ট্র্যাফিকও পুলিশ। তারাই সত্যিকারের পুলিশ।

‘ট্র্যাফিকও পুলিশ। তারাই সত্যিকারের পুলিশ। নিজেদের সাদায় জড়ায় ওরা। একসময় পুলিশের পোশাক সাদা ছিল।’

২০১৯ সালে মুক্তি পাওয়া কন্নড় সিনেমা ‘কাভালুধারি’-র শেষদিকের সংলাপ এটি। ভাবছেন শুরু না বলে শেষ থেকে শুরু কেন করছি? সিনেমাটাই এমন! চার দশক আগে হওয়া তিনটে খুনের কেস বন্ধ হয় ঘটনার অল্প সময় পরই। পৃথিবীতে রোজ অসংখ্য ঘটনা ঘটে।

ভারতের মতো জনবহুল দেশে যার পরিমাণ কয়েকগুণ বেশি। ফ্লাইওভারের নিচে খনন কাজ চলছে। সেখানে এক শিশু আবিষ্কার করে তিনটি মাথার খুলি। পুলিশ আসে, রুটিন তদন্ত করে, তারপর অন্য কাজে মনোনিবেশ করে। নতুন কেস সামলাতেই গলদঘর্ম, পুরনো কাসুন্দি ঘাঁটার সময় কই!

শ্যাম ঘাঁটে! ট্র্যাফিক থেকে পুলিশের ক্রাইম ব্রাঞ্চে আসার প্রবল আগ্রহ শ্যামের। বড়কর্তা কথা কানে তোলেন না। শ্যামও তোলে না, যখন তাকে বলা হয় এই কেস নিয়ে মাথা না ঘামাতে। স্বপ্ন তো সেটিই যা মানুষকে ঘুমোতে দেয় না। শ্যামেরও ঘুম হয় না। একা একা শুরু করে তদন্ত। নিঃসঙ্গ শেরপার মতো, চারিদিকে অকূল পাথার। সে জানে, আঁধারের শেষে আলো আসবে। পেয়ে যায় লক আপ নিউজের এডিটর কুমারকে। দুইজনের তদন্তে একটু একটু করে জট খুলতে শুরু হয়।

কিন্তু সিনেমার জনরা যে থ্রিলার! এত সহজে কী জট খোলে! বরঞ্চ যত এগোয় তত জট পাকে। কী ঘটেছিল চল্লিশ বছর আগে?

নিজের কল্পনায় যতরকম দৃশ্য দাঁড় করানো সম্ভব শ্যাম করায়। তাতে সামনে আসে কেসের তৎকালীন তদন্ত কর্তা মুথান্নার ব্যাপার। মুথান্না এখন বয়সের ভারে নুইয়ে পড়া একা একজন মানুষ। ফিরিয়ে দেয় শ্যামকে। বেশিদিন পারে না। তরুণ অফিসারের আগ্রহ ফের জাগিয়ে তোলে মুথান্নার পুলিশ সত্ত্বাকে। শুরু হয় নতুন রহস্যের খোঁজ।

একটু একটু করে সময় গড়ায়, সাসপেন্স বাড়ে। আইএমডিবিতে আট রেটিং পাওয়া সিনেমাটি একেবারে দূর্দান্তরকম ফাস্ট না হলেও চিত্রনাট্য আর গল্পের সাবলীল উপস্থাপনায় দর্শককে বসিয়ে রাখবে শেষপর্যন্ত। হালকা চালের ব্যাকগ্রাউন্ড মিউজিক, সকলের প্রাণবন্ত অভিনয়ে দারুণ উপভোগ্য সিনেমা উপহার দিয়েছেন পরিচালক হেমন্ত রাও।

অলিগলি.কমে প্রকাশিত সকল লেখার দায়ভার লেখকের। আমরা লেখকের চিন্তা ও মতাদর্শের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। প্রকাশিত লেখার সঙ্গে মাধ্যমটির সম্পাদকীয় নীতির মিল তাই সব সময় নাও থাকতে পারে।