উপমহাদেশের ঘুম কেড়ে নেওয়া এক ভিনদেশি!

তাঁকে নিয়ে সমালোচনার কোনো শেষ নেই। অভিনয় জানেন না, হিন্দি ছবিতে কাজ করেও ঠিক মত হিন্দি ভাষাটা রপ্ত করতে পারেন না, গ্ল্যামার ছাড়া কিচ্ছু নেই, একা একটা সিনেমা টেনে নিয়ে যাওয়ার ক্ষমতা নেই, তারকা নায়ক ছাড়া কাজই করেন না – এত বিতর্ক ও সীমাবদ্ধতার মাঝেও ক্যাটরিনা কাইফ ভারতীয় ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রিতে নিজের আলাদা একটা জায়গা করে নিয়েছেন।

বলিউডের নির্মাতারা জানেন ক্যাটরিনাকে ছবিতে নেওয়া মানেই তিনি এখানে সামান্য সময়ের জন্য হলেও এমন একটা কিছু করবেন যেটা হবে কি না সিনেমার ‘সেলিং পয়েন্ট’। হোক সেটা কোনো গানের দৃশ্য, কিংবা কোনো নাচের মুভমেন্ট, বা অন্য কোনো কিছু। সেজন্য সালমান, শাহরুখ, আমির – তিন খানের ছবিতেই ক্যাটরিনা এখন নিয়মিত মুখ।

ক্যাটরিনা ছবিগুলোতে না থাকলে হয়তো খুব বেশি কিছু যায়-আসতো না। কিন্তু, তিনি ছিলেন বলেই ছবিগুলো বাড়তি একটা আমেজ, বাড়তি একটা গ্ল্যামার পায়। আজকালকার বাজারে তাই ক্যাটের যে বিকল্প নেই সেটা নির্মাতা, প্রযোজক কিংবা শীর্ষ নায়ক – সবাই বুঝে গেছেন।

তিনি ভারত তো বটেই গোটা উপমহাদেশেরই অসংখ্য তরুণের রাতের ঘুম হারাম করে ফেলেছেন। যদিও, উপমহাদেশের এই গ্ল্যামার কন্যা কিন্ত কাগজে-কলমে পুরোদস্তর ইউরোপিয়ান। কার্যত তিনি হলেন অর্ধেকটা ভারতীয়, অর্ধেকটা ব্রিটিশ। তিনি বাবার সূত্রে ব্রিটিশ পাসপোর্টধারী। ভারতে কাজ করেন ওয়ার্ক পারমিটের ভিসা নিয়ে।

আবার মজার ব্যাপার হল, একাধারে তিনি ইতালিয়ান বংশদ্ভুতও। কারণ, মা হলেন ইতালির বাসিন্দা। ক্যাটরিনার জন্ম আবার হয় হংকংয়ে। তিনি তো রীতিমত বহুজাতিক এক তারকা!

ছোটবেলা থেকে তিনি বাবার সান্নিধ্য পাননি বলেই চলে। মা-ই বড় করেছেন। ক্যাটরিনারা আট ভাই বোন। তিন বোন বড়, তিন ভাই ও এক ভাই ছোট। বলিউডে স্কুল ড্রপআউট অভিনেত্রীদের মধ্যে ক্যাটই সবচেয়ে এগিয়ে। কারণ, তিনি আদৌ কখনো স্কুলেই যাননি।

যা শিক্ষা অর্জন করেছেন ঘরে বসে, মায়ের কাছ থেকে। কারণ, তার বাবা-মা ক্রমাগত ভ্রমনের মধ্যে থাকতেন। আর মাত্র ১৪ বছর বয়সেই ক্যাটরিনা মডেলিংয়ের দুনিয়ায় পা রাখেন। সেখান থেকেই ক্যাটরিনা জীবন বদলে যাওয়া শুরু করে।

মডেলিং থেকে রুপালি পর্দায় নাম লিখিয়েছিলেন ক্যাট। শুরু করেন তেলেগু সিনেমা ‘মালিশ্বরি’ দিয়ে। সেখানে এক রাজকন্যার চরিত্র করেছিলেন ক্যাটরিনা। ক্যাটরিনার বিপরীতে ছিলেন তেলেগু ইন্ডাস্ট্রির সুপারস্টার ভেঙ্কটেশ। ‘বুম’ দিয়ে তাঁর বলিউডে অভিষেক হয়। বুম মুক্তি পায় ২০০৩ সালে। ‘মালিশ্বরি’ ২০০৪-এ মুক্তি পেলেও, বুমের আগেই তিনি এই ছবির জন্য চুক্তিবদ্ধ হন।

‘বুম’-এ আরো ছিলেন বলিউডের শাহেনশাহ অমিতাভ বচ্চন ও গুলশান গ্রোভার। ক্যারিয়ারের শুরুটা ক্যাটরিনার আজকের মত ফুলশজ্জা ছিল না। বি গ্রেড ছবি ‘বুম’ বক্স অফিসে মুখ থুবড়ে পড়ে। ২০০৩ সালেই অনুরাগ বসুর পরিচালনায় ‘সায়া’ ছবিতে ক্যাটকে নিতে চেয়েছিলেন প্রযোজক মহেশ ভাট। কিন্ত, ওই সময় ক্যাট একদমই হিন্দি জানতেন না। তাই, মহেশ ভাট আর ঝঁকি নেননি!

সেই বাজে সূচনা এখন অতীত। ক্যাটরিনা এখন দূর আকাশের তারা। তাঁকে দেখা যাবে, কিন্তু ছোঁয়া যাবে না। তিনি হলেন বলিউডের প্রথম তারকা যার আদলে বার্বি ডল বানানো হয়েছে। মাদাম ত্যুসো জাদুঘরে তাঁর মোমের মূর্তি স্থাপিত হয়েছে। ২০০৮ থেকে ২০১৩ – টানা পাঁচবার তিনি এফএইচএম ইন্ডিয়ার বিবেচনায় সেরা আবেদনময়ী নারী হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন।

খুব কম ভক্তই জানেন যে, ক্যাটরিনা কাইফ তাঁর আসল নাম নয়। তাঁর আসল নাম হল কেট টারকুয়োট। ‘বুম’ ছবির প্রযোজক সিনেমা মুক্তির আগেই নামটা পালটে দিয়েছিলেন। আর সেই নামটাই এখন সবার মুখে মুখে শোনা যায়!

Related Post

অলিগলি.কমে প্রকাশিত সকল লেখার দায়ভার লেখকের। আমরা লেখকের চিন্তা ও মতাদর্শের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। প্রকাশিত লেখার সঙ্গে মাধ্যমটির সম্পাদকীয় নীতির মিল তাই সব সময় নাও থাকতে পারে।