মুঘল-ই-আজম: সেদিন পাল্টে যায় হিন্দি সিনেমার ইতিহাস

পাঁচ আগস্ট, ১৯৬০। হিন্দি সিনেমার ইতিহাসে আইকনিক একটি সিনেমা মুক্তি পায়। সেই সময়ে দাড়িয়ে এই সিনেমা নির্মান করাটা কোনো যুদ্ধের চেয়ে কম ছিলোনা। তবে পরিচালকের প্রবল ইচ্ছাশক্তি এই যুদ্ধ জয় করতে সক্ষম হয়েছিলো। শুধু যুদ্ধ জয় করাই না মুক্তির পর ৬০ বছর পেরিয়ে গেলেও এই সিনেমার আবেদন কমেনি এতোটুকু। কালজয়ী এই সিনেমার নাম ‘মুঘল-ই-আজম’। হিন্দি সিনেমার ১০০ বছরের ইতিহাসে সবচেয়ে জনপ্রিয় আর নান্দনিক সিনেমা হিসেবে স্বর্নাক্ষরে লেখা ‘মুঘল-ই-আজম’-এর নাম।

১৯২২ সালে মুঘল বাদশাহ আকবরের ছেলে শাহজাদা সেলিম এবং বাদশাহর রাজসভার নাচনেওয়ালী আনারকলির প্রেমের কিংবদন্তিকে ঘিরে নাট্যকার ইমতিয়াজ আলি একটি মঞ্চ নাটক লেখেন। ‘সেলিম ও আনারকলি’ নামের এই নাটকটি সেই সময় মঞ্চে বেশ জনপ্রিয়তা পায়। জনপ্রিয় মঞ্চ নাটকটি ভিত্তি করে ওইসময়ের নামী নির্মাতা আরদাশির ইরানি ‘আনারকলি’ নামে একটি সিনেমা তৈরি করেন ১৯২৮ সালে। তখন নির্বাক সিনেমার যুগ, তবুও অখন্ডিত ভারতবর্ষে বেশ ভালো জনপ্রিয় হয়েছিলো সিনেমাটি। এরই ধারাবাহিকতায় ১৯৩৫ সালে সিনেমাটি আবার মুক্তি দেয়া হয়। তবে এবার সবাক মানে শব্দসংযোজনসহ মুক্তি দেয়া হয়। এবার আরো বেশি দর্শকপ্রিয়তা লাভ করে সিনেমাটি।

মুঘল শাহজাদা আর রাজসভার নর্তকীর প্রেমকাহিনীর সফলতা দেখে প্রযোজক শিরাজ আলি এবং তরুণ পরিচালক কে. আসিফ সেলিম-আনারকলির এই প্রেম কাহিনী নিয়ে বিশাল ক্যানভাসের বড় বাজেটের একটি সিনেমা বানানোর প্রস্তুতি নেন। কাহিনী একই রেখে সিনেমার জন্য তৎকালীন জনপ্রিয় এবং দক্ষ চার তরুণের হাতে চিত্রনাট্য এবং সংলাপ লেখার দায়িত্ব দেয়া হয়। সেই চারজন হলেন, কামাল আমরোহি, আমানুল্লাহ খান, এহসান রিজভী এবং ওয়াজাহাত মির্জা।

কে. আসিফের তত্ত্বাবধানে এই চারজন তৈরী করেন সিনেমার চিত্রনাট্য এবং সংলাপ। শিল্পী তালিকাও চূড়ান্ত করে ফেলেন পরিচালক কে.আসিফ। মূল তিন চরিত্র আকবর, সেলিম এবং আনারকলি চরিত্রে চন্দ্রমোহন, ডি.কে.সাপ্রু ও নার্গিসকে চুক্তিবদ্ধ করা হয়। সিনেমার নাম রাখা হয় ‘মুঘল-ই-আজম’। ১৯৪৬ সালে খ্যাতনামা বোম্বে টকিজ স্টুডিওতে সিনেমার কাজ শুরু হয়ে যায়।

