কখনোই মনে করিনি।

তাই আমি লিখছি একটি এন্টারটেইনমেন্ট-মিডিয়া প্রধানের কাছে।

যেহেতু আপনার প্রোডাক্ট বা সার্ভিসের আমি একজন ভোক্তা, এবং আমাদের মতো কয়েক লক্ষ মানুষের আগ্রহকে পুঁজি করেই আপনার ইন্ডাস্ট্রি আক্ষরিকভাবে পুঁজির বিকাশ ঘটিয়েছে, তাই ভোক্তা পয়েন্ট অব ভিউ থেকে আপনার সাথে কিছু চিন্তা শেয়ার করতে চাই।

খুব যে স্বপ্রণোদিত হয়ে চিঠি লিখছি তাও না, এই চিঠি আপনার নজরে পড়া না পড়াও একই কথা; কিছু মানুষের মন্তব্য, গুটিকয়েক শেয়ার আর কয়েকশো লাইক ছাড়া এই চিঠির বিশেষ ভবিষ্যতও নেই। আপনাকে না লিখে নিজের প্রতিষ্ঠান হিউম্যান ল্যাব এর সাইকোমেট্রিক টেস্ট ডেভেলপে সময় দিলে পরের মাসের সংসার খরচ যোগানোর পথে এগিয়ে যেতাম ( বিগত দেড় বছরে খুবই আর্থিক দূরাবস্থার মধ্যে আছি বিশ্বাস করুন), এই চিঠি লেখা নিছকই ছেলেমানুষি বুঝতে পেরেও কেন লিখছি তবে?

কলকাতার সাংবাদিক সন্দ্বীপন ব্যানার্জি ফার্স্ট.কমে বাংলাদেশের টেস্ট ক্রিকেটচিত্র নিয়ে একটি নিবন্ধ লিখেছেন, তার ফেসবুক প্রোফাইলে ২টি মন্তব্য লেখার পর উপলব্ধি করলাম এই বিষয়ে আরো অনেক কিছু বলার বাকি রয়ে গেছে। তখনই আপনাকে কাল্পনিক চরিত্র ধরে নিজের চিন্তাগুলো এক জায়গায় জমাকৃত রাখার পরিকল্পনা মাথায় এলো।

১.

তো পাপন পাই, ঘটনা হলো আপনি তো দেশের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠানের এমডি, আপনি খুব ভালোমতোই জানেন প্রতিটি প্রতিষ্ঠানের বার্ষিক গোল থাকে; শুধু রেভিনিউ টার্গেট নয়, এক্টিভিটি মাইলস্টোনও গুরুত্বের সাথে দেখা হয়। ঘরোয়া ক্রিকেট, পাতানো ম্যাচ প্রভৃতি সুপারফিশিয়াল কথা বলে মূল পয়েন্টগুলো হালকা করতে চাই না। আপনার সাথে বিজনেস গ্রোথ আর এক্টিভিটি মাইলস্টোন বিষয়েই কথা বলি।

আপনার বিজনেসের মূল প্রাণ মাঠের খেলা আর খেলোয়াড়; সোজা কথায় জাতীয় দল। আপনি কি আমাকে বলতে পারেন, গত বছর বা তার আগের প্রিমিয়ার লীগে বেশ ভালো খেলা রাজশাহীর মিজানুর রহমান যদি জাতীয় দলে খেলতে চায় সেই প্রক্রিয়াটি কী, এবং মাহমুদুল্লাহ রিয়াদের মতো কেউ মেয়াদোত্তীর্ণ হয়ে গেছে কিনা তা বোঝার উপায় কী?

