আমি পেছনের দরজা দিয়ে বের হওয়ার ছেলে না: সুজন

কাগজে কলমে পদটার নাম টেকনিক্যাল ডিরেক্টর হলেও, খালেদ মাহমুদ সুজন পালন করেছেন কোচের দায়িত্ব। এবার চলমান প্রিমিয়ার লিগে প্রথম বিভাগ থেকে উঠে আসা শাইনপুকুরের কোচ তিনি। বলাই বাহুল্য যে, আবাহনীর কোচও এই সুজনই। মিরপুরে শনিবার অবশ্য ছিলেন শাইনপুকুরের ডাগআউটে। কথা বললেন অবশ্য জাতীয় দল নিয়ে।

লিগ থেকে শেখার সুযোগ কতটুকু? নিজেদের করনীয় কি?

একটু না অনেক আছে। বড় কথা যে যেভাবে তামিম সাকিব মুশফিক রিয়াদ যেভাবে ব্যাটসম্যানদের কথা যদি বলি। নিজেদের যেভাবে তুলে ধরছে একেকজন ক্রিকেটার হিসেবে। দারুণ কঠিন পরিশ্রমেরই ফসল। বোলার যদি দেখেন, এখনও মাশরাফি যেভাবে প্রিমিয়ার লিগে বল করে, একজায়গায় বল করে কনসেসটেনসি দারুণ। সেটার ফলস্বরুপ শেষ ম্যাচে ৫ উইকেট নিল, ম্যাচসেরা হল। বোলারদের আসলে মাশরাফীর থেকে। আমরা যখন ক্রিকেট খেলতাম, বড় হয়েছি তখন আমাদের কিন্তু স্থানীয় রোল মডেল ছিল না। এখনকার ছেলেরা অনেক লাকি যে তাদের কাছে লোকাল রোল মডেল আছে। তামিম রোল মডেনল সাকিব রোল মডেল। মাশরাফী রিয়াদ। মাশরাফী দেখেও কিন্তু অনেক কিছু শিখতে পারে ফাস্ট বোলাররা। এখনও কতটা পরিশ্রমী বা নিজের ট্রেনিংটা কত ঠিকভাবে করে। এখনও যদি ওর শরীর দেখেন এখনও একটু মেদ হলেই বাড়তি রানিং করে সেটা সাকিবের ক্ষেত্রেও। ফাস্ট বোলারদের জন্য কনসিসটেনসি খুব দরকার। এবং ট্রেনিং ওরা ট্রেনিং করে না তা না। একটা পারপাস ওয়াইজ ট্রেনিং খুব গুরুত্বপূন।  এখন আন্তজাতিক ক্রিকেট এত মডান হয়ে গেছে। টাফ হয়ে গেছে। টিকে থাকতে হলে কঠোর পরিশ্রম করতে হবে।  গেম সেন্স, নলেজ, এক্সিকিউশন। এক্সিকিউশনটা ঠিকমতো হচ্ছে না আমাদের।

মাশরাফি সাক্ষাতকারে বলেছেন সুজন ভাই ফাইট করতে পছন্দ করেন। টিমটা কঠিন পর্যায়ে আছে। চাওয়া ছিল আপনি পেছনের দরজা দিয়ে যাবেন না হাতুরুর মত?

সেটা তো আমি কোনোসময়ই যেতে চাই না। আমি সবসময় ফাইট করি। ফাইট করতে পছন্দ করি।  আমি জানি যে একটা সিরিজ আমরা ভাল করিনি। প্রত্যাশা অনুযায়ী আমরা খেলতে পারিনি। যেই রেজাল্ট হয়েছে এটা প্রত্যাশিত ছিল না। আমরা এর চেয়ে বেটার টিম, বেটার খেলতে পারতাম। বেটার খেলেছি এর আগেও। এটা হয়ে গেছে, বিভিন্ন কিছু ছিল হয়তবা, প্লেয়ারদের সার্ভিসটা আমরা মিস করেছি হয়তবা। তারপরও এটা তো আমাকে বোড থেকে একটা কাজ দেয়া হয়েছিল। ট্যুর বেসিস।