কিন্তু, এরই মধ্যে বদলে যায় ভারতীয় উপমহাদেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি। সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা, ইংরেজের বিরুদ্ধে ‘ভারত ছাড়’ আন্দোলনে বিক্ষুব্ধ হয়ে ওঠে ভারতবর্ষ। ১৯৪৭ সালে দেশ বিভাগের ফলে পরিস্থিতি আরো ঘোলাটে হয়ে যায়। প্রযোজক শিরাজ আলি চলে যান পাকিস্তানে। সিনেমার কাজ বন্ধ হয়ে যায় তখন। ১৯৪৯ সালে অভিনেতা চন্দ্রমোহন আকস্মিক হৃদরোগে মারা যান। তাই সেইসময় অনিশ্চয়তার ঘূর্ণিঝড়ে একপ্রকার বাক্সবন্দি হতে যাচ্ছিলো এই সিনেমা। তবে পরিচালক কে,আসিফ ছিলেন নাছোড়বান্দা। তার স্বপ্ন এবং একমাত্র ধ্যান ছিলো এই সিনেমা। সেই স্বপ্নকে সত্যি করার লড়াই চালিয়ে যান তিনি।

মুঘল সাম্রাজ্যের ঝাকঝমক, পুত্রের আশায় সম্রাট আকবর এবং তার পত্নী যোধা বাঈয়ের আকুতি, অনেক পরীক্ষা আর ত্যাগের পর পুত্রের জন্ম, অল্পবয়সে বিপথে যাওয়া যুবরাজকে নিজেদের থেকে দুরে রেখে যুদ্ধকৌশল শেখানে, রাজ্য পরিচালনার জন্য নীতিশাস্ত্র জ্ঞান দান আবার একটা বয়সে পুত্রকে রাজপ্রাসাদে ফিরিয়ে আনা, রাজ দরবারের নৃত্যশিল্পী আনারকলির সঙ্গে শাহজাদার প্রেম, সেই প্রেমের বিয়েতে রাজি না হওয়া মুঘল বাদশা এবং মহারানী।

এই প্রেমের পরিনতি জেনেও শাহজাদা আর আনারকলির সম্পর্কের টানাপোড়েন, এই নিয়ে পিতা-পুত্র সংঘাত এবং এক পর্যায়ে বিদ্রোহী পুত্রের সঙ্গে যুদ্ধ, এক পর্যায়ে দুনিয়ার সামনে আনারকলিকে জ্যান্ত ইটচাপা দেয়ার আয়োজন করেও মহানুভব সম্রাটের তাকে বাচিয়ে দুরে পাঠিয়ে দেয়া সব মিলিয়ে ‘মুঘল-ই-আজম’ যেনো সিনেমা নয় এক রূপকথা। আর এই রূপকথাকেই সিনেমার রুপালী পর্দায় হাজির করার জেদ সফল করেন কে. আসিফ।

জল্পনা কল্পনার পরে অবশেষে পঞ্চাশের দশকের শুরুতে আবার শুরু হয় ‘মুঘল-ই-আজম’ এর কাজ। এবার প্রযোজক হন ধনী ব্যবসায়ী শাপুরজি পাল্লোনজি। জানা যায় এই পার্সি ব্যবসায়ী ভদ্রলোক চলচ্চিত্র জগতের সঙ্গে একেবারেই যুক্ত ছিলেন না। শুধু বাদশাহ আকবর ও তার ছেলে শাহজাদা সেলিম বা জাহাঙ্গীরের ব্যাপারে আগ্রহের কারণে তিনি এতে বিপুল পরিমাণ অর্থ ব্যয় করতে রাজি হন।

এবার নতুনভাবে অভিনয়শিল্পী চূড়ান্ত করা হয়। আকবর, সেলিম ও আনারকলির ভূমিকায় এবার চূড়ান্ত হন পৃথ্বীরাজ কাপুর, দিলীপ কুমার ও মধুবালা। ১৯৫৩ সালে শুরু হয় সিনেমার কাজ। বিশাল বাজেটের এই সিনেমার নির্মানকাল বেশ বড় একটা সময় নিয়ে নেয়। কারণ, তখন এই সময়ের মতো প্রযুক্তি বা টেকনোলজি ছিলো না। তাই সময় নিয়ে ধীরে ধীরে কাজ সম্পন্ন হয় এই সিনেমাটির।