বলতে পারার কথা নয়, কারণ আপনাকে টেকনোলজিকালি চ্যালেঞ্জড বা কিছুটা অদক্ষ মনে হয়েছে আমার। দল গঠন আর পারফরম্যান্সের ব্যাপারটাকে যদি ডিজিটালাইজড করে ফেলেন, ইআরপি সলিউশন আর অ্যাপস ব্যবহার করেন, পুরো প্রক্রিয়াটা অটোমেটেড তো হবেই, দলের পারফরম্যান্সও অন্তত ৫০% বাড়বে, যেটা আপনার বিজনেস গ্রো করাবে প্রায় ৭৫-৮০%; একবার চিন্তা করে দেখুন, বছরে ১২ টার মধ্যে ৪টা ম্যাচ জিতলেই আমরা যে পরিমাণ খুশি হই সেই জয়ের সংখ্যাটাই যদি ৬ এ উন্নীত হয় স্পন্সর বাড়বে আরো কত বেশি।

তো সেই ডিজিটাইলেশনটা কীভাবে হবে?

আমি বলি কি পাপন ভাই, আপনি একটা বার্ষিক টার্গেটে দল গঠন করুন, এবং সবকিছুকে বার্ষিক ভিত্তিতে বানিয়ে দেন। তাতে সিস্টেম লস কমবে। একটু ব্যাখ্যা করি আপনার বোঝার্থে।

সাদা বলের জন্য ২০ জন, লাল বলের জন্য ২০ জন (এর মধ্যে ৫ জন থাকবে কমন)- মোট ৩৪ জনের একটা পুল গঠন করতে পারেন। এর মধ্যে স্কোয়াড হবে ১৫ জনের, ৩ জন স্ট্যান্ডবাই। বছরজুড়ে ১৫ জনের স্কোয়াডটাই খেলবে, কেউ ইনজুরিতে পড়লে প্লেয়ারের রোল অনুসারে স্ট্যান্ডবাই থেকে সেই রোলের প্লেয়ার স্কোয়াডে ঢুকবে।বছরজুড়ে পয়েন্টিং সিস্টেম থাকবে। প্রতিটি রানের জন্য ১ পয়েন্ট, উইকেটের জন্য ২০ পয়েন্ট ধরে প্রতি বছরের ডিসেম্বরে মোট পয়েন্ট হিসাব করা হবে। ব্যাটসম্যানদের মধ্যে বটম ৩, বোলারদের মধ্যে বটম ২ বাদ পড়ে যাবে। এবং প্রতি বছর পয়েন্টের একটি ন্যূনতম বেঞ্চমার্ক থাকবে। সেই বেঞ্চমার্কের নিচে যতজন থাকবে প্রত্যকেই হয় বাদ পড়বে, অথবা আর্থিক জরিমানা হবে।

সবাই বেঞ্চমার্ক পূরণ করলে কেবলমাত্র বটমলাইনাররাই বাদ পড়বে। সেই ৫ জনের জায়গায় আসবে ১৫ জনের বাইরে থাকা ৫ জন, এবং এইচপি, এ দল, প্রিমিয়ার লীগ মিলিয়ে একই পয়েন্টিং সিস্টেমে যারা উপরে থাকবে সেখান থেকে সাদা বল এবং লাল বলের জন্য মোট ৫ জন ২০ জনের পুলে ঢুকে পড়বে। যে বটম লাইনাররা বাদ পড়ছে তারা আর পরবর্তী বছরের জন্য বিবেচিত হবে না, সেই বছর তারা এ দল, এইচপিতে খেলবে, এবং জাতীয় দলের বাইরের দলগুলোর জন্য থাকবে দুটো বেঞ্চমার্ক ল্যাবেল, একটা ‘সন্তোষজনক’ আরেকটা ‘এক্সেপশনাল’; দ্বিতীয় ল্যাবেলে থাকা ক্রিকেটাররা ওয়াইল্ড কার্ড এন্ট্রির মাধ্যমে ১৫ বা ১৮ জনের পুলে সরাসরি ঢুকে যাবে।