বেশ কিছু ব্যাপার নিয়ে এক্সসটেড। কথাগুলো বললে আসলে হয়ে যায় আমি খুব কমপ্লেইন করে। নট অ্যা কমপ্লেইন। টিমের রেজাল্ট যেহেতু ভাল হয়নি। সবাই ফরেন কোচের ব্যাপারে দাবি আছে। আমিও চাই ভাল কোচ আসুক, বেটার হোক। বাংলাদেশ ক্রিকেট এগিয়ে যাক। দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে…কখনও পিছপা হয় নাই। যে কোনো মহুর্তে দায়িত্ব দিয়েছে মাথা পেতে নিয়েছি চেষ্টা করেছি  এফোট করতে। এত বেশি কথা হয়েছে এই সিরিজটাতে আমিও হয়ত একটু ওভার রিঅ্যাক্ট করেছিল, ইমোশনাল হয়ে গিয়েছিলাম। গণমাধ্যম অনেকেই হয়তবা খুব পার্শিয়ালি জিনিসটা নিয়েছে। আমি কাউকে মিন করে বলিনি বা বাংলাদেশ ক্রিকেটে অবশ্যই গণমাধ্যমের অবদান অনেক আমি এটা সবসময়ই স্বীকার করতেই হবে। ইন্টারন্যাশনালি আমাদের ক্রিকেটকে এক্সপোজ করার জন্য অনেক অবদান। সেটার জন্য আমি অনেক সরি, আমি যদি কাউকে হাট করে থাকি, হাট করার জন্য বলেনি ইমোশন থেকে বলেছি। যেটা বললাম আমি পেছনের দরজা দিয়ে বের হওয়ার ছেলে না।

মাশরাফী আমাকে অনেকদিন ধরেই চেনে। মাশরাফির ছোটবেলা আমার সাথে বড় হওয়া। তো আমি প্রেসার নিতে পছন্দ করি কঠিন সময়ে ফাইট করতে চাই এটাই আমার বৈশিষ্ট্য। দেখি কী হয়।

যদি দায়িত্ব দেয়?

সেটা তো আমি বললাম। কখনও তো মানা করিনি। তবে ধারণা একটা আছে হয়ত ভাল কোচ ছিল না বলেই টিম ভাল করেনি।  স্পষ্ট একটা কথা বলতে চাই। অনেক কিছুর ভীড়ে পারফরম্যান্সের ব্যাপারটা আসে না। এটা মানতেই হবে আমরা ভাল ক্রিকেট খেলি নি। মানতে চাই না। আমরা বলি উইকেটের দোষ, এটা সেটা। উইকেটের দোষ না। যদি ওরা পারে আমরা পারব না কেন।  ভাল ক্রিকেট খেলিনি এটা মানতেই হবে।

অনেক কথার ভীড়ে আসল কথা হারিয়ে যায়। আমি চাই ক্রিকেটারদের কষ্ট করতে হবে। আমাদের যে কোনো পরিস্থিতিতে ফাইট করতে হবে। লড়ার মানসিকতা।

দল কেমন হবে শ্রীলঙ্কায়? আবার এক্সপেরিমেন্ট করবেন কিনা?

এটা আমার একটা আপত্তি আছে। আমরা কোনো এক্সপেরিমেন্ট করি নাই (একটু ক্ষেপে)। আমরা পারফরম্যান্সকে মূল্যয়ন করার চেষ্টা করেছিলাম। এক সাকিব না থাকলে অনেক সময় সমস্যা হয়। সাকিবের অভাব পূরন করতে ২ জন লাগে। সাকিব ফিরে আসলে আমরা উত্তরন পাই। যারা গত সিরিজে টি-টুয়েন্টিতে সুযোগ পেয়েছিল সবাই এক্সসাইটিং ক্রিকেটার, ফিউচার ক্রিকেটার। আমাদের তো কোনো না কোনো জায়গায় ইয়াংস্টারদের এক্সপোজার দিতে হবে। আমি মনে করি টেস্ট ও ওয়ানডে আমরা খুব ভাল খেলি। ওখানে এক্স…দেওয়ার মতো হয়নি। টি-টোয়েন্টিতে শুরু করতে হবে। একটা সময় খেলোয়াড়শূন্য হয়ে যাবেন সত্যি কথা বলতে গেলে। সামনে যে লম্বা সূচি আসছে বাংলাদেশ টিমের সেখানে দেখা যাচ্ছে প্রায় ১৫৫ দিন আমরা ট্যুরের মধ্যে থাকব। এর মধ্যে বিশ্রাম নেই। এর মধ্যে ইনিজুর থাকতে পারে, অফফম থাকতে পারে। ভবিষ্যতের কথা ভেবে প্লেয়ার তো তৈরী করতে হবে ২০১৯ থেকে। এখনও কিছু প্লেয়ারকে এক্সপোজার দিতে চাই কিন্ত হয়তবা এটাও আবার বলি প্রেসারের কারনে হয়তবা চিন্তা করতে হবে। ফিরে যেতে হবে পুরনো প্লেয়ার যারা অভিজ্ঞ আছে। নিদাহাস কাপ যেহেতু ভারত আছে, শ্রীলঙ্কা যেহেতু অন্য জায়গায় খেলছি। একটু অভিজ্ঞ প্রয়োজন হবে বলে আমি মনে করি।

মাশরাফির সঙ্গে আলোচনার কতটুকু অগ্রগতি?

