খসরু মিয়া: ব্রিটেনে রেস্টুরেন্টের ‘বিশ্বকাপজয়ী’ এক বাংলাদেশি!

ব্রিটেনে এখন এশিয়ান খাবার বেশ জনপ্রিয়। বিশেষ করে উপমহাদেশীয় খাবারটা এখন ব্রিটিশদের বেশ পছন্দ। বিষয়টা এখন এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে, দেশটিতে এশিয়ান রেস্টরেন্টদের জন্য বিশেষ অ্যাওয়ার্ড নাইট পর্যন্ত আয়োজন করে। প্রতি বছর দ্য এশিয়ান রেস্টুরেন্ট অ্যান্ড টেকঅ্যাওয়ে অ্যাওয়ার্ডে (এআরটিএ) মধ্য দিয়ে সেরা বেছে নেওয়া হয়।

শুনতে বিস্ময়কর মনে হলেও এটাই সত্যি যে এ বছর এই অ্যাওয়ার্ড নাইটে সবচেয়ে আলোচিত পুরস্কারটি উঠেছে একজন বাংলাদেশির হাতে। তিনি হলেন খসরু মিয়া। ক্যামব্রিজশায়ারের কোটেনহ্যামে তাঁর রেস্টুরেন্টের নাম ‘কারি প্যালেস’। তিনি জিতেছেন ন্যাশনাল চ্যাম্পিয়ন অব চ্যাম্পিয়ন্স, মানে সেরাদের সেরা।

খসরু মিয়া

এই পুরস্কারটা কতটা গুরুত্বপূর্ণ সেটা আসলে বাংলাদেশে বসে থেকে বোঝার কোনো উপায় নেই। তবে, বুঝে ফেলতে পারবেন যখন দেখবেন স্বয়ং ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী থেরেসা মেও এই পুরস্কার অনুষ্ঠানকে ঘিরে আলাদা করে বার্তা পাঠান।

তিনি বলেন, ‘এশিয়ান খাবার এবার ব্রিটিশ জীবনযাত্রার এক অবিচ্ছেদ্য অংশ। এই প্রেস্টিজিয়াস পুরস্কারটি হল আমাদের দেশে এশিয়ার খাবার ও এর দক্ষ কারিগরদের সম্মান জানানোর একটা বড় মাধ্যম।’

দ্য সান, ডেইলি মেইল, দ্য টেলিগ্রাফসহ ব্রিটেনের সবচেয়ে আলোচিত গণমাধ্যমগুলোও এই খবর প্রকাশ করেছে। ২৮০০ টি রেস্টুরেন্টের সাথে পাল্লা দিয়ে এই প্রতিযোগীতায় টিকে থাকা তো আর মুখের কথা নয়। সেই অভাবনীয় ও বিস্ময়কর কাণ্ডটাই এবার ঘটিয়েছেন খসরু মিয়া।

খসরু মিয়া নিজে মনে করেন, এই পুরস্কারটা রেস্টুরেন্টের জগতে বিশ্বকাপের চেয়ে কম কিছু নয়। তিনি বলেন, ‘আমার চোখে একটা রেস্টুরেন্ট ইন্ডাস্ট্রিতে বিশ্বকাপ জয়ের মত ব্যাপার। আমি ও ক্যারি প্যালেস সবার প্রতি কৃতজ্ঞা। সকলের সমর্থন ছাড়া মনোনয়ন পাওয়া ২৮০০ টি রেস্টুরেন্টকে টপকে শিরোপা জয় একদমই সম্ভব ছিল না। প্রথম যেদিন মনোনয়ন পাই সেদিন থেকেই আমি খুবই উৎসাহী ছিলেন। আমাদের এখানে যারা খাবার খেতে আসেন, তাদের প্রতি আমি কৃতজ্ঞ।’

সেরা হওয়ার কথা চিন্তাও করেননি খসরু মিয়া। তিনি বলেন, ‘যখন মনোনয়ন পাই তখনও ভাবিনি যে সেরার পুরস্কার পাবো। কিংবা যখন ফাইনালে পৌঁছে গেলাম, তখনও বিষয়টা স্বপ্নের মত ছিল। আমি নিজের অনুভূতির কথা ভাষায় প্রকাশ করতে পারছি না।’

এই পুরস্কারটা আক্ষরিক অর্থেই এক মহাযজ্ঞ ব্যাপার। ২৮০০ মনোনয়ন প্রাপ্ত রেস্টুরেন্ট থেকে বাছাই করে ৩০ টি রেস্টুরেন্টের একটি সংক্ষিপ্ত তালিকা নির্মান করা হয়। তাদের অঞ্চল ভেদে ‘হেড টু হেড’ কুক অফ চ্যালেঞ্জে অংশ নিতে হয় রেস্টুরেন্টগুলোকে। এখানে শুধু খাবারের স্বাদ নয়, পরিবেশনের কায়দা, খাবারের রং কিংবা গন্ধ সবই বিচারকরা বিবেচনায় রাখেন।

কারি প্যালেসের অন্দরমহল

১৫ টি অঞ্চলের লড়াই শেষে সেরা ১০ টি রেস্টুরেন্টকে আমন্ত্রন জানানো হয় গ্র্যান্ড ফিনালে। এবার গ্র্যান্ড ফিনালে অনুষ্ঠিত হবে লন্ডনের ইন্টার কন্টিনেন্টাল হোটেলে। এবারের ফিনালেতে উপস্থিত ছিলেন ১৮০০ জন অতিথি। উপস্থাপনা করেন জনপ্রিয় টেলিভিশন ব্যক্তিত্ব ও শেফ অ্যানিসলে হ্যারিয়ট।

খসরু মিয়ার যে খাবারটি সেরার পুরস্কার জিতেছে সেটা হল ‘দ্য পার্পেল টাইগার’ কারি। এটা কারি প্যালেসের হেড শেফের নিজের হাতে বানানো চিংড়ি মাছের একটা তরকারী। তবে, সেরা শেফের পুরস্কার এবার জিতেছেন ‘ভাইজানস’ রেস্টুরেন্টের মুশফিকুর রহমান। এছাড়া বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে আরো পাঁচটি পুরস্কার দেওয়া হয়।

দ্য পার্পেল টাইগার

একই রাতে আরেক বাঙালিও পেয়েছেন পুরস্কার। তিনি হলেন সিরাজ আলী। তিনি পেয়েছেন আজীবন সম্মাননা পুরস্কার। বোঝাই যাচ্ছে, ব্রিটেনের রেস্টুরেন্ট ইন্ডাস্ট্রিতে বাংলাদেশিরা বেশ প্রভাবশালী!

– দ্য সান ও ক্যামব্রিজ নিউজ অবলম্বনে

অলিগলি.কমে প্রকাশিত সকল লেখার দায়ভার লেখকের। আমরা লেখকের চিন্তা ও মতাদর্শের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। প্রকাশিত লেখার সঙ্গে মাধ্যমটির সম্পাদকীয় নীতির মিল তাই সব সময় নাও থাকতে পারে।