এ যুগের লাইলি-মজনু উপাখ্যান

‘লায়লা, তুমি কি আমাকে মিস করো?’

সময় ও বাস্তবতার কারণে হয়তো মজনুরা লায়লাকে পায় না, তাই বলে মৃত্যুই কি একমাত্র সমাধান! প্রেম তো জীবনের কথা বলে, তাহলে সে জীবন থেকে কেন আমি পালিয়ে যাবো!

লাইলী আর মজনুর প্রেমগাঁথা অমর হয়ে আছে, লাইলীর বিরহে মজনু জীবন দিয়ে দিয়েছে। যুগে যুগে এই প্রেমিক যুগল বারবার ফিরে আসে, তেমনি এক যুগল লায়লা- মিনহাজ, তাদের ও প্রেম পূর্ণতা পায় নি। লায়লার বিয়ে হয়ে গেছে,সেই সংসারে সে ভালো থাকার চেষ্টায় আছে, অন্যদিকে মিনহাজ!

একদিন লায়লা জানতে পারে মিনহাজের খোঁজ পাওয়া যাচ্ছে না, সে ফোন করে একটা পুরনো মোবাইল নাম্বারে, যেটা শুধু সেই জানে। সেই ফোনেই খবর পায় মিনহাজের। দুই জনের কথায় ভেসে উঠে পুরনো সব স্মৃতি, হঠাৎই মিনহাজ বলে, তাকে মিস করে কিনা,আর জানায় সে আত্বহত্যা করতে যাচ্ছে! লায়লা তখন দিশেহারা, মিনহাজ কি সত্যিই আত্বহত্যা করবে!

এই নিয়েই আশফাক নিপুণের নাটক – ‘লায়লা, তুমি কি আমাকে মিস করো!’। নাটকটির পেছনের কিছু কাহিনী আছে। বেশ সাড়ম্বরভাবেই প্রচার হবার কথা ছিল ভালোবাসা দিবসে, কিন্তু বিশেষ কারণে প্রচার হয় নি, এক ঈদেও প্রচার হবার কথা উঠলেও আর হয় নি। অবশেষে ঈদের আগ মুহুর্তে প্রকাশ পেলো।

অভিনয়ে মেহজাবীন ও আফরান নিশো দুই জনেই অসাধারন। মেহজাবীন যেমন কান্নার জন্য এখন বিখ্যাত তেমন নিশোও স্থির চিত্রে দুই ফোঁটা চোখের জল খুব ভালো ভাবে আনতে পারেন। নাটকের শেষাংশে নিশোর মুখে সংলাপগুলি আপনাকেই মুগ্ধ করবেই। তবে আরজে সাব্বিরের অভিনয় বেশ ম্লান, অবশ্য তাঁর চরিত্র ও খুব বেশি নয়।

এই নাটকটিকে আরো পরিপূর্নতা পেয়েছে ‘প্রানহীনতার শোরগোলে’ গানটি। ভাস্কর আবেদীনের কথা আর শাকুর রাজার সুরে এই গানে কণ্ঠ দিয়েছেন ফারুক আরাফাত। সোহাগ চৌধুরীর ক্যামেরার কাজ ও বেশ ভালো, আর নির্মাতা হিসেবে আশফাক নিপুণ এই বছর বেশ ভালো সময় কাটাচ্ছেন, নিজেকে আরো পরিপূর্ন করে তুলছেন, এটা তাঁর একটি প্রমান।

নাটকটি বায়োস্কোপ লাইভে আছে। ভিন্নরকম ভালবাসার থিমে উপভোগ্য এক নির্মান।

Related Post

অলিগলি.কমে প্রকাশিত সকল লেখার দায়ভার লেখকের। আমরা লেখকের চিন্তা ও মতাদর্শের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। প্রকাশিত লেখার সঙ্গে মাধ্যমটির সম্পাদকীয় নীতির মিল তাই সব সময় নাও থাকতে পারে।