ড্যানি ড্যানিয়েলস: একজন মহানুভব নীল তারকা

কিরা লি ওরস্যাগ – এটাই তাঁর আসল নাম। পর্দায় নাম, ড্যানি ড্যানিয়েলস। না, তিনি রুপালি জগতের অভিনয়শিল্প নন। তিনি মূলত একজন পর্ণ তারকা। নীল ছবির দুনিয়ায় তাঁর বেশ নাম ডাক।

নীল দুনিয়ায় তিনি কতটা জনপ্রিয় সেটা বুঝতে একটা পরিসংখ্যান দেওয়া যাক। ২০১৯ সালে পর্নোগ্রাফিক ওয়েবসাইট পর্নহাব ভারতে একটা জরিপ চালায়। সেখানে জনপ্রিয়তার বিচারে সবার ওপরে ছিলেন সানি লিওন ও মিয়া খলিফা। এরপরই ছিলেন ড্যানি ড্যানিয়েলস।

তবে, নীল দুনিয়ার কর্মকাণ্ড ছাপিয়ে তাঁকে পরিচিত করে দেওয়ার আরো একটা উপায় আছে। সত্যি কথা বল, আসলে একটা নয়, একাধিক উপায় আছে। ব্যক্তিগত জীবনে তিনি একজন শিল্পী। আর তাঁর এই শিল্পীসত্তায় যোগ হয়েছে তাঁর মানবিকতা। শিল্পী হিসেবে উপার্জিত অর্থটা তিনি ব্যয় করেন মানবতার স্বার্থে।

ড্যানি ড্যানিয়েলস ক্যালিফোর্নিয়ার অরেঞ্জ কাউন্টির মানুষ। জন্ম ১৯৮৯ সালের ২৩ সেপ্টেম্বর। তিনি মূলত চেক বংশদ্ভুত। নীল দুনিয়ায় নাম লিখিয়ে ব্যপক খ্যাতি পেলেও তিনি আঁকতে ভালবাসেন ছোট বেলা থেকেই।

তিনি স্যান ডিয়েগোর আর্ট ইন্সটিটিউট অব ক্যালিফোর্নিয়াতে ভর্তি হন ২০০৭ সালে। যদিও, ২০০৯ সালে গ্র্যাজুয়েশন শেষ হওয়ার আগেই তিনি বের হয়ে আসেন। এরপর তিনি লস অ্যাঞ্জেলসে আসেন, শুরু করেন নতুন ক্যারিয়ার।

পর্দায় তিনি যেমন নামই ব্যবহার করুন না কেন, মনের তাগিদে যে কাজ করেন সেটাতে বাবা মা’র দেওয়া কিরা লি নামটাই ব্যবহার করেন। কিরা লি ছবি আঁকেন। তিনি একজন পেশাদার চিত্রশিল্পী। সেই চিত্রশিল্প বিক্রি করে পাওয়া অর্থ দিয়ে যতটা সম্ভব সমাজের সুবিধাবঞ্চিত শ্রেণির পাশে দাঁড়ান কিরা।

করোনা ভাইরাসের এই প্রকোপের সময়েও থেমে নেই কিরা’র তুলি। ক্যালিফোর্নিয়া আর্ট গ্যালারিতে সম্প্রতি নিজের একক প্রদর্শনীর আয়োজন করেন কিরা। প্রদর্শনী সফল হয়। এর মধ্য দিয়ে উপার্জিত বড় অংশ তিনি দান করেন বিভিন্ন চ্যারিটেবল ট্রাস্ট এবং উইমেন এম্পাওয়ারমেন্ট অর্গানাইজেশনে। এর আগে প্রদর্শণী করেছেন লন্ডন, মিয়ামি, নিউ ইয়র্ক, লস অ্যাঞ্জেলস ও স্যান ডিয়েগোতে।

এখানেই শেষ নয়। বিশ্বজুড়ে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে চলছে লক ডাউন। এই সময়ে ঘরে বসে তিনি ছবি আঁকছেন। আর সেই ছবিগুলো বিক্রি হচ্ছে অনলাইনে। সেই অর্থও চলে যাচ্ছে করোনা ভাইরাস মোকাবেলায় নিয়োজিত হাসপাতালগুলোতে।

ড্যানিয়েলসের আঁকা ছবিগুলো চাইলেও আপনিও অনলাইনে দেখতে ও কিনতে পারেন।

ড্যানি এমন একটা পৃথিবীতে জনপ্রিয়তা পেয়েছেন, যেটা আক্ষরিক অর্থেই অন্ধকার একটা জগৎ। সেই জগতের সবাইকে হয়তো সভ্য সমাজ সঠিক ভাবে ঠাঁইও দেয় না। তারপর, ড্যানি ড্যানিয়েলসের মত কেউ ঘুরে ফিরেই মানবতার কাজে আসেন। সৃষ্টি হয় অনন্য দৃষ্টান্ত।

Related Post

অলিগলি.কমে প্রকাশিত সকল লেখার দায়ভার লেখকের। আমরা লেখকের চিন্তা ও মতাদর্শের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। প্রকাশিত লেখার সঙ্গে মাধ্যমটির সম্পাদকীয় নীতির মিল তাই সব সময় নাও থাকতে পারে।