গড় বাঙালির সূত্র হলো তারা যে কোনো সিস্টেমের মিসইউজ করবে। তাই এরকম কিছু করলে শুরুতেই যেটা হবে সবাই নিজের জায়গা বাঁচানোর জন্য খেলবে, টিমের জন্য কেউ ঝুঁকি নিবে না। এই ফাঁকিবাজি আটকানোর জন্য একটি ওয়েট আরোপ করতে হবে যার নাম ‘টিমম্যানশিপ’, জিপিএ ৫ এর স্কেলে প্রতি ম্যাচ শেষেই প্রত্যেক প্লেয়ার গ্রেড পাবে, এবং সেই গ্রেডটা পয়েন্টের সাথে গুণন হবে। ধরা যাক কারো পয়েন্ট ৯০, কিন্তু টিমম্যানশিপে পেল ২ বা ০, অন্যদিকে কারো পয়েন্ট ৫০, কিন্তু টিমম্যানশিপে ৪.৮৮, কার পয়েন্ট বেশি হবে আপনিই বলুন। টিমম্যানশিপে থাকবে মাঠের এফোর্ট, বডি ল্যাঙ্গুয়েজ, ফিটনেস, কো-অপারেশন সহ আরো কিছু পয়েন্ট, কী করলে এ+, কিসে এ, এ মাইনাস, বি প্রভৃতিকে সংজ্ঞায়িত করা হবে। কোচের কাজ হবে শুধু ডেটা ইনপুট দেয়া, বাকিটা সফটওয়্যার হিসাব করে নিবে।

বিসিবির নেটওয়ার্কে থাকা প্রতিটি খেলোয়াড় একটি অ্যাপস ব্যবহার করবে, সেখানে তাদের প্রতি মাসের ফিটনেস, ডায়েট চার্ট, পারফরম্যান্স, স্কিল ট্রেনিং, প্র‍্যাক্টিস প্রভৃতির ডেটা ইনপুট দিবে। আপনি যেভাবে উবার বা পাঠাও কল করেন, একই নিয়মে কিছু প্যারামিটার সেট করে দিলে সেই শর্ত পূরণে সক্ষম খেলোয়াড়দের মাসিক তালিকা দেখতে পাবেন। তাতে মিজানুর কেন জাতীয় দলে নেই তা সে যেমন জানবে, অনুরূপভাবে মাহমুদুল্লাহ এর মেয়াদ ফুরিয়ে গেছে সেটাও জানতে পারবেন। কেমন হয় পাপন ভাই, ব্যাপারটা?

২.

আপনাকে বলিনি এতোদিন পাপন ভাই, আমি মোটামুটি নিশ্চিত আপনি টেস্ট খেলাটা ঠিকমতো বোঝেন না। ফলোঅন কী, আম্পায়ারস কল হলে রিভিউ থাকে নাকি নষ্ট হয় সেসব প্রশ্ন করলে গুগলিং না করে আপনার পক্ষে উত্তর দেয়া কঠিন হতে পারে। আপনি একজন প্রশাসক, এককালে ছিলেন সংগঠক, প্রফেশনাল ক্রিকেট কখনোই খেলেননি, তাই এইসব নিয়ম-কানুন জানাটা অস্বাভাবিকই। জানাটা জরুরীও নয়। তবু খালিচোখে এটা তো বোঝেন ওয়ানডের তুলনায় টেস্টে পরিশ্রম প্রায় ৪-৫ গুণ। অবশ্য ভালো প্রতিপক্ষের বিপক্ষে বাংলাদেশ টেস্টে ৩ দিনের বেশি সচরাচর টেকে না বলে মনে হতেই পারে ওয়ানডে মানে ১দিন, টেস্ট মানে ৩-৪ দিন, তাও ব্যাটিংয়ের চাইতে ফিল্ডিং বেশি সময় ধরে। আপনি এক সিজন এশেজ দেখতে পারেন খুব ভালোমতো, আপনার জন্য উপকার হবে।

