চাইলে এই দেশে, এই সমাজেও সম্ভব!

১৬ বছর বয়সে বাংলাদেশ জাতীয় ফুটবল দলে ডাক পেয়েছিলেন আমিনুল হক। ১৮ বছর বয়সে জাতীয় দলে অভিষেকও হয়েছিল। ১৬ বছর বয়সে বাংলাদেশের হয়ে টেস্ট খেলেছেন এনামুল জুনিয়র, তালহা জুবায়ের।

১৭ বছর বয়সে সর্বকনিষ্ঠ ক্রিকেটার হিসেবে ক্রিকেটতীর্থ লর্ডসে টেস্ট অভিষেক হয়েছে মুশফিকুর রহিমের। ১৭ বছর বয়সে টেস্ট ইতিহাসের সর্বকনিষ্ঠ সেঞ্চুরিয়ান হয়েছেন মোহাম্মদ আশরাফুল (দেশের দুর্ভাগ্য, তুমুল প্রতিভাবান হয়েও পরে তিনি দেশকে কলঙ্কিত করেছেন। তবে সেটা অন্য প্রসঙ্গ)।

১৮ বছর বয়সে দেশের হয়ে টেস্টে ৫ উইকেট নিয়েছেন এনামুল, মিরাজ। ১৯তম জন্মদিনের পরপরই টেস্টে ম্যাচে ১০ উইকেট নিয়েছেন মিরাজ। ১৮ বছর বয়সে দেশের হয়ে বল হাতে আগুণ ঝরিয়েছেন মাশরাফি বিন মুর্তজা।

১৯ বছর বয়সে বাংলাদেশের হয়ে ম্যাচ বাঁচানো আর সিরিজ জেতানো সেঞ্চুরি করেছেন নাফিস ইকবাল। ১৯ বছর বয়সে দেশের হয়ে আন্তর্জাতিক সেঞ্চুরি করেছেন সাকিব, তামিম, বিজয়। ৫ উইকেট নিয়েছেন তাসকিন, মুস্তাফিজ।

কিলিয়ান এমবাপে ১৯ বছর বয়সে বিশ্ব জয় করেছেন। আমিনুলের বাংলাদেশ দলে খেলার তুলনাই চলে না সেখানে। ফুটবলের তুলনায় ক্রিকেট জগত নিতান্তই লিলিপুট, কোনো তুলনাই চলে না। বিশ্বকাপ ফুটবল জয়ের চেয়ে তুলনায় টেস্ট খেলাও কিছুই না।

তবে একটি জায়গায় মূল ব্যাপার একই। কোনো একটি ক্ষেত্রে দেশকে সর্বোচ্চ পর্যায়ে প্রতিনিধিত্ব করা।

এমবাপে বাংলাদেশে থাকলে এই বয়সে ফার্মগেটের কোচিং সেন্টারগুলোতে দৌড়াতেন, এই ট্রল দেখতে এমনিতে ভালোই লাগছে। কোচিং সেন্টারের পরিচালক এমবাপেকে মিস্টি খাইয়ে দিচ্ছেন, এই ছবি দেখে হাসতে হাসতে চেয়ার থেকে পড়ে যাচ্ছিলাম প্রায়। নির্মল বিনোদন হিসেবে দারুণ।

শুধু মজা হিসেবেই নিলে কথা নেই কোনো। তবে এই আক্ষেপ থেকে সত্যিই আমাদের দেশ, আমাদের সমাজের প্রতি অভিমান করে কেউ যদি দমে যান, একজনও যদি স্বপ্ন পূরণের পথে বাধা মনে করেন, তাদের জন্যই ওপরের পরিসংখ্যান। চাইলে এই দেশে, এই সমাজেও সম্ভব!

ফ্রান্সেও এমবাপেরা সংখ্যায় কম। এই বয়সীদের একটি বড় অংশকে কোচিং সেন্টারে ছুটতে না হলেও ভবিষ্যত গড়ার জন্য লড়তে হয়।

হ্যাঁ, এটা ঠিক, আমাদের সমাজে শৈশব-কৈশোরের স্বপ্নকে তাড়া করা কঠিন। বাস্তবতা এখানে অনেক কঠিন। তবে অসম্ভব নয়, সেটা ওপরের তালিকার তারা দেখিয়েছেন। শুধু ক্রিকেটে নয়, আরও অনেক খেলায় অনেক উদাহরণ আছে। আরও অনেক ক্ষেত্রে অনেক উদাহরণ আছে। ওদের কেউ কেউ পরিবারের সমর্থন পেয়েছে, কেউ আদায় করে নিয়েছে, তবে বেশির ভাগেরই নানা বাস্তবতার সঙ্গে লড়াই করতে হয়েছে। এমবাপেরও নিশ্চয়ই লড়াইয়ের গল্প আছে। শুধু ফ্রান্সে জন্ম বলে আর ফুটবলার বলেই বিশ্বজয়ী হয়ে যায়নি।

আর ১৯ বছর বয়সেই কেন করতে হবে? ২০-২২ হোক কিংবা ২৬-৩০, স্বপ্ন পূরণ দিয়ে কথা। বাসে ঝুলে ফার্মগেটে কোচিং করতে যাওয়া আমাদের বাস্তবতা, একই বয়সে দেশকে প্রতিনিধিত্ব করাও আমাদের বাস্তবতা। স্বপ্নের পথে হাঁটতে ভাগ্যটাকে যেমন পাশে পেতে হয়, তেমনি ইচ্ছের তীব্রতাও লাগে।

– ফেসবুক ওয়াল থেকে

Related Post

অলিগলি.কমে প্রকাশিত সকল লেখার দায়ভার লেখকের। আমরা লেখকের চিন্তা ও মতাদর্শের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। প্রকাশিত লেখার সঙ্গে মাধ্যমটির সম্পাদকীয় নীতির মিল তাই সব সময় নাও থাকতে পারে।