অতিমানবীয় দেবদাস ও ১৪ টি অজানা অধ্যায়

পাঁচটি জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার, ১০ টা ফিল্মফেয়ার – এত পুরস্কার দিয়েও আসলে ‘দেবদাস’ নামক ছবিটির তাৎপর্য ব্যাখ্যা করা যাবে না। এটা বলিউডের ইতিহাসে সাফল্যের চেয়েও বেশি পেয়েছে সার্বজনীন ও সর্বকালের অন্যতম সেরা ক্লাসিক ছবির সম্মান। ২০০২ সালের ছবিটিতে কাজ করা শাহরুখ খান, ঐশ্বরিয়া রায়, মাধুরী দিক্ষিত কিংবা জ্যাকি শ্রফ – সবার ক্যারিয়ারেই অন্যতম একটা মাইলফলক হয়ে হয়ে রয়েছে ‘দেবদাস’। সেই ভূবন কাঁপানো ছবিরই ১৪ টি অজানা অধ্যায় নিয়ে আমাদের এবারের আয়োজন।

১.

শুট্যিং চলাকালে দুর্ঘটনার কবলে পড়ে আহত হন অভিনেত্রী  ঐশ্বরিয়া রায়। ব্যাপার হল ‘ডোলারে ডোলা’ গানে তাঁকে এত ভারি কানের দুল পরতে হয়েছিল যে এক পর্যায়ে কান দিয়ে রক্ত বের হওয়া শুরু হয়। তবে, সেই অবস্থাতেও শ্যুটিং চালিয়ে যান অ্যাশ। গানের চিত্রায়ন শেষ হলে বোঝা যায় যে তিনি আহত হয়েছে।

২.

দেবদাসই বলিউডের প্রথম সিনেমা ছিলো যেটা ফ্রান্সের বিখ্যাত কান চলচ্চিত্র উৎসবের জন্য আমন্ত্রণ পেয়েছিলো। আর ছবিটির নাম শুরুতে ছিল ‘আজ কে দেবদাস’। কারণ কে চোপড়া নামক এক প্রযোজকের কাছে ‘দেবদাস’ নামের কপিরাইট কিনে রেখেছিলেন। শেষ অবধি চড়া দামে

৩.

‘কাহে ছেড় মোহে’ গানে মাধুরী দিক্ষিত যে লেহেঙ্গা পরেছিলেন তার ওজন ছিলো ৩০ কেজি । ফলে, কোরিওগ্রাফি মেনে মাধুরীকে পারফরম করতে সমস্যা হচ্ছিলো। কিন্তু শেষ অবধি তিনি এটা শেষ করেন দারুণ ভাবে। লেহেঙ্গাটির দাম ছিল ১৫ লাখ ভারতীয় রুপি।

৪.

দেবদাসের চরিত্রের জন্য নির্মাতা সঞ্জয় লীলা বনসালির পছন্দ ছিলেন সালমান খান। তবে, সালমান প্রস্তাব ফিরিয়ে দেন। চরিত্রটি চলে আসে শাহরুখ খানের হাতে।

৫.

‘ডোলারে ডোলা’ গানটির লিরিক্সের জন্য সঞ্জয় লীলা বনসালি সপ্তাহখানেক  সময় নিয়েছিলেন। তার মতে, বলিউডের দুই বড় তারকাকে এক করার গানটা একদম নিখুঁত হওয়া দরকার ছিল।

৬.

জ্যাকি শ্রফের চরিত্রটি ছিল ‘চুন্নি লাল’-এর। এর জন্য গোবিন্দ  এবং সাইফ আলী খানকে। দু’জনই প্রস্তাব ফিরিয়ে দিলে মনোজ বাজপেয়িকে ভাবা হয়েছিল। তবে, মনোজ ওই সময়ে কেন্দ্রীয় চরিত্র ছাড়া সিনেমা করবেন না বলে সাফ জানিয়ে দেন। তখনই দৃশ্যপটে আসেন জ্যাকি শ্রফ।

৭.

একটা সামাজিক অনুষ্ঠানে পারুর মা সুমিত্রার নাচের দৃশ্যটি সঞ্জয় লীলা বনসালির নিজের জীবন থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে বানিয়েছিলেন। একইরকম ঘটনা নাকি সঞ্জয়ের মায়ের সাথেও ঘটেছিল।

৮.

সিনেমাটি বলিউডের ইতিহাসেরই অন্যতম ব্যয়বহুল ছবি। সিনেমাটির ছয়টি ভিন্ন ভিন্ন সেট নির্মানে খরচ হয় ২০ কোটি রুপি। প্রোডাকশন প্রায় ৪২ টি জেনারেটর ব্যবহার করেভ ফিল্মে ২,৫০০ লাইট, ৭০০ লাইটম্যান এবং অসংখ্য জুনিয়র আর্টিস্টদের ব্যবহার করা হয়েছে। বিদ্যুৎ ব্যয় হয়েছে ৩০ লাখ ওয়াট! খরচের এখানেই শেষ নয়, কেবল চন্দ্রমুখীর মানে মাধুরীর কোঠাটি নির্মান করতেই নাকি ১২ কোটি রুপি খরচ হয়।

৯.

পার্বতীর চরিত্রে কারিনা কাপুরকেও পছন্দ ছিল সঞ্জয়ের। কারিনার স্ক্রিন টেস্টও নেওয়া হয়েছিল। তবে, সেই পরীক্ষায় পাশ করেননি বেবো। পরে সঞ্জয় এক সাক্ষাৎকারে বলেছিলেন যে সেবার কারিনার কাজ তাঁর পছন্দ হয়নি।

১০.

শাহরুখ খান মনে করেন দেবদাস তার ক্যারিয়ারের খুব স্পেশাল একটা প্রোজেক্ট। একবার তিনি বলেছিলেন, ‘অন্তর থেকে আমি একজন দেবদাস!’ অ্যাশও বরাবরই বলেন তাঁর নিজের অভিনীত সবচেয়ে প্রিয় সিনেমা হল দেবদাস।

১১.

দেবদাসের গান সবারই হৃদয় ছুঁয়ে যায়। ইসমাইল দরবার এবং সঞ্জয় লীলা বনসালী মিউজিক কম্পোজ করার জন্য প্রায়  আড়াই  বছর ধরে অক্লান্ত পরিশ্রম করেন। গানের রেকর্ডিংয়ে অবশ্য সময় লাগে মাত্র ১০ দিন।

১২.

মাতাল হওয়ার দৃশ্যগুলোতে শাহরুখ খান আক্ষরিক অর্থেই মদ খেয়ে অভিনয় করেছিলেন!

 

১৩.

পোশাক নির্মাতা নিতা লিল্লা ‘মার ডালা’ গানের জন্য একটা সবুজ আনারকালী ডিজাইন করেন যার ওজন ছিল ১৫ কেজি!

১৪.

চন্দ্রমুখীর জন্য নির্মিত সেটটি একটি হৃদের পাশে তৈরি করা হয়েছিল। কিন্তু, বিপদ হল হৃদটি শুকিয়ে যেতো এবং প্রতিনিয়ত গ্যালন-গ্যালন পানি দিয়ে সেটা আবার পরিপূর্ণ করা হতো।

Related Post

অলিগলি.কমে প্রকাশিত সকল লেখার দায়ভার লেখকের। আমরা লেখকের চিন্তা ও মতাদর্শের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। প্রকাশিত লেখার সঙ্গে মাধ্যমটির সম্পাদকীয় নীতির মিল তাই সব সময় নাও থাকতে পারে।