এতো কথা বলার কারণ কয়েকদিন আগে অনলাইনে বাংলাদেশের খেলোয়াড়দের ম্যাচ ফি স্ট্রাকচার দেখলাম। সত্যি-মিথ্যা জানি না, সেখানে যা পেয়েছি সে সূত্রে প্রতিটি টেস্টের ম্যাচ ফি ৩.৫ লাখ, সেখানে ওয়ানডে আর টি-২০ তে যথাক্রমে ২.৫ লাখ আর ১.২০ লাখ; আপনিই বলেন এটা কোনো সিস্টেম হলো! হয় ওয়ানডে আর টি-টোয়েন্টিকে আপনি অতিমূল্যায়িত করেছেন, অথবা টেস্টকে মূল্যই দেননি। ওয়ানডে আর টি-টোয়েন্টিকে অতিমূল্যায়িত বলা যাচ্ছে না, বাজারদর অনুসারে কমই বলা যায়, তবু এটাকে স্ট্যান্ডার্ড ধরলে টেস্টের ম্যাচ ফি হওয়া উচিত কমপক্ষে ৮ লাখ টাকা। এই যে প্লেয়ারদের টেস্টে নামমাত্র পারিশ্রমিক দেন, তাদের পারফরম্যান্সের জবাবদিহিতা নেই কি একারণেই?

আমি জানি টেস্ট খেলতে না হলে খেলোয়াড়দের চাইতেও বেশি খুশি হবেন আপনি। পাঁচ দিন ধরে খেলা দেখা যায় নাকি, হয়তোবা এটাই আপনার যুক্তি। টেস্ট খেলেন নিতান্তই আইসিসির আমলাতান্ত্রিক জটিলতায়। টেস্ট না খেললে আইসিসির অনুদান কমে যাবে, রেভিনিউ পারসেন্টেজ কমে যাবে, নেদারল্যান্ড আর বাংলাদেশের মধ্যে কোনোই তফাত থাকবে না। আপনি কি এখনো বোঝেননি অস্ট্রেলিয়া আর ভারত যতদিন পর্যন্ত টেস্ট থেকে মুখ ফিরিয়ে না নিচ্ছে, টেস্টই প্রধান সংস্করণ থাকবে?

টেস্ট খেলা বন্ধ রাখা তো কোনো সমাধান নয়, এতে আরো একঘরে হয়ে পড়তে হবে। আপনার চুক্তিভুক্ত ক্রিকেটারদের যে পেমেন্ট স্ল্যাব সেখানেই তো হাস্যকর গোঁজামিল; মাশরাফি খেলে মাত্র এক ফরম্যাটে সে সর্বোচ্চ পেমেন্ট কেন পাবে? অন্যদিকে সাকিব, মুশফিক খেলে সব ফরম্যাটে, তাদের পেমেন্ট কেন মাশরাফির সমান হবে? এমনকি মমিনুলের পেমেন্ট কেন রুবেল, বা মুস্তাফিজ-মাশরাফির চাইতে কম হবে? আপনি যে বলেন খেলোয়াড়রা টেস্ট খেলতে চায় না, এরকম বৈষম্য করলে চাবে কেন আমাকে বলুন।

আপনার চুক্তির ধারাতেই সমস্যা। যারা প্রতিটি ফরম্যাটে খেলে তাদের বেতন হবে সর্বোচ্চ, এরপরের টায়ারে থাকবে টেস্ট স্পেশালিস্টরা, ৩য় টায়ারে সাদা বলের ক্রিকেটাররা। স্টুপিড মিডিয়া পঞ্চপান্ডব নামে এক বিষাক্ত টার্ম আপনার মাথায় ঢুকিয়ে দিয়েছে। আপনি সেই পাণ্ডবদের পাণ্ডা বানিয়ে সর্বত্র প্রদর্শন করে বেড়াচ্ছেন। এতে যে বাকি খেলোয়াড়রা ডিমোরালাইজড হয়ে পড়েছে বোঝেন না? আপনার এমবিএ না করে এমপ্যাথি কোর্স করা উচিত ছিল। তাহলে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে মাহমুদ উল্লাহ রিয়াদের মতো মেয়াদ ফুরানো আর তামিমের মতো রিফ্লেক্স হারানো দুই ক্রিকেটারকে দলে দেখতে হতো না।

