দ্য ‘গরম লাগছে’ গার্লস

সত্যি কথা বলতে, যে বিষয় বা যাদের নিয়ে বলতে যাচ্ছি, তাঁদেরকে আসলে নতুন করে পরিচয় করিয়ে দেওয়ার কিছু নেই। কম বেশি প্রত্যেক ইন্টারনেট ব্যবহারকারীই ২০১৮ সালে এই দু’জনকে চিনে ফেলেছেন। তাঁরা হলেন কুশা কপিলা এবং ডলি সিং।

ইন্টারনেটে তারা এমন কিছু ব্যাপার তুলে এনে ভাইরাল হয়েছেন, যা আসলে আমাদের প্রত্যেকেরই জীবনের গল্প, যা আমাদের চারপাশে রোজই ঘটে। এর মধ্যে সবার আগেই থাকবে তাঁদের ‘গরম লাগছে’ সেগমেন্ট। এর নানা রকম ভিডিও সম্প্রচারের পর ‘গরম লাগছে’ – এই শব্দ দু’টো ভারতে তো বটেই বাংলাদেশেও ব্যাপক ‘ট্রেন্ডি’ হয়ে গেছে।

উঠতে বসতে তরুণ প্রজন্মের অনেকেই এই শব্দযুগল এখন ব্যবহার করেন। শুধু ‘গরম লাগছে’ই নয়, খ্যাতি পেয়েছে তাঁদের ন্যায়না, চানাই, রাজু কি মাম্মি, বিল্লি মাসি ইত্যাদি চরিত্রগুলোও।

মজার ব্যাপার হল কুশা আর ডলি আজ যা করছেন, তার স্বপ্ন অনেক আগে থেকে দেখেননি। কুশা প্রায় সাত বছর ধরে ফ্যাশন ইন্ডাস্ট্রিতে কাজ করছেন। আর ডলি সিং ন্যানিতাল থেকে অনেক বড় স্বপ্ন নিয়ে এসেছিলেন দিল্লী। পলিটিক্যাল সাইন্সে পড়াশোনা শেষ করে ফ্যাশন ব্লগিং শুরু করে। তারা কেউই আজকের মত জনপ্রিয়তার সিঁড়ি বেয়ে ওপরে উঠতে চাননি।

তবে, হুট করে পেয়ে যাওয়া এই জনপ্রিয়তাটা উপভোগ করছেন তারা। কপিলা বলেন, ‘যখন দেখি একই ভিডিও দেশে ১৫ বছর বয়সী একটা মেয়ে যেমন হাসছে, তেমনি তাঁর ৪০ বছর বয়সী মা-ও মজা পাচ্ছে, তখন আসলেই মনে হয় আমি জিতে গেছি।’

ডলি বলেন, ‘আমরা তাই বানাই, যা আমাদের সমাজে আছে। চরিত্রগুলো অবশ্যই কাল্পনিক, কিন্তু এগুলোর সাথে আমাদের আশেপাশের মানুষগুলোর মিল আছে। যেমন রাজু কি মাম্মি। এর সাথে মানুষ খুব সহজেই সংযোগ ঘটাতে পারে। এমন একজন মা খুঁজলেই পাওয়া যাবে। আমি জানি, অনেকেই এই ভিডিওটাকে গালমন্দ করে, তবে এটাও জানি যে লুকিয়ে লুকিয়ে তাঁরা ওই ভিডিওগুলো দেখেও। এই সবার জন্য উপযোগ্যতার ব্যাপারটাই এখানে মূখ্য।’

ফেসবুক, ইউটিউব বা অন্য কোনো প্লাটফরমে আমরা যখন ভিডিও দেখি, তখন সাধারণ ভোক্তা হিসেবে আমাদের কাছে পুরো ব্যাপারটাকে অনেক সহজ বলে মনে হতে পারে। কিন্তু একেকটা ভিডিওর জন্য নিত্য নতুন আইডিয়া বানানো, শ্যুটিং করা,  এডিট করার জন্য কত শত ঘণ্টা আর কত-কত নির্ঘুম রাত কাটাতে হয় সেটা কেবল এর ভেতরের মানুষগুলোই জানেন।

কুশা যেমন বলেন ফেললেন, ‘এই রোজ রোজ নতুন আইডিয়া মাথায় নিয়ে আসাটাই আসলে বিরাট একটা চ্যালেঞ্জ।’ আর ডলি তো এখন নিজের জীবনের পুরোটা সময়ই এর পেছনে ব্যায় করেন। তিনি বলেন, ‘আমি রোজই কাজ করি, কোনো অভিযোগ করি না। আমি যদি ছুটি নেই, তাহলে ছুটি শেষে নিজেকে আরো বেশি অসহায় মনে হতে শুরু করে। কাজের মধ্যে থাকতেই আমার বেশি মজা লাগে।’

কুশা-ডলির ভিডিওগুলো যারা দেখেছেন তাঁরা নিশ্চয়ই জানেন, ভিডিও’র মূল উপাদান হল রসবোধ। ডলি জানালেন কৌতুকের উপাদানগুলো নিজের জীবন থেকেই সংগ্রহ করেন তিনি। বললেন, ‘আমার জীবনে রসবোধের কোনো কমতি নেই। রাজু কি মাম্মি যখন করি, তখন বিষয়গুলো নিজের জীবন থেকেই সংগ্রহ করি। চেষ্টা করি সর্বোচ্চ পরিমানের নিখুঁত হওয়ার।’

তবে, ইন্টারনেটের দুনিয়ায় শেষ বলে কোনো কথা নেই। এখানে রোজ মানুষের রুচি বদলায়। ফলে, আজ যা খুব ভাইরাল হচ্ছে, কাল হয়তো তাতে কোনো লাইকই পড়বে না। ডলি তাই পা মাটিতেই রাখছেন। বললেন, ‘আজীবনই বিখ্যাত থাকবো, এর তো কোনো নিশ্চয়তা নেই। তাই সাফল্যকে আমি সব সময়ই ক্ষণিকের একটা সময় বলে বিবেচনা করি। এটাই আমাকে পা মাটিতে রাখতে সাহায্য করে। আর অবশ্যেই, দেরী করে বাড়ি ফিরলে মা যে বকুনিটা দেয়, আর আমার বাবার প্রিয় কাজই হল আমাকে বিয়ের জন্য উৎসাহিত করা। দিন শেষে আমি তাই বাকি সবার মতই।’

মেনজএক্সপি অবলম্বনে

অলিগলি.কমে প্রকাশিত সকল লেখার দায়ভার লেখকের। আমরা লেখকের চিন্তা ও মতাদর্শের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। প্রকাশিত লেখার সঙ্গে মাধ্যমটির সম্পাদকীয় নীতির মিল তাই সব সময় নাও থাকতে পারে।