অগ্রগতি এটা সম্পূর্ণ মাশরাফির উপর নির্ভর করে। ও এখনও সামর্থ্যপূর্ণ। যেহেতু ও অবসর ঘোষণা করেছে তাই ব্যাপারটা সম্পূর্ণ ওর উপর। যদি ও খেলতে চায় তাহলে বোর্ডকে জানাতে হবে, নির্বাচনের বিষয়টা আমরা চিন্তা করবো।ও খুবই গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড়, বিশেষ করে নতুন বলে। আমরা সবাই জানি নতুন বলে পাওয়ার প্লেতে আমাদের বোলিংটা ভালো হচ্ছে না। বিশেষ করে টি-টুয়েন্টিতে এমনকি ওয়ানডেও ও অপ্রতিরোধ্য প্রতি ম্যাচেই ভালো খেলছে। আশা করি ও ইতিবাচক হিসেবেই নিবে। তবে এটা সম্পূর্ণ ওর ব্যক্তিগত ব্যাপার। শ্রীলঙ্কায় আমি তখন দলের সঙ্গেই ছিলাম। ও এক মুহূর্তও বলে নাই যে ও অবসর নিবে। আমি শুনেছি যখন টস হয়, তখন আসলে ওর সঙ্গে আলোচনা করার কোন সুযোগই ছিলো না। কারন ও ঘোষণাটা দিয়েছে আন্তর্জাতিক লেভেলে। এখন এটা ওর উপরই। ও যদি ফিরে আসে তাহলে বাংলাদেশের জন্য ভালোই হবে।

এটা আসলে আমি ওকে বলি যে ওকে চিন্তা করতে খেলবে কি না। তবে আমি মনে করি না সে এখনও ওইভাবে চিন্তা করেছে। আমি ওকে বলেছিলাম ইতিবাচক চিন্তা করতে। তবে আমার মনে হয়না ও ফিরে আসতে চাইবে।

মেন্টর হিসেবে মাশরাফি ভূমিকা রাখবেন?

যেহেতু মাশরাফি প্রিমিয়ার লিগে খেলছে তাই কোন সুযোগই নেই তার ক্লাব এটা মেনে নিবে না। তবে যদি জাতীয় দলে সুযোগ পায় তাহলে সেটাতো বড় ব্যাপার। নেতিবাচক হলেও আমি মনে করি মাশরাফিও দেশের জন্য সবসময় চিন্তা করে দেশের জন্যই ক্রিকেট খেলে, দেশের জন্যই খেলেছে সবসময়। তারপরও এটা ওর ব্যক্তিগত ব্যাপার যেটাকে আমাদের সম্মান করতেই হবে। যেহেতু ও অবসর নিয়েছে সেখান থেকে ফিরে আসবে কি না এটা বড় ব্যাপার। যদি আসে তবে খুবই ভালো যদি না আসে তাহলে ওর সিদ্ধান্তকে অবশ্যই সন্মান করি। ও যে সিদ্ধান্ত নিবে সেতা ওর ভালো এবং দেশের ভালোর জন্যই নিবে।

টেস্ট ক্রিকেটে কি মাশরাফির ফেরার সম্ভাবনা আছে?

না, আমার সাথে হয়নি, এটলিস্ট আমি এটা বলতে পারি আমার সাথে হয়নি। যদিও এটা খুব ইন্টারেস্টিং যে ও বেশ কিছু ফার্স্ট ক্লাস ক্রিকেট খেলেছে। আমিও অনেক খুশি ও খেলেছে। অনেক সময় ও খেলতে পারে না। ইনজুরির জন্য খেলতে পারে না কিংবা বাংলাদেশ জাতীয় দলের খেলা থাকার কারণে পারে না। এবার খেলেছে এবং সেখানে সে ভালো পারফরমও করেছে। আমি জানিনা সামনে আসলে টেস্ট ম্যাচে মাশরাফি আসলে কি চায় কি চাচ্ছে আমি জানিনা। তবে  আমি খুব খুশি যে সে এখনও ওয়ানডে ক্রিকেটের বড় প্রতিযোগী। সবসময় যেখানেই খেলে, ক্লাব ক্রিকেটেও সে খুব ভালো প্রতিযোগী। মাশরাফি থাকা মানে এক্তা দলের অর্ধেক জয় পাওয়া হয়ে জায় বলতে গেলে।

Related Post

অলিগলি.কমে প্রকাশিত সকল লেখার দায়ভার লেখকের। আমরা লেখকের চিন্তা ও মতাদর্শের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। প্রকাশিত লেখার সঙ্গে মাধ্যমটির সম্পাদকীয় নীতির মিল তাই সব সময় নাও থাকতে পারে।