সেই অ্যাপসটা ব্যবহার করলে আপনা থেকেই নোটিফিকেশন পেতেন। অবশ্য সেক্ষেত্রে মিডিয়ার সামনে আপনি অমুক খেলোয়াড় চলে না, তমুক খেলোয়াড় হতাশ করেছে বলে যে হম্বিতম্বি করেন, সেগুলো করাটা কঠিন হয়ে পড়বে। আপনি ভাই মানুষটা খুবই ইন্টারেস্টিং, কিন্তু চিন্তায় আর আচরণে সামন্ততান্ত্রিক। সর্বসময় এই সামন্তবাদী মনোভাবই আপনার প্রোডাক্টিভিটি এবং এচিভমেন্টকে ক্ষতিগ্রস্ত করছে এটা বুঝেও এড়িয়ে যেতে চান; তাতে কি ছেঁড়া- ফাঁটা লুকিয়ে রাখা যায় মিয়া ভাই!

চুক্তিও হবে বছরভিত্তিক। বছর শেষে কেউ নতুন চুক্তিতে যুক্ত হবে, কেউবা বাদ পড়বে, আর যারা থেকে যাবে তাদের স্যালারি ইনক্রিমেন্ট হবে পারফরম্যান্স অনুসারে৷ আপনি যেরকম সিনিয়রিটির ট্যাবলেট খাওয়াচ্ছেন তাতে মনে হয় নতুন আসা কেউ ৪ মারলে সেটা ২ রান আর আপনার তথাকথিত সিনিয়ররা ২ রান নিলে সেটা বোর্ডে ৪ রান হিসেবে যুক্ত হবে। সিনিয়র-জুনিয়র না পেলে-পুষে ‘পারফরমার’ কে যতদিন পর্যন্ত মূল্যায়নের একমাত্র প্যারামিটার হিসেবে সেট না করবেন প্রতি সিরিজশেষে ফাঁপড়বাজিই একমাত্র করণীয় হয়ে থাকবে। তাতে কিন্তু ৫ বছরের মধ্যেই আপনার বিজনেসে বড়সড় ধ্বস নামবে। ততদিন পর্যন্ত দায়িত্বে থাকবেন কিনা ভাবেন না নাকি শেয়ারবাজারের মতো ক্রিকেটবাজারেও মেকানিজম করা সম্ভব সেই নীতি বিশ্বাস করতে শুরু করেছেন?

আমার দুই চিন্তার সারবস্তু হলো একটি ইকোসিস্টেম গড়ে তোলা, যা আপনি ৭ বছরে পারেননি, আগামী ৭ বছরেও পারার কোনো চেষ্টা লক্ষণীয় নয়। আপনি মাছ চাষ করবেন, বিরাট দীঘি খনন করতে চাইলেন, দেশী-বিদেশী মাছের পোনা আনলেন, প্রশিক্ষিত পাহারাদার নিয়োগ দিলেন, আরো যা যা লাগে সবই আনলেন; কিন্তু দীঘিতে পানি আছে কিনা সেটাই খেয়াল করেননি। এবার পারলে মাছ চাষ করে দেখান!

আজকের মতো এখানেই শেষ করি। অনেক কিছু বললে কোনোকিছুই চোখে পড়ে না, সবই ভাসা ভাসা থাকে। তাই আপনার চিঠিতে মাত্র দুটো চিন্তা শেয়ার করলাম। আপনার পড়তে বয়েই গেছে!

তবু লিখলাম, কারণ লেখা ছাড়া আর কোনোকিছুতেই তেমন দক্ষতা অর্জন করা হয়ে উঠেনি। হাউ ইজ দ্যাট!

বিনীত

– মাহফুজ সিদ্দিকী হিমালয়

Explorer, হিউম্যানল্যাব৭৭৭ৎ

himalay777@gmail.com

Related Post

অলিগলি.কমে প্রকাশিত সকল লেখার দায়ভার লেখকের। আমরা লেখকের চিন্তা ও মতাদর্শের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। প্রকাশিত লেখার সঙ্গে মাধ্যমটির সম্পাদকীয় নীতির মিল তাই সব সময় নাও থাকতে পারে।