খানদের এই হিট ছবির ভিনদেশি ছবির ‘নকল’

বিশ্বের অন্যতম বিশাল সিনেমা শিল্প হল ভারতীয় ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রি। যদিও, বলিউডের গল্প স্বল্পতার সমস্যা বহুদিনের পুরনো। এমনকি তিন খানকেও প্রায়ই ভিনদেশি সিনেমার গল্প ধার করতে হয়।

  • জো জিতা ওহি সিকান্দার (১৯৯২)

ছবিতে দেখা যায় ছোট শহরের এক সাদামাটা তরুণ (আমির খান) আরেক তরুণীর (পুজা বেদি) মন জয় করতে অংশ নেন কলেজ ইভেন্টে। সেটা নিয়ে ঘটে নানা ঘটনা। হুবহু একই গল্প নিয়ে ১৯৭৯ সালে হলিউডে নির্মিত হয় ব্রেকিং অ্যাওয়ে। যদিও, ‘জো জিতা ওহি সিকান্দার’ নব্বইয়ের দশকে আমির খানের করা আইকনিক ছবিগুলোর একটি।

  • বাজিগর (১৯৯৩)

এখন অবধি শাহরুখের ক্যারিয়ারের অন্যতম সেরা ছবি। জেমস ডিয়ারডেন নির্মিত হলিউডের ১৯৯১ সালের ইরোটিক থ্রিলার ‘আ কিস বিফোর ডাইং’-এর ভারতীয় সংস্করণ হল ‘বাজিগর’। ছবিটি ক্যারিয়ারের ‍শুরুর দিকে খ্যাতি এনে দেয় শাহরুখ খানকে। ছবিটির জন্য ফিল্ম ফেয়ারে সেরা অভিনেতার পুরস্কার পান এসআরকে।

  • জুড়ুয়া (১৯৯৭)

কমেডি, রোম্যান্স ও অ্যাকশন ঘরানার জুরুয়া নাগার্জুনের তেলেগু ছবি হ্যালো ব্রাদারের অফিসিয়াল হিন্দি রিমেক। তবে, হ্যালো ব্রাদার্সের গল্পটা নেওয়া হয়েছিলো হংকংয়ে মুক্তি পাওয়া জ্যাকি চ্যানের ১৯৯২ সালের ছবি ‘টুইন ড্রাগন্স’ থেকে।

  • আকেলে হাম আকেলে তুম (১৯৯৫)

আমির খান ও মনিষা কৈরালা অভিনীত ছবিটি ১৯৭৯ সালের হলিউড ছবি ‘ক্র্যামার ভার্সেস ক্র্যামার’ গল্প অবলম্বনে নির্মিত হয়েছে। মূল ছবিতে ছিলেন দুই কিংবদন্তি – ডাস্টিন হফম্যান ও মেরিল স্ট্রিপ।

  • মোহাব্বাতে (২০০০)

রোম্যান্টিক ঘরানার ছবিটি হলিউডের কালজয়ী ছবি ‘ডেড পয়েটস সোসাইটি (১৯৮৯)’ থেকে অনুপ্রাণিত। মূল চরিত্রে অভিনয় করেছিলেন রবিনস উইলিয়ামস। শাহরুখ খানের মত তিনিও অনুপ্রেরণাদায়ী এক শিক্ষকের ভূমিকায় অভিনয় করেন। ছবিটি দিয়ে সমালোচকদের দৃষ্টিতে ফিল্ম ফেয়ারে সেরা অভিনেতার পুরস্কার পান শাহরুখ।

  • মান (১৯৯৯)

রোম্যান্টিক ঘরানার ছবিটিতে কেন্দ্রীয় চরিত্রে ছিলেন আমির খান ও মনিষা কৈরালা। এটা হলিউডে ১৯৫৭ সালে মুক্তি পাওয়া ‘অ্যান অ্যাফেয়ার টু রিমেম্বার’-এর ফ্রেম টু ফ্রেম কপি।

  • ম্যায়নে প্যায়ার কিউ কিয়া (২০০৫)

রোম্যান্টিক কমেডি ঘরানার ছবিতে সালমান খানের সাথে ছিলেন ক্যাটরিনা কাইফ ও সুস্মিতা সেন। তবে, ছবিটা ১৯৬৯ সালের হলিউড ছবি ‘ক্যাকটাস ফ্লাওয়ার’-এর পুন:নির্মান।

  • গজনি (২০০৮)

হলিউডে ২০০৮ সালে ক্রিস্টোফার নোলান নির্মিত ‘মেমেন্টো’র ভারতীয় সংস্করণ নির্মান করেন পরিচালক এ আর মুরুগাদোস। তিনি একই গল্প অবলম্বনে ও একই নামে তামিল ও হিন্দিতে ছবিটি নির্মান করেন। হিন্দি ছবিতে কেন্দ্রীয় চরিত্র করেন আমির খান।

  • পার্টনার (২০০৭)

২০০৫ সালের হলিউড ছবি ‘হিচ’-এ উইলস্মিথ যে ভূমিকাতে ছিলেন ‘পার্টনার’-এ ঠিক একই কাজটাই করেন সালমান খান। ডেভিড ধাওয়ানের পরিচালনায় ছবিতে আরো ছিলেন গোবিন্দ ও ক্যাটরিনা কাইফ।

  • ফ্যান (২০১৬)

ব্যবসায়িক ভাবে সফল না হলেও শাহরুখ খানের অভিনয় আলোচিত ছিল। রুপালি পর্দার একজন সুপার স্টার (আরিয়ান খান্না) আর তারই এক পাগল ভক্তের (গৌরব চাঢ্ঢা) চরিত্র করেছেন কিং খান। ছবিটি ১৯৯৬ সালে মুক্তি পাওয়া রবার্ট ডি নিরোর হলিউড ‘দ্য ফ্যান’-এর গল্প থেকে অনুপ্রাণিত।

  • প্রেম রতন ধান পায়ো (২০১৫)

সালমান খান ও সোনম কাপুর অভিনীত ব্যবসাসফল ছবি ‘প্রেম রতন ধান পায়ো’ ছবিটি নির্মিত হয়েছে কোরিয়ান ছবি ‘মাসকুয়েরেড’ অবলম্বনে। মাসকুয়েরেড নির্মিত হয়েছিল অ্যন্থনি হোপের ‘দ্য প্রিজনার অব জেন্ডা’ উপন্যাস অবলম্বনে।

অলিগলি.কমে প্রকাশিত সকল লেখার দায়ভার লেখকের। আমরা লেখকের চিন্তা ও মতাদর্শের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। প্রকাশিত লেখার সঙ্গে মাধ্যমটির সম্পাদকীয় নীতির মিল তাই সব সময় নাও থাকতে পারে।