১২ টা মাসই ফেব্রুয়ারি হোক: কিঙ্কর আহসান

বই নিয়ে তাঁর হরেক রঙের স্বপ্ন। মানুষ একদিন গল্পের কাছে ফিরবে, বইয়ের কাছে ফিরবে। বলছি, বর্তমানের অন্যতম পাঠকপ্রিয় লেখক কিঙ্কর আহসানের কথা। লেখালেখির পাশাপাশি বর্তমানে এশিয়াটিক ডিজিটালে কপিরাইটার হিসেবে কাজ করছেন। দেশের শীর্ষস্থানীয় পত্রিকায়ও দীর্ঘসময় কাজ করেছেন তিনি। মধ্যবিত্ত, রাজতন্ত্র, মখমলি মাফলারসহ বেশ কিছু উপন্যাস দিয়ে পাঠকের ভালোবাসা কুড়িয়েছেন তরূণ লেখক কিঙ্কর আহসান। এবারের বইমেলায় অন্বেষা প্রকাশনী থেকে তাঁর নতুন ‘বিবিয়ানা’ উপন্যাসটি আসছে। বইমেলাকে সামনে রেখেই তিনি মুখোমুখি হয়েছেন অলিগলি.কম-এর।

বইমেলার তো আর অল্প ক’দিন। বইমেলার এই আমেজটা কেমন উপভোগ করছেন?

– বইমেলা মানেই বেঁচে থাকা। বইয়ের ঘ্রাণ নিয়ে, পাতায় নাক ডুবিয়ে আমি নিশ্বাস নেই। বইমেলার এই আমেজ বছরের সব ক্লান্তি মুছে দেয়। আমি সবসময়ে বলি বছরের ১২ টা মাসই ফেব্রুয়ারি হোক। দেশের কোথাও না কোথাও বই নিয়ে মেলা হোক। কথা হোক।

এবারের বইমেলায় আপনার নতুন উপন্যাস ‘বিবিয়ানা’ থাকছে। উপন্যাসটিতে আপনি পাঠকদের কি বলতে চেয়েছেন?

– ‘বিবিয়ানা’ মানে বিলাসি বিবিদের কাহিনী। ভুটানের পুনাখা থেকে দেশের অলকী নদীর তীর অব্দি এই উপন্যাসের গল্প ছড়িয়েছে। এই সময়ের লোক দেখানো জীবন, অস্থিরতা, সম্পর্কের জটিলতা এসবই উঠে এসেছে ‘বিবিয়ানা’ ‍উপন্যাসে।

একজন পাঠক হিসেবে আপনি ‘বিবিয়ানা’কে দশে কত নম্বর দেবেন?

– এই কাজ পাঠকই করবে। বই লেখার পর লেখকের চেয়ে পাঠকের হয়ে ওঠে অনেকটা বেশি। তারাই সিদ্ধান্ত নিক, যত্নে রাখুক, ভালোবাসুক।

আপনি বর্তমান সময়ের অন্যতম পাঠকপ্রিয় একজন লেখক। ‘বিবিয়ানা’ উপন্যাসটি নিয়ে আপনি কতটুকু আশাবাদী?

– ‘বিবিয়ানা’ উপন্যাস নিয়ে আমি অনেক, অনেক, অনেক, অনেক, অনেক, অনেক, অনেক…আশাবাদী। পাঠকদের ভালোবাসায় আমার বিশ্বাস আছে।

পাঠক সমাজে আপনাকে নিয়ে একটি কথা খুব প্রচলিত, আপনি যত না লেখেন তার চেয়ে বেশি বইয়ের প্রচারণা করেন। এর উত্তরে আপনি কি বলবেন?

– যারা বলে তাদেরকে ধন্যবাদ জানাই। পৃথিবীর সকল দেশেই বইয়ের প্রচারনা খুব স্বাভাবিক একটি ব্যাপার। একটু আধটু পড়াশোনা আর নেট ঘাটাঘাটি করলেই এসব নিয়ে জানা যায়। আমি আমার ছয়টি বই প্রকাশ হওয়া পর্যন্ত কোনো প্রচার করিনি। ভুল করেছি। ভালো কিছু পৌঁছে দিতে হয় সবার কাছে। এটা দায়িত্ব। বই লুকিয়ে রাখবো কেনো? এটা কী নোংরা কিছু? মানুষ যা কিছু নোংরা, বাজে তা লুকিয়ে রাখে। বই সুন্দর আর এজন্য ছড়িয়ে দেওয়াই বুদ্ধিমানের কাজ। যেহেতু নিজের লেখার ওপর আমার সামান্য হলেও বিশ্বাস আছে বই নিয়ে কথা বলতে আমার তাই আপত্তি নেই। বই নিয়ে কথা হওয়া দরকার। শুধু আমার নিজের বই না, সকলের বই। বই নিয়ে সারাক্ষন আলাপ হলেই বইবিমুখ একটি প্রজন্ম আবার বইয়ের কাছে ফিরবে বলে আমি মনে করি।

সমসাময়িক তরুণ লেখকদের মধ্যে আপনার সবচেয়ে পছন্দের লেখক কে?

– এই সময়ের মেহেদী উল্লাহ্, আবদুল্লাহ্ আল ইমরান, কুশল ইশতিয়াক, সাদাত হোসাইন, মাহবুব ময়ূখ ‍রিশাদ আমাকে মুগ্ধ করে।

একজন তরুণ লেখক হিসেবে আপনি লেখার সময় কোন কোন বিষয়গুলো বিশেষ খেয়াল রাখেন?

– অনেক কিছুই। তার জন্য লম্বা আলাপ প্রয়োজন।

লেখক জীবনে আপনার সবচেয়ে স্মরণীয় ঘটনা কোনটি?

– পাঠকের ভালোবাসা আমাকে আপ্লুত করে। তাদের সাথে আড্ডা দিতে পারলেই শান্তি। ওভাবে সবচেয়ে স্মরণীয় বলে কোনো ঘটনাকে আলাদা করতে পারবো না, চাইও না।

Related Post

অলিগলি.কমে প্রকাশিত সকল লেখার দায়ভার লেখকের। আমরা লেখকের চিন্তা ও মতাদর্শের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। প্রকাশিত লেখার সঙ্গে মাধ্যমটির সম্পাদকীয় নীতির মিল তাই সব সময় নাও থাকতে পারে।