অপেক্ষার ফল মধুর হয়

কেভিন ও ব্রায়েনের সব কিছুই ভুতুড়ে। সব কিছু মানে আক্ষরিক অর্থেই সব কিছুই। তাঁর চুল, তাঁর শট, তার সেঞ্চুরি।

২০১১ বিশ্বকাপের সেঞ্চুরির কথা মনে আছে? পুচকে একটা দলের হয়ে খেলতে নেমে ৬৩ বলে ১১৩ বলের ইনিংসের কথা তাঁর আগে তো  কেউ কল্পনাও করতে পারেনি। সেটাও আবার জেমস অ্যান্ডারসনের একের পর এক স্লেজিংয়ের জবাব দিয়ে।

সেবার ব্যাঙ্গালুরুতে জেমসের একটা ভাল ডেলিভারির প্রশংসা করেছিলেন কেভিন। জেমস এগিয়ে গিয়ে জানতে চাইলেন, ‘তুমি ডেলিভারির ভাল খারাপের কি বুঝো!’ কেভিন হেসেছিলেন। কিছু না বলে, জবাবটা দিলেন পরের বলে। ছক্কা হাঁকিয়ে আঙুল দিয়ে দেখালেন, ‘এটা হল বাজে ডেলিভারি।’

সেই কেভিনের বয়স এখন ৩৪ হয়ে গেছে। মিডলসেক্স, নটিংহ্যাম্পশায়ার, সামারসেটের হয়ে প্রথম শ্রেণির ম্যাচ খেলেছেন বিস্তর। ব্যাটিং গড়টাও মন্দ নয় ৩৭.১০। কিন্তু, নিজের দেশটা যে আয়ারল্যান্ড, আদৌ কি আর টেস্ট খেলার স্বপ্ন পূরণ হবে!

আইসিসির বদান্যতায় সেই স্বপ্নটা পূরণ হল ক্যারিয়ারের একদম শেষ বেলায় এসে। কেভিন টেস্ট খেলতে নামলেন। এবার ভুতুড়ে কিছু হবে না, সেটাই বা কে বললো।

হলও বটে। পাকিস্তানের বিপক্ষে প্রথম ইনিংসে ১৩০ রানে অল আউট হয়ে ফলোওনে আবার ব্যাট করতে নামার পরই যখন আইরিশদের টেস্ট স্ট্যাটাস নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছিল, তখন আর চুপ থাকতে পারেননি কেভিন। ২১৬ বল খেলে ১১৮ রানের অপরাজিত ইনিংস খেলে ফেলেছেন। ১২ টি চারের এই ইনিংসের সুবাদে অভিষেক টেস্টেই অঘটনের স্বপ্ন দেখতে শুরু করেছে আয়ারল্যান্ড, তাঁদের প্রিয় প্রতিপক্ষ পাকিস্তানের বিপক্ষে।

আর সেটা করেই খুব বিরল একটা এলিট ক্লাবের সদস্য বনে গেলেন ‘বুড়ো’ কেভিন। সেই রেকর্ডের ইতিহাসটা জানতে হল ফিরে যেতে হবে ক্রিকেটের ইতিহাসের একদম গোড়ায়।

১৮৭৭ সালের ১৫ মার্চ। ইতিহাসের প্রথম টেস্ট ম্যাচ। প্রথম টেস্টে প্রতিপক্ষ ছিল ইংল্যান্ড ও অস্ট্রেলিয়া। সেই ম্যাচে অস্ট্রেলিয়ান ব্যাটসম্যান চার্লস ব্যানারম্যান ১৬৫ রানের দুর্দান্ত এক ইনিংস খেলেন। অর্জন করেন ইতিহাসের প্রথম টেস্ট সেঞ্চুরিয়ানের খেতাব।

একই সাথে দলের টেস্ট অভিষেক ম্যাচে সেঞ্চুরি করা প্রথম ব্যাটসম্যান হন। এরপর আরো ৬ দলের টেস্ট অভিষেক হলেও কোন দলের ব্যাটসম্যান সেঞ্চুরি করতে পারেনি। প্রথম টেস্টের প্রায় ১১৫ বছর পর ১৯৯২ সালে জিম্বাবুয়ে অভিষেখ টেস্টে ডেভিড হফটন ১২১ রান করে ইতিহাসের দ্বিতীয় ব্যাটসম্যান হিসেবে দলের অভিষেকে সেঞ্চুরি করার কীর্তি গড়েন।

এরপর আবারো আট বছরের অপেক্ষা। এবার অপেক্ষার অবসান ঘটালেন এক বাংলাদেশি, আমিনুল ইসলাম বুলবুল। বঙ্গবন্ধু স্টেডিয়ামে ভারতের বিপক্ষে ২০০০ সালের নভেম্বরে প্রথমবারের মত টেস্টে ব্যাট করতে নেমে সাবেক এই অধিনায়ক করেছিলেন ১৪৫ রান।

এরপর ১৮ বছর নতুন কোনো দল টেস্ট খেলার সুযোগ পায়নি। বুলবুলদের ক্লাবে নতুন কেউ ঢোকার সুযোগ পায়নি।  এবার সেই সুযোগটা পেয়েই কাজে লাগালেন কেভিন।

বাংলাদেশ অবহেলায় হারিয়েছিল বুলবুলকে।  আশা করি, একই ভুল আয়ারল্যান্ড করবে না। অপেক্ষার ফল কতটা মধুর হতে পারে সেটা তো কেভিনই বুঝিয়ে দিলেন আইরিশদের। অভিবাদন, কেভিন!

অলিগলি.কমে প্রকাশিত সকল লেখার দায়ভার লেখকের। আমরা লেখকের চিন্তা ও মতাদর্শের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। প্রকাশিত লেখার সঙ্গে মাধ্যমটির সম্পাদকীয় নীতির মিল তাই সব সময় নাও থাকতে পারে।