রাজমুখের শাহরুখ

শাহরুখ ভক্ত মানেই জানে তার সবকিছু। শাহরুখ হেটার মানেই জানে তার সবকিছু। দ্যাটস দ্য স্পিরিট অব শাহরুখ। দ্য কিং, দ্য কিং অব রোমান্স।

ছোটবেলা থেকে মেনে চলেন মায়ের অমর কথামৃত! ব্যয় কমিয়ে লাভ নেই, আয় বাড়াও। সাফল্যের সূচনা মায়ের ভালবাসাতেই। মা ভালবাসতে শিখিয়েছেন মানুষকে। ভালবাসেন, খুব বেশিই ভালবাসেন তিনি। ভক্তরাই সব।

প্রথম টিভি সিরিয়াল ফৌজির কমান্ডো অভিমন্যুর দুর্দান্ততা বাস্তবজীবনেও বিদ্যমান। ফিটফাট শাহরুখ ২০০৮ সালে নিউজউইকের জরিপে বিশ্বের ৫০ ক্ষমতাশীল ব্যক্তির তালিকায় স্থান করে নেয়। ওয়েলথ-এক্স সংস্থার বিচারে বিশ্বের সবথেকে ধনী হলিউড, বলিউড তারকার তালিকায় শাহরুখ খান প্রথম স্থান পেয়েছেন। এক্ষেত্রে তিনি হলিউড তারকা ব্র্যাড পিট, টম ক্রুজ, জনি ডেপ-দের পিছনে ফেলে দিয়েছেন। অভিনেতা হিসেবে বৈশ্বিক অবদানের জন্য শাহরুখ খানকে সম্মানসূচক ডক্টরেট উপাধিতে ভূষিত করেছে স্কটল্যান্ডের প্রাচীন বিশ্ববিদ্যালয় ইউনিভার্সিটি অব এডিনবরা!

কমান্ডো অভিমন্যুর প্রতিভার বিচ্ছুরণ দেখেছিলেন হেমা মালিনী। কাজ করান নিজের সঙ্গে। সুযোগ দেন ‘দিল আশনা হ্যাঁয়’ মুভিতে অভিনয়ের। কিন্তু প্রথম মুক্তিপ্রাপ্ত মুভি দিওয়ানা। সাধারণ ঘটনা। ঘটনার গভীর দৃষ্টিপাতে বেরিয়ে আসবে অসাধারণত্ব! শুরুর গল্পেই মানুষকে দিওয়ালা করেছেন, স্থান করে নিলেন দিলওয়ালে হয়ে। সাফল্যের এক একটি সিঁড়ি ভেঙ্গে উপরে উঠতে উঠতে দু’দিকে দু’হাত প্রসারিত করে দরাজ কন্ঠে জানান দিয়েছেন – ‘মাই নেইম ইজ খান’।

আধুনিককালের সম্পর্কগুলো পরিণত ঘুণপোকাদের আহার্যে। ফেসবুকের জমানায় এখন আর  আমরা সু-প্রভাত সম্বোধনের ধার ধারি না। সামাজিক মিডিয়ার অসামাজিক যুগে সকালের সূর্য দেখি না। কারো মিষ্টি ইমো কিংবা গুডমর্নিং মেসেজে তুষ্ট হই। আবার কারো কাছে সম্পর্কটা মিউজিক্যাল চেয়ার। তবু, বরাবর ব্যতিক্রম থাকে। তারা ভিন্নধর্মী চরিত্র। তাদের জীবনঘনিষ্ঠ গল্পে সম্পর্কে দৃঢ়তার সঞ্চার হয়! শাহরুখ-গৌরী এমনই দুটো চরিত্র। সাতাশ বছর ধরে লিখে চলেছেন ভালবাসার উপন্যাস। গল্পে একে একে চরিত্র বেড়েছে। এক, দুই করে তিনজন। আরিয়ান, সুহানা, আব্রাহাম। উপন্যাসের সৌন্দর্য্য বর্ধনে প্রচ্ছদ হয়ে আছে মান্নাত, কিং খানের প্রিয় বাসভূম। ভক্তদের পবিত্র প্রাসাদ। যার ব্যালকনিতে দাঁড়িয়ে তিনি ভক্তকূলকে ‘দিল সে’’ বলেন – ‘ম্যায় হুঁ না।’