সিনেমাটি নির্মাণে বিশাল অর্থব্যয় নিয়ে প্রযোজক ও পরিচালকের মধ্যে বেশ দ্বন্দ্ব চলে। আর্থিক সংকটে সিনেমার কাজ বন্ধ হওয়ার উপক্রম হয় বেশ কয়েকবার। পাশাপাশি মানসিক দ্বন্দ্বও চলছিল কলাকুশলীদের মধ্যে। দীলিপ কুমার ও মধুবালার সম্পর্কের টানাপোড়নে ভুগতে হয়েছিলো এই সিনেমাটিকেও। কারণ, সিনেমার শ্যুটিং যখন শুরু হয় তখন দীলিপ কুমার এবং মধুবালার সম্পর্ক ছিল।

তবে, সিনেমার নির্মান যখন শেষ পর্যায়ে, তখন তাঁদের বিচ্ছেদ হয়। তাই, বাস্তব জীবনের এই সম্পর্কের প্রভাব পড়ে পর্দায়। তবে তারা দু’জনেই ছিলেন পেশাদার, তাই ব্যক্তিগত বিষয় একপাশে সরিয়ে রেখে সিনেমার চরিত্রে নিজেদের পুরোপুরি সপে দেন।

‘মুঘল-ই-আজম’ সিনেমার সেট নির্মাণ করা হয়েছিল মুঘল দরবারের আদলে। সেই সময় প্রপস তৈরির জন্য সারা ভারত থেকে সেরা কারুশিল্পীদের আনা হয়েছিলো। অভিনয় শিল্পীদের জন্য ব্যয়বহুল জারদৌসী কাজ করা পোশাকে সত্যিকারের সোনা ও রূপার জরি ব্যবহার করা হয়। এমনকি প্রতিটি নারী এবং পুরুষ শিল্পীদের ব্যবহৃত অলংকারগুলোও ছিল সত্যিকারের সোনার তৈরি। সেগুলো তৈরি করেছিলেন হায়দ্রাবাদের স্বর্ণকাররা।

রাজস্থানের কর্মকাররা লোহার বর্ম ও অস্ত্রশস্ত্র তৈরি করেন। মহারানি যোধা বাঈয়ের পূজার দৃশ্যে সত্যিকারের সোনার তৈরি কৃষ্ণমূর্তি ব্যবহার করা হয়। যুদ্ধের দৃশ্যের জন্য ব্যবহার করা হয় ২০০০ উট, ৪০০ ঘোড়া ও ৮০০০ সৈন্য। এক একটি সেট এতোই বিশাল আর বিগ বাজেটের ছিলো যে, যারা দেখতো তারাই অবাক হয়ে যেতো। এমনকি বিবিসি এই সিনেমার বিশাল বাজেট আর জমকালো সেটের কথা শুনে ভারতে এসে এই সিনেমা নিয়ে একটি ডকুমেন্টারি তৈরী করেছিলো। দেশি-বিদেশি সাংবাদিকদের কাছে সেই সময় ‘মুঘম-ই- আজম’ স্বকীয়তার অন্য নাম ছিলো।

‘মুঘল-ই- আজম’এর সংলাপ ছিল এককথায় অনবদ্য। নওশাদ এক সাক্ষাৎকারে বলেছিলেন, ‘সংলাপ বললে ভুল হবে, এ যেন কাব্যের সুষমা মাখানো গ্রন্থ।’

আকবরের মুখে, ‘হাম আপনে বেটে কি ধাড়কাতে হুয়ে দিলকে লিয়ে হিন্দুস্তানকি তাকদীর নেহি বাদাল সাকতে।’ অথবা রানী যোধাবাঈয়ের ডায়লগ ‘হামারা হিন্দুস্তান কোয়ি তুমহারে দিল নাহি, কে নাচনেওয়লী উসকা মালিকা বানে।’

উত্তরে দীলিপ কুমারের সংলাপ, ‘তো হামারি দিল ভি কোই আপকা হিন্দুস্থান নাহি, যো উসমে আপকি হুকুমাত চালে।’ এরকম অসংখ্য সংলাপ এখনো আমাদের নাড়া দিয়ে যায়।

