‘বেবো’ হয়ে বলিউড আকাশে জ্বলছেন তিনি!

তারকা হওয়াটা বলিউডে কেবল ছবি করার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়, এটা একটা লাইফস্টাইলও বটে। এখানে ফ্যাশন, ফেম, গ্ল্যামার, রেড কার্পেট, গসিপ, পেজ থ্রি, অ্যাওয়ার্ড – অনেক কিছুই আছে। আর এই সব কিছু মেইনটেইন করতে পারেন হাতেগোনা ক’জন। আর সেই গুটিকয়েক তারকাদের একজন হলেন কারিনা কাপুর খান। কাপুর পরিবারের মেয়ে, কিংবা নবাব পরিবারের বউ – এত কিছু পরিচয় ছাপিয়ে নিজের নামেই আজ বলিউডের আকাশে জ্বলছেন তিনি। তিনি নিজেই বলেন, ‘অভিনয় ছাড়া আমি নিজের জীবন কল্পনাই করতে পারি না!’

বলিউড অভিনেত্রী কারিনা কাপুর খানের জন্ম ১৯৮০ সালের ২১ সেপ্টেম্বর। তিনি হিন্দি চলচ্চিত্রের প্রবাদ পুরুষ রাজ কাপুরের ছেলে অভিনেতা-প্রযোজক রণধীর কাপুর ও বলিউড অভিনেত্রী ববিতার ছোট কন্যা। নব্বই দশকের অন্যতম সেরা অভিনেত্রী কারিশমা কাপুর তাঁর বড় বোন।

অবশ্য পুরো কাপুর খানদান এবং কাছের মানুষদের কাছে তিনি ‘বেবো’ বলেই পরিচিত। তাঁর নাম ‘অ্যানা কারেনিনা’ বই থেকে নেয়া হয় জানিয়েছেন তার মা ববিতা। বাবার দিক থেকে কারিনা পাঞ্জাবী। আর মায়ের দিক থেকে তিনি সিন্ধি। ছোটবেলায় কারিনা পারিবারিক কারণে হিন্দু ও খ্রিস্টান দুই ধর্মের আবহে বেড়ে উঠেন। বলিউডের প্রভাবশালী কাপুর খানদানের এই ‘বেবো’ আজ তার জনপ্রিয়তা এবং স্টার ইমেজ দিয়ে আরো উচু করেছেন তার বংশের গৌরব।

২০০০ সালে ‘রিফিউজি’ চলচ্চিত্র দিয়ে তাঁর বড় পর্দায় অভিষেক হয়। বক্স অফিসে সফল না হলে অভিনয় এবং লুক দিয়ে নজর কাড়েন তিনি। ফিল্মফেয়ারে সেরা নবাগতার পুরস্কার লাভ করেন কারিনা। পরের বছর ঐতিহাসিক কাহিনী নিয়ে ‘অশোকা’ সিনেমায় শাহরুখ খানের তার জুটি আলোচিত হলেও সিনেমা ফ্লপ হয় তবে তুষার কাপুরের সাথে ‘মুঝে কুছ ক্যাহনা হ্যায়’ সুপারহিট হিসেবে বিবেচিত হয়।

এরপরে মেলোড্রামাধর্মী ব্লকব্লাস্টার ‘কাভি খুশি কাভি গাম’ সিনেমা দিয়ে তারকা হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেন তিনি। বিশেষ করে ‘বোলে চুড়িয়া’ এবং ‘ইউ আর মাই সোনিয়া’ গান দুটি আজো জনপ্রিয়। শুরুর দিকের সাফল্যের পর তার কয়েকটি বাণিজ্যিকভাবে ব্যর্থ হয় এবং নেতিবাচক সমালোচনা অর্জন করে। ২০০৪ সাল ছিল তার ঘুরে দাঁড়ানোর সময়।

এই বছর তিনি ‘চামেলি’ চলচ্চিত্রে একজন যৌনকর্মীর ভূমিকায় এবং ‘দেব’ চলচ্চিত্রে দাঙ্গা কবলিত এক নারী আলিয়ার ভূমিকায় অভিনয় করেন। ২০০৬ সালে তিনি উইলিয়াম শেকসপিয়র রচিত ‘ওথেলো’ নাটকের ছায়া অবলম্বনে নির্মিত ‘ওমকারা’ চলচ্চিত্রে মূল নাটকের ডেসডিমোনা চরিত্রের ছায়া অবলম্বনে সংকলিত ডলি মিশ্রা ভূমিকায় অভিনয় করেন। তার এই ভূমিকায় অভিনয়ের জন্য তিনি ফিল্মফেয়ার শ্রেষ্ঠ অভিনেত্রী সমালোচক পুরস্কার লাভ করেন। অভিনেত্রী হিসেবে ‘ওমকারা’ তাঁকে এক আলাদা জায়গা তৈরী করতে সাহায্য করে।

তবে আক্ষরিক অর্থে তিনি সুপারস্টার খেতাব লাভ করেন ২০০৭ সালের ‘জাব উই মেট’ চলচ্চিত্রে গীত চরিত্রে অভিনয়ের মধ্য দিয়ে। এই সিনেমার জন্য ফিল্মফেয়ার শ্রেষ্ঠ অভিনেত্রী পুরস্কার লাভ করেন। সুপার ডুপার হিট এই রোমান্টিক সিনেমা তাকে সফলতার শিখরে নিয়ে যায়।

