আসুন, মাশরাফির ক্যাপ্টেন্সির সমালোচনা করি!

– আরে! টস জিতা ব্যাটিং নিলো ক্যান! মাশরাফি বেশি বুঝে!

– আজকে খালি হারুক, কি যে করুম!

– মাশরাফি এখন ক্যাপ্টেন্সিটাও ভুইলা গেসে!

– ব্যাটিংয়ে লিটনরে নিলো, তারপরেও টস জিতা বোলিং ক্যান?

– এই টিম ম্যানেজমেন্টের ডিসিশনের কোনো আগামাথা বুঝি না!

চায়ের দোকান থেকে ফেসবুক – ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে ম্যাচের আগে এমন অনেক সমালোচনা নিশ্চয়ই সবার চোখে পড়েছে। বাংলাদেশ যখন আট ওভার তিন বল বাকি থাকতেই ৩২২ রান তাড়া করে জিতে গেল তখন কি সিদ্ধান্তটাকে ভুল কিছু মনে হচ্ছে?

টন্টনের স্টেডিয়ামটা ইংল্যান্ডের সবচেয়ে ছোট মাঠ। ক্রিজ থেকে বাউন্ডারির দূরত্ব কম। তার ওপর বোলারদের জন্য উইকেট থেকে প্রাপ্তিও ছিল সামান্য। এখানে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে আগে ব্যাট করলে ঠিক কত রান নিরাপদ হত? বাংলাদেশ পরে ব্যাট করে বুঝিয়ে দিয়েছে, কোনো রানই আসলে এখানে নিরাপদ নয়।

ক্যারিবিয়ানরা আট জন পাওয়ার হিটার নিয়ে খেলেখে। সবাই কম বেশি ফ্র্যাঞ্চাইজি ক্রিকেটের হট কেক। তাদের সামনে তো কোনো টার্গেটই নিরাপদ না। এর চেয়ে কি রান তাড়া করাই ভাল না?

সবচেয়ে বড় ব্যাপার হল বাংলাদেশ ব্যাটিং নির্ভর দল। আমাদের ব্যাটসম্যানদের তাই সঠিক সময়ে ব্যবহার করতে পারাটা জরুরী। ব্যাটিং কন্ডিশনের ছোট মাঠে তাই টার্গেট মাথায় রেখে ব্যাটিং করাটাই তাই সঠিক সিদ্ধান্ত। ওয়েস্ট ইন্ডিজের অধিনায়ক জেসন হোল্ডারও তো টস হেরে বললেন, জিতলে তিনিও বোলিংই নিতেন!

বাংলাদেশের বোলারদের অবশ্যই কৃতিত্ব দিতে হবে। কারণ, তারাই তো রানটাকে ৩২১-এর মধ্যে আটকে রেখেছিলেন। ক্রিস গেইল ও আন্দ্রে রাসেল ছক্কার পর ছক্কা হাঁকাবেন— এমন একটা আশঙ্কা ছিল; কিন্তু তা হয়নি। বরং এই দুই ব্যাটসম্যান মিলে ১৫ বল মোকাবেলা করে রানের খাতা খোলার আগেই সাজঘরে ফিরেছেন। শেষ পাঁচ ওভারে রান এসেছে মাত্র ৩৩!

অতিরিক্ত খাত থেকেই এসেছে ২২ রান। ওয়াইড হয়েছে ১৬ টি। তবে, এটাও যোগ করা উচিৎ যে, ফিল্ডাররা দারুণ দক্ষতা দেখিয়ে কমপক্ষে ২৫-৩০টা রান বাঁচিয়েছেন। উইকেটগুলোর অধিকাংশই সেই চাপে পড়েছে। বোলারদের ঠিকমত ব্যবহার করা, ফিল্ডিং সাজানো – এই সবগুলো ব্যাপার কিন্তু মাশরাফিই করেছিলেন!

মূল ব্যাপার হল, বাংলাদেশ দল আগে বোলিং করে টার্গেট নিয়ে ব্যাট করতে আত্মবিশ্বাসী ছিল যে কোনো খেলাতে এই আত্মবিশ্বাসটাই সবচেয়ে বেশি জরুরী। দলের এই আত্মবিশ্বাসের ওপর ভরসা রেখেছিলেন মাশরাফি। আপনারাও রাখুন। মাশরাফিদের আত্মবিশ্বাসকে অসম্মান করা কোনো কাজের কথা নয়!

__________

মাশরাফির যতই সমালোচনা করুন না কেন, ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষেই কিন্তু মাশরাফি বাংলাদেশি অধিনায়ক হিসেবে নিজেকে আরেক ধাপ ওপরে নিয়ে গেছেন। বিশ্বকাপে বাংলাদেশের হয়ে সবচেয়ে বেশি ম্যাচ অধিনায়কত্ব করার কৃতিত্ব এখন তাঁর দখলে। বিশ্বকাপে সবচেয়ে বেশি জয়ও এসেছে তাঁরই নেতৃত্বে।

মাশরাফি এখন পর্যন্ত নয়টি ম্যাচে বাংলাদেশকে নেতৃত্ব দিয়েছেন। ২০১৫ বিশ্বকাপে প্রথম বাংলাদেশকে নেতৃত্ব দেন মাশরাফি। গেলবার পাঁচটিটি আর এবার এখন পর্যন্ত চারটি ম্যাচে বাংলাদেশকে নেতৃত্ব দিয়েছেন তিনি। অন্যদিকে, ২০০৭ সালের বিশ্বকাপে বাংলাদেশকে সমান নয়টি ম্যাচে নেতৃত্ব দিয়েছিলেন হাবিবুল বাশার সুমন। এখন নির্বাচক বনে যাওয়া বাশারকে এই বিশ্বকাপেই ছাড়িয়ে যাবেন মাশরাফি।

বিশ্বকাপে অধিনায়ক হিসেবে মাশরাফি জিতেছেন চারটি ম্যাচ। অন্যদিকে তিনটি করে ম্যাচ জিতেছেন বাশার ও সাকিব আল হাসান। আর আমিনুল ইসলাম বুলবুল জিতেছেন দু’টি ম্যাচ।

 

Related Post

অলিগলি.কমে প্রকাশিত সকল লেখার দায়ভার লেখকের। আমরা লেখকের চিন্তা ও মতাদর্শের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। প্রকাশিত লেখার সঙ্গে মাধ্যমটির সম্পাদকীয় নীতির মিল তাই সব সময় নাও থাকতে পারে।