লতা মঙ্গেশকরের দু’টি অসমাপ্ত ও গোপন প্রেমের গল্প

মেলোডি কুইন লতা মঙ্গেশকরের জীবনে রহস্যের যেন কোনো শেষ নাই। বলা ভাল, তাঁর জীবনও বিতর্কের উর্ধ্বে নয়। সদা বিনয়ী, লাজুক কিংবা স্বল্পভাষী হওয়ার পরও প্রশ্ন উঠেছিল এই কিংবদন্তির ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে।

বলিউড পাড়ায় এক সময় গুঞ্জন ছিল, খ্যাতনামা কবি ও সঙ্গীতজ্ঞ ভূপেন হাজারিকার সাথে তার একটা ‘রোম্যান্টিক’ সম্পর্ক ছিল। আর এই অভিযোগ করেছিলেন খোদ হাজারিকার স্ত্রী প্রিয়ংবদা প্যাটেল হাজারিকা।

স্বামীর সাথে সংসার ভেঙে যাওয়ার পর তিনি দাবী করেছিলেন, লতার সাথে ভুপেন হাজারিকার ঘনিষ্টতা ছিল। সেটা এতটাই যে দু’জন এক সাথে রাত কাটাতেন। কলকাতায় আসলে টালিগঞ্জে হাজারিকার তিন বেডরুমের বাসাতেই উঠতেন লতা।

প্রিয়ংবদা বলেন, ‘লতার সাথে ওর সম্পর্ক ছিল। লতা ওর জন্য পাগল ছিল। ও বলতো, লতাকে দিয়ে গান গাওয়াতে পারলেই কেবল বড় মিউজিশিয়ান হওয়া যায়। আমি জিজ্ঞেস করতাম, তাই বলে কী ওর ঘরে গিয়ে তোমার রাত কাটাতে হবে? ও বলতো, কখনো কখনো এটা করতে হয়।’

আসামের অনেকেই লতার এই প্রেমের খবর জানতো। যদিও, এমন বক্তব্যে খোভ প্রকাশ করেছিলেন হাজারিকার তৎকালীন বান্ধবী কল্পনা লাজমি। ক্ষেপে গিয়েছিল মাঙ্গেশকর পরিবারও।

লতার সাথে হাজারিকার ‘কিছু একটা’ যে ছিল সেটা তার আত্মজীবনী পড়লেই বোঝা যায়। ‘মই এটি যাযাবর’ (আমি একটি যাযাবর) নামের বইটিতে তিনি লিখেছেন, কলকাতা বিমানবন্দরে লতাকে বিদায় দিতে আসলে তার স্ত্রী ক্ষেপে যেতেন। তিনি জিজ্ঞেস করতেন, ‘প্রিয়ং, হয়েছে কী?’ স্ত্রীর কাছ থেকে জবাব আসতো, ‘আমি তোমাকে যতটুকু ভালবাসি, সেটা কোনো অংশেই ওর থেকে কম নয়।’

বাংলাদেশের রুনা লায়লার সাথে

তবে, দু’জনের মধ্যে ভালবাসার সম্পর্ক থাকুক আর নাই থাকুক, সম্পর্কটা পূর্ণতা পায়নি। ‘লতা দিদি’র আরেকটি অসমাপ্ত প্রেমের গল্প জানা যায়। সেই গল্পের নায়ক সাবেক ক্রিকেটার ও ভারতীয় ক্রিকেটের নিয়ন্ত্রক সংস্থা বোর্ড অব কনট্রোল ফর ক্রিকেট ইন ইন্ডিয়ার (বিসিসিআই) প্রয়াত সভাপতি রাজ সিং দুঙ্গাপুর।

রাজ সিং অনেক কারণেই বিখ্যাত ছিলেন। বলা হয় তিনি শচিন টেন্ডুলকারের আবিষ্কারক। যখন বোর্ডের নির্বাচক ছিলেন তখন মাত্র ১৬ বছর বয়সী শচিনকে পাকিস্তান সফরে পাঠানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন তিনি।

রাজ সিং ছিলেন রাজস্থানের প্রিন্সলি স্টেটের রাজপরিবারের ছেলে। তরুণ বয়সে ক্রিকেট খেলতেন। লতাদের ওয়াকেশ্বরের বাড়িতে তার যাতায়াত ছিল। তার ভাইদের সাথে ক্রিকেট খেলতেন। ওই সময়ই দু’জনের পরিচয়, অত:পর প্রণয়।

কিন্তু, পরিবারের প্রতি দায়বদ্ধ ছিলেন রাজ সিং। দু’জনের পারিবারিক ব্যাকগ্রাউন্ডে ছিল বিস্তর ফাড়াক। ওই আমলে ভারতে এসব অনেক মানা হত, আর রাজপরিবার হলে তো কথাই নেই। তাই দু’জনের আর বিয়ে করা হয়ে ওঠেনি। পরবর্তীতে সেই পূর্ণতা না পাওয়ার আক্ষেপ থেকেই কি না, অবিবাহিত থেকেই জীবন কাটিয়ে দেয় এই জুটি!

লতা বরাবরই বলেন, তার প্রিয় খেলা ক্রিকেট। প্রিয় ক্রিকেটার শচিন টেন্ডুলকার। এসবের পেছনেও রাজ সিংয়ের কোনো প্রভাব থাকলেও থাকতে পারে!

ভারতীয় ক্রিকেটে রাজ সিংকে বলা হয়  – ‘একজন ব্যাচেলর যিনি ক্রিকেটকে বিয়ে করেছিলেন’। কে জানে, লতাকে না পাওয়ার আক্ষেপ থেকেই হয়তো ক্রিকেট নিয়ে বেশি ব্যস্ত হয়ে গিয়েছিলেন ২০০৯ সালে মুম্বাইয়ে শেষ নি:শ্বাস ত্যাগ করা এই ক্রিকেট প্রশাসক!

– টাইমস অব ইন্ডিয়া ও হিন্দুস্তান টাইমস অবলম্বনে

Related Post

অলিগলি.কমে প্রকাশিত সকল লেখার দায়ভার লেখকের। আমরা লেখকের চিন্তা ও মতাদর্শের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। প্রকাশিত লেখার সঙ্গে মাধ্যমটির সম্পাদকীয় নীতির মিল তাই সব সময় নাও থাকতে পারে।