সিনেমার সঙ্গীত পরিচালনা করেছিলেন প্রখ্যাত সুরকার নওশাদ। অন্য সবার মতো তার নিজের মতেও তার জীবনের সেরা কাজ ছিল ‘মুঘল-ই-আজম’। গীতিকার ছিলেন শাকিল বাদ্যায়ানি। সিনেমার ১২টি গানে কণ্ঠ দেন শামসাদ বেগম, লতা মুঙ্গেশকর, মোহাম্মদ রফি, ওস্তাদ বড় গোলাম আলী ও শাস্ত্রীয় ধারার অন্যান্য শিল্পী। ‘আয়ে মোহাব্বত জিন্দাবাদ’ গানে কোরাসে প্রায় শতাধিক শিল্পী অংশ নেন। গানে ভারতীয় শাস্ত্রীয় সংগীত ও লোকসংগীতের সুর ব্যবহার করা হয়।

মজার ব্যাপার হলো ওস্তাদ বড় গোলাম আলী সিনেমার জন্য কাজ করতেন না। তবে কে,আসিফ দুটি গানের জন্য তাকেই নিবেন বলে জেদ করে ছিলেন। ওই সময় লতা মুঙ্গেশকর বা মোহাম্মদ রফি একটি গানের জন্য ৫০০ রুপি নিতেন সেখানে ওস্তাদ বড় গোলাম আলী একটি গানের জন্য ২৫ হাজার রুপী পারিশ্রমিক পেয়েছিলেন।

এমনকি অল টাইম ক্লাসিক ‘প্যায়ার কিয়া তো ডারনা ক্যায়া’ গানটি আয়না মহলে চিত্রায়িত হবে তাই গানের শিল্পী লতা মঙ্গেশকরের কন্ঠ দৃশ্যায়নের সাথে খাপ খাওয়ানোর জন্য বাথরুমে বসে গানে কন্ঠ দিতে হয়। সিনেমার প্রতিটি গানই এখনো সমান জনপ্রিয়। যেমন- মোহে পাংঘাট পে নন্দ লাল, তেরে মেহফিল মে কিসমত, ইয়ে দিল কি লাগি গাম, জিন্দাবাদ, মোহাব্বাত কে ঝুটে সহ অন্য সকল গান আজো মন জয় করে সকলের। আর ‘প্যায়ার কিয়া তো ডারনা ক্যায়া’ ক্ল্যাসিক হিসেবে সমাদৃত।

নিজের স্বপ্নের এই প্রজেক্টের জন্য কোনো রকম ছাড় দেননি পরিচালক কে,আসিফ। কে জানে হয়তো তিনি বুঝতে পেরেছিলেন এই সিনেমা জনপ্রিয়তা এবং সফলতার সব রেকর্ড চুরমার করে হিন্দি সিনেমার জগতে সবচেয়ে জনপ্রিয় আর নন্দিত সিনেমা হিসেবে অমর হয়ে যাবে। প্রতিটি চরিত্রে পারফেক্ট শিল্পী নির্বাচন থেকে শুরু করে কষ্টিউম, অলংকার, সুর, গান, কোরিওগ্রাফি, সেট, সিনামটোগ্রাফি, সংলাপ সবদিকেই নজর ছিলো তার।

মুঘল রাজ দরবারের আয়নামহল তৈরী করার জন্য বেলজিয়াম থেকে স্পেশাল অর্ডার করে আয়না আনা হয়েছিলো। সেই শীষমহল বা আয়না মহলে বসানো হয়েছি হাজার হাজার রত্ন যা সেটে আলো জ্বালালে চমকাতো। শ্যুটিং শেষ হয়ে যাবার পর যেদিন আয়না মহল ভেঙে ফেলা হয় সেদিন বাচ্চাদের মতোই কেদেছিলেন কে. আসিফ।

