কঙ্গনা রনৌত: অন্যরকম একজন ‘কুইন’

‘তুহি মেরি শাম হ্যায়, সুবাহ হ্যায়, তুহি দিন হ্যায় মেরা’ – গানটি ২০০৬ রীতিমত ভারতের সেরা হিট গানে পরিণত হয়েছিল। যেখানো অনুষ্ঠান বা রেস্টুরেন্ট, কিংবা পানশালা – এই গানটা শোনা যেত সর্বত্র। সেবার মহেশ ভাটের ‘গ্যাংস্টার’ ছবিতে এইরকম ভাবেই আলোড়ন তুলেছিলেন এক নবীন কন্যা।

একই বছর বিখ্যাত নায়িকার জীবনী নিয়ে নির্মিত ‘ওহ লামহে’ তেও জনপ্রিয় হয়েছিলেন। অথচ তিনি অডিশন দিতে গিয়ে প্রথম দফায় বাদই পড়েছিলেন। অবশেষে চিত্রাঙ্গদা সিং, কোয়েল মল্লিক, অরুণিমা ঘোষ পেরিয়ে আবার তাঁর ডাক পড়লো ভাট ক্যাম্পে। সময় পেরিয়ে এলো ২০১৪ সাল। কারিনা কাপুরের ছেড়ে দেওয়া ছবি ‘কুইন’ এ অভিনয় করে দর্শক থেকে সমালোচক সবাইকে তাক লাগিয়ে দেন।

এই হিমাচলি কন্যার রুপে মুগ্ধ হয়ে হয়তো কোনো দর্শক নির্ঘুম রাত কাটান না। কিন্তু তাঁর সাবলীল অভিনয়, অধ্যবসায়, স্পষ্টবাদিতা দিয়েই জয় করেছেন দর্শকদের মন। তিনি এই মুহুর্তের বলিউডের অন্যতম সেরা অভিনেত্রী কঙ্গনা রনৌত।

বাবা- মার অনিচ্ছাতেই এসেছিলেন চলচ্চিত্র জগতে। অনেকদিন তাদের সাথে যোগাযোগ ও ছিল না। শোনা যায়, ক্যারিয়ারের শুরুতে বি ক্যাটাগরির সিনেমাজগতে নিজেকে জড়িয়ে ফেলেছিলেন। এক কালের ডাকসাইটে ভিলেন আদিত্য পাঞ্চোলির সাথে লিভ টুগেদারের সম্পর্কও ছিল।

সিনেমা জগতে এসে নানান সময়ে নানান বিতর্কে জড়িয়েছেন তিনি। কিন্তু সব বিতর্কের মাঝেই নিজেকে সামলিয়েছেন। বহু ফ্লপ ছবি গেলেও আবার উঠে দাঁড়িয়েছেন। ‘লাইফ ইন আ মেট্রো’, ‘রাজ’, ‘ওয়ান্স আপন আ  টাইম ইন মুম্বাই’, ‘তানু ওয়েডস মানু’, ডাবল ধামাল সাফল্যের পর ‘কৃশ ৩’ তে খলনায়িকার রুপে এসেও নিজেকে প্রমাণ করেন।

ক্যারিয়ারের শুরুর দিকেই ২০০৮ সালে ‘ফ্যাশন’ ছবি দিয়ে পেয়ে যান শ্রেষ্ঠ সহ অভিনেত্রীর জাতীয় পুরস্কার। এরপর ২০১৪ সালে ‘কুইন’ এবং ২০১৫ সালে ‘তানু ওয়েডস্ মানু রিটার্নস’ ছবির জন্য লাভ করেন শ্রেষ্ঠ অভিনেত্রীর জাতীয় পুরস্কারও। বলিউডের অনেক মহাতারকার কাছে এখনো যেই জাতীয় পুরস্কার অধরা, সেখানে এই স্বল্প ক্যারিয়ারে তিনটি জাতীয় পুরস্কার সত্যিই এক বিস্ময়কর ব্যাপার! এছাড়াও তার ঝুলিতে রয়েছে চারটি ফিল্মফেয়ার পুরস্কার।

যেখানে সব অভিনেত্রী তিন খানের বাহুলগ্ন হবার জন্য মুখিয়ে থাকেন সেখানে তিনি অনায়াসে তাদের সাথে কাজ করতে অনিচ্ছা প্রকাশ করেন। এই স্পষ্টবাদীতা আর লড়ে যাওয়ার ক্ষমতা নিয়েই তিনি আজ বলিউডের ‘কুইন’। অবশ্য আজকাল ক্যারিয়ার খুব ভালো যাচ্ছে না। মুক্তির আগে তুমুল আলোচিত ‘রেঙ্গুন’ ও ‘সিমরান’ গিয়েছিলো ফ্লপের তালিকায়।

মণিকর্ণিকা মোটামুটি সফল, অভিনয়ে বরাবর প্রশংসিত হয়েছেন। সামনেই আসছে ‘মেন্টাল হ্যায় ক্যায়া’, ‘পাঙ্গা’ ও জয়ললিতার বায়োপিক। আশা করা যায়, আবার তিনি সমুজ্জ্বল হবেন, ব্যক্তিজীবনেও স্থির হবেন।

Related Post

অলিগলি.কমে প্রকাশিত সকল লেখার দায়ভার লেখকের। আমরা লেখকের চিন্তা ও মতাদর্শের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। প্রকাশিত লেখার সঙ্গে মাধ্যমটির সম্পাদকীয় নীতির মিল তাই সব সময় নাও থাকতে পারে।