নক্ষত্ররা দূর আকাশে থাকেন। স্বচ্ছ্ব আকাশে উজ্জ্বল হয়ে, নীলাভ আকাশে অদ্ভুত মায়া হয়ে, বিষণ্ন আকাশে আড়াল হয়ে। কখনো কখনো জিততে গেলে হারতে হয়, তারপর ‘চাক দে ইন্ডিয়া’র কবিরের মত দুরন্ত কামব্যাক করতে হয়। শাহরুখ খান শিখিয়েছেন এসব। শুরু থেকেই সাহসী। আরো বুঝিয়েছেন, জীবনটা সার্কাস। তাই ‘দেবদাস’ হয়ে চোখ ভেজানোর পরমূহুর্তে উঠে দাঁড়িয়ে ‘বাজিগর’-এর মত বাজিমাত করুন।

একজন প্রেমাতুর হিরো, একজন দুধর্ষ ভিলেন, একজন বিতর্কিত, একজন রেকর্ড ব্রেকার। সবমিলিয়েই ‘ডিয়ার জিন্দেগি’র এগিয়ে চলা। সাফল্যে যেমন ‘স্বদেশ’-এর নভোযান উড়িয়েছেন বিশ্বাকাশে, তেমনি ফুলিয়ে তুলেছেন সবার গর্বিত বুক। নিজেকে ভাঙ্গেন, নিজেকে গড়েন। নিজেই নিজের প্রতিদ্বন্দ্বী হয়ে আবির্ভূত হন নিজেকে ছাড়াবার নেশায় মত্ত মানবরূপে। সে খেলায় তিনি সফল, ভীষণভাবে সফল। তাই তিনি আলাদা, সবার চেয়ে আলাদা।

শাহ রুখ নামের বাংলা অর্থ রাজ মুখ। আড়াই দশকের ক্যারিয়ারে প্রমাণ করে যাচ্ছেন নামের সার্থকতা। পদ্মশ্রীপ্রাপ্ত ড. শাহরুখ জিতেছেন ভুরি ভুরি সম্মাননা। তার শোকেসে স্থান পাওয়ার গৌরবে সম্মাননারা মিলে যদি কখনো তঁকে আরেকটি সম্মাননা দেয়, তাতে বিন্দুমাত্র অবাক হবার অবকাশ নেই!

তাকে নিয়ে লিখতে গেলে শেষ হবে না। তার জন্যে ভালবাসার আগে পাগলামি বরাদ্দ। মাঝে মধ্যে উন্মাদ হতে হয়, ‘ডার’ মুভির ভিলেনের ন্যায়। আবার বিনা টিকিটের ট্রেন যাত্রীর ফিরতি কোচে দুলহানকে সাথে করে নিয়ে যাবার সাহস সবাই দেখাতে পারে না। তবে, তিনি পারেন।

অনেক হলো। চিরসবুজ কিং খান না থামলেও আমাদের থামতে হবে। তার আগে সুবিশাল বৃক্ষ যার শেকড় থেকে শিখড় পর্যন্ত মুগ্ধতার পরিপূর্ণতা তাকে দূর থেকে ভালবাসা পাঠাতে হবে। রাজ, যাব তাক হ্যায় জান, দিল তো পাগাল হ্যায় মোহাব্বত কি জোশ মে।

অলিগলি.কমে প্রকাশিত সকল লেখার দায়ভার লেখকের। আমরা লেখকের চিন্তা ও মতাদর্শের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। প্রকাশিত লেখার সঙ্গে মাধ্যমটির সম্পাদকীয় নীতির মিল তাই সব সময় নাও থাকতে পারে।