এরপর ২০১০ সালের ‘উই আর ফ্যামিলি’ চলচ্চিত্রে তার ভূমিকার জন্য ফিল্মফেয়ার শ্রেষ্ঠ পার্শ্ব অভিনেত্রী পুরস্কার লাভ করেন। বলিউডের হাতে গোনা যে ক’জন অভিনেত্রী আছেন যারা তিন খানের সাথেই কাজ করার সুযোগ পেয়েছেন তাদের মধ্যে অন্যতম একটি নাম কারিনা কাপুর। এছাড়া অমিতাভ বচ্চন থেকে শুরু করে অনিল কাপুর, হ্নতিক রোশান, অভিষেক বচ্চন, অজয় দেবঘন, শহীদ কাপুর, অক্ষয় কুমার, সাঈফ আলী খান, থেকে তুষার কাপুর, অর্জুন কাপুর, ফারদিন খান, ইমরান খান-সহ প্রায় সকল সিনিয়র জুনিয়র সুপারস্টার অভিনেতার সাথে স্ক্রিন শেয়ার করেছেন তিনি।

এছাড়াও ‘গোলমাল রিটার্নস’, ‘বডিগার্ড’, ‘রা ওয়ান’-এর মতো সফল এবং আলোচিত সিনেমায় অভিনয় করেছেন তিনি। বলিউডের ইতিহাসে সর্বাধিক ব্যবসা সফল চলচ্চিত্র গুলোর মধ্যে ‘থ্রি ইডিয়টস’ (২০০৯) এবং ‘বাজরাঙ্গি ভাইজান’ (২০১৫) চলচ্চিত্রে প্রধান নারী ভূমিকায় করেও সাফল্য লাভ করেন তিনি। আমির বা সালমানের পাশে নিজের অভিনয় দ্যুতি দিয়ে আলোচনায় ছিলেন তিনি।

এছাড়া তাঁর অভিনীত ২০০৯ সালে থ্রিলারধর্মী ‘কুরবান’ এবং ২০১২ সালে ‘হিরোইন’ চলচ্চিত্র দুটি বক্স অফিসে অসফল হলেও সমালোচকদের প্রশংসা অর্জন করে। বলিউডের এই বিখ্যাত ‘পু’ তাঁর জনপ্রিয় ডায়লগ ‘ম্যায় আপনি ফেভারিট হু’ এর মতো চনমনে এক সতেজ অনুভুতি নিয়ে হাজির থাকেন প্রতিটি ইভেন্টে।

অন্য নায়িকাদের সাথে তার বিরোধ পত্রিকায় শিরোনাম হয়েছে অনেকবার। বিপাশা বসু কে ‘কালি বিল্লি’ বলা বা প্রিয়াঙ্কাকে ইগনোর করা, আমিশাকে সহ্য করতে না পারা এসব নিউজ একসময় বি-টাউন গরম করে রাখলেও সময়ের সাথে সাথে নিজেকে বদলেছেন এই অভিনেত্রী। হ্নতিক রোশনের সাথে প্রেমের গুজব থাকলেও অকপটে শহীদ কাপুরের সাথে তাঁর প্রেমের কথা স্বীকার করেছিলেন তিনি।

তবে সেই সম্পর্ক ভেঙে গেলে পরবর্তীতে প্রেম করে বিয়ে করেছেন বলিউডের আরেক জনপ্রিয় অভিনেতা নবাব সাঈফ আলী খানকে। কারিনা কাপুর থেকে হয়েছেন কারিনা কাপুর খান। বিয়ের পর নায়িকারা সফল হননা, বলিউডের এই প্রচলিত মিথ ভেঙে যে কয়জন নায়িকা নিজেদের জনপ্রিয়তা টিকিয়ে রেখেছেন তাদের একজন কারিনা কাপুর খান। ব্যবসাসফল এই সিনেমায় তার অভিনয় প্রশংসা কুড়িয়েছে সকলের।

‘কি অ্যন্ড কা’ সিনেমার বিষয়বস্তু এবং তার অভিনয় আলোচনায় আসে। ব্যক্তিজীবনে এক পুত্র সন্তানের জননী তিনি। মা হবার কারনে দুই বছরের বিরতি দিয়ে এই বছর কামব্যাক করেছেন ‘ভিরে দি ওয়েডিং’ সিনেমা দিয়ে। মুক্তি অপেক্ষায় অক্ষয় কুমারের সাথে ‘গুড নিউজ’।

এই মূহুর্তে কাজ করছেন আমির খানের সাথে ‘লাল সিং চাড্ডা’, ইরফান খানের সাথে ‘আঙরেজি মিডিয়াম’ সিনেমায়। সবকিছু ঠিক থাকলে সামনে করন জোহরের প্রোডাকশনের বিগ বাজেটের মাল্টিস্টারার ‘তাখত’ সিনেমায় একটি ঐতিহাসিক চরিত্রে অভিনয় করার কথা রয়েছে তার। সব মিলিয়ে বলা যায় ক্যারিয়ার এবং ব্যক্তি জীবন দুই মাধ্যমেই সুন্দর সময় পার করছেন এই বলিউড অভিনেত্রী।

Related Post

অলিগলি.কমে প্রকাশিত সকল লেখার দায়ভার লেখকের। আমরা লেখকের চিন্তা ও মতাদর্শের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। প্রকাশিত লেখার সঙ্গে মাধ্যমটির সম্পাদকীয় নীতির মিল তাই সব সময় নাও থাকতে পারে।