কে,আসিফের সাথে সাথে হয়তো প্রতিটি শিল্পী কলাকুশলীও এটি বুঝতে পেরেছিলো। কারণ, দিলীপ কুমার প্রথমে এই ঘরনার সিনেমায় অভিনয় করতে চাননি, তবে শ্যুটিং এর প্রথম দিন পার হবার পরে তিনি নিজেকে শাহজাদা সেলিম মনে করেই পরিচালকের নির্দেশ মতো কাজ করে গেছেন। লন্ডন থেকে আনা উইগ পরে অভিনয় করেছিলেন দিলীপ কুমার। এবং রাজস্থানের গরমে যুদ্ধের পোষাকে দমবন্ধ হবার দশা হলেও চেষ্টা আর পরিশ্রমে ছাড় দেননি তিনি।

একই কথা খাটে মধুবালার ক্ষেত্রেও। দিলীপ কুমারের সাথে বিচ্ছেদ তাকে ব্যক্তিগত জীবনে মানসিক ভাবে বিপর্যস্ত করলেও পর্দায় আনারকলি হিসেবে আজো তার বিকল্প নাই। মধুবালা সত্যিই অসুস্থ ছিলেন সেসময়, তার হৃদরোগ ছিল স্টুডিওর বদ্ধ পরিবেশে শুটিংয়ের সময় একাধিকবার অসুস্থ হয়ে পড়েন তিনি। এমনকি সিনেমার নির্মাণের শেষ পর্যায়ে তিনি গুরুতর অসুস্থ ছিলেন। কিন্তু কাজটি শেষ করার জন্য তিনি ছিলেন বদ্ধপরিকর।

এছাড়া রাজস্থানের মরুভূমিতে খালি পায়ে সম্রাট আকবরের হেঁটে চলার দৃশ্য শুটিং করার সময় পায়ে ফোস্কা পড়ে পৃত্থিরাজ কাপুরের। তবুও তিনি কাজ করে গেছেন খুশিমনে। কারন অভিজ্ঞতা আর অনুভূতি দিয়ে তিনিও হয়তো বুঝতে পেরেছিলেন ঐতিহাসিক এই সিনেমার মাধ্যমে ইতিহাসের অংশ হতে যাচ্ছেন তিনি। এছাড়া রানী যোধাবাঈ চরিত্রে দূর্গা খোটে, বাহার বেগম চরিত্রে নিগার সুলতানা, অজিত এবং কুমার অসাধারণ অভিনয় করেছেন।

‘মুঘল-ই-আজম’ মুক্তি পায় ১৯৬০ সালে। মুক্তির পর পরই দর্শকদের ঢল নামে প্রেক্ষাগৃহগুলোতে। এটি ভারতীয় সিনেমাজগতের সব অতীত রেকর্ড ভেঙে ফেলে। মুঘল-ই-আজমকে বলা হয় সর্বকালের সেরা ব্যবসাসফল সিনেমা। ১.৫ কোটি রুপিতে নির্মিত এই সিনেমা সাড়ে পাঁচ কোটি রুপি আয় করে সেই সময়। কে. আসিফ চেয়েছিলেন রঙিন সিনেমা হিসেবে ‘মুঘল-ই-আজম’ নির্মান করতে কিন্তু বাজেট আর টেকনোলজির দুস্প্রাপ্যতার কারনে সেটি সম্ভব হয়নি।

তবে কালজয়ী গান ‘পেয়ার কিয়া তো ডারনা ক্য়ায়া’ তিনি রঙিন করেই নির্মান করেছিলেন। ২০০৪ সালে এটি যখন ডিজিটালভাবে রঙিন করে আবার মুক্তি দেয়া হয় তখন বোঝা যায় যে, এই সিনেমার জাকজমক বা বিশালতা ম্লান ছিলো যেনো এতোদিন। ২০০৪ সালে রি-রিলিজের পরে তখনও এটি বক্স অফিসে ব্যবসাসফল হয়েছিলো। সেটা তো হবারই ছিলো কারন ‘মুঘল-ই-আজম’ এর মতো সিনেমা একশো বছরে একটাই হয় আর যার রেশ সিনেমাপ্রেমীদের মাঝে অমর হয়ে থেকে যায় অনন্তকাল।

অলিগলি.কমে প্রকাশিত সকল লেখার দায়ভার লেখকের। আমরা লেখকের চিন্তা ও মতাদর্শের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। প্রকাশিত লেখার সঙ্গে মাধ্যমটির সম্পাদকীয় নীতির মিল তাই সব সময় নাও থাকতে পারে।