শিক্ষায় ভারতের অগ্রযাত্রা: কমলা হ্যারিস ও অন্যান্য

ছবির এই শিশু কন্যাটি বোধহয় আগামী কয়েক মাসের ভিতর বিশ্বের দ্বিতীয় ক্ষমতাধর ব্যক্তিতে পরিণত হতে যাচ্ছে। কয়েক বছরের মধ্যে হয়তো হতে যাচ্ছে বিশ্বের সর্বোচ্চ ক্ষমতাধর। মেয়েটির শরীরের ভিতর বইছে ভারতীয় রক্ত।

বহু বছর আগের তোলা এই ছবির শিশু কন্যার নাম কমলা হ্যারিস। পুরো নাম কমলা দেবী হ্যারিস। তিনি আমেরিকার প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের ডেমোক্রেট দলের ভাইস প্রেসিডেন্ট পদপ্রার্থী।

কমলা হ্যারিসের মায়ের নাম শ্যমলা গোপালান। দক্ষিণ ভারতের চেইন্নাই জন্ম। দিল্লী ইউনিভার্সিটিতে পড়াশোনা, পরবর্তীতে আমেরিকার ইউনিভার্সিটি অফ ইলিনয়সে ব্রেস্ট ক্যান্সার রিসার্চার হিসেবে যোগদান করে।

কমলা হ্যারিসের জন্ম বেড়ে উঠা মার্কিন মুল্লুকে কিন্তু ভাইস প্রেসিডেন্টের টিকেট প্রাপ্তির পর তাঁর প্রথম অনুভূতি ছিল মা শ্যামলা গোপালানের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ। মা তাঁর মূল অনুপ্রেরণা।

নভেম্বরের মার্কিন নির্বাচনে ডোনাল্ড ট্রাম্পকে হারিয়ে জো বেইডেন প্রেসিডেন্টসি জিতে নিলে কমলা হ্যারিস হতে যাচ্ছে হোয়াইট হাউজের দ্বিতীয় ক্ষমতাধর ব্যক্তি। একই সাথে তার সামনে খুলে যাচ্ছে পরবর্তী নির্বাচনে আমেরিকার প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের সুযোগ।

হয়তো বছর কয়েক পর বিশ্ব দেখবে হোয়াইট হাউজের চেয়ারে ভারতের উত্তরসূরী। ভারতের চেন্নাইয়ের অজপাড়া গাঁয়ের এক কিশোরীর সন্তান হয়তো হতে যাচ্ছে বিশ্বের সবচাইতে ক্ষমতাবান ব্যক্তি।

ভারত কোথায় নেই! আইবিএম, ‍গুগল, মাইক্রোসফট, মাস্টারকার্ড, অ্যাডোবি, নোকিয়া – বিশ্বের সেরা সেরা সব প্রতিষ্ঠানের প্রধান নির্বাহী ভারতীয়রা।

এমনকি এখানকার সকল বড় বড় প্রতিষ্ঠানে ভারতীয় নাগরিকদের জয়জয়কার। আমার এক বন্ধু গার্মেন্টেসে আছে। একদিন কথায় কথায় জানতে চেয়েছিলাম, একজন দেশীয় কর্মী অপেক্ষা ভারতীয়দের বেতন সুবিধা বহুগুণ বেশি দিতে হয়, তবুও মালিকরা কেন টপ পজিশনে ভারতীয়দের রাখে?

আমার বন্ধু বিন্দুমাত্র দ্বিধা না করে উত্তরে বলেছিল, ভারতীয়রা ওই পদের জন্য যোগ্য। ওদের ম্যানেজমেন্ট স্কিল, কমিউনিকেশনের সাথে আমাদের কেউ পেরে উঠে না। বাইরের বায়ারদের সাথে ডিল করতে গেলে সঠিক উচ্চারণে ইংলিশে কথা বলার লোকই মাঝে মধ্যে পাওয়া দুস্কর হয়ে যায়। বাধ্য হয়ে বহুগুণ বেশি সালারিতে কোম্পানিগুলো ভারতীয়দের চাকরি দেয়। কারন ওরা কাজ পারে। ওরা দক্ষ।

২০১৭ সালে ভারতের ট্রানজিট ব্যবহার করে ভুটান ট্যুরে আমার সাথে দুই দম্পত্তির কথা হয়েছিল। বয়স্ক সেই দম্পত্তি প্রতি দুইমাস অন্তর অন্তর শিলিগুড়ি যায়। কারণ, তাদের ছেলেমেয়েরা শিলিগুড়ির বোর্ডিং স্কুলে পড়াশোনা করে। জানতে চেয়েছিলাম দেশে এতো অপশন থাকতে ভারতে বাচ্চাদের পড়াশোনা করাচ্ছেন কেন!

ওরা বলেছিল, দেশের ইংলিশ মিডিয়ামে সেরা সুযোগ সুবিধায় পড়াশোনা করিয়ে, সেরা টিউটর রেখে পঞ্চাশ ষাট হাজার খরচের চেয়ে ভারতের বোর্ডিং স্কুলে এর অর্ধেক খরচে আমার ছেলেমেয়েরা দেশের চেয়ে কয়েকগুণ ভালো পড়াশোনা করতে পারছে। তাঁদের বড় মেয়েকে ভারতে পড়িয়েছে, ছোটকেও পড়াচ্ছে। বুড়বুড়ির কষ্ট হচ্ছে, কিন্তু তবুও তাঁরা নিশ্চিত দেশের চেয়ে ভারতে তাঁদের ছেলেমেয়ে ভালো শিক্ষা লাভের সুযোগ পাচ্ছে।

এমন একটা পরিবার না, বহু পরিবার নাকি ছেলেমেয়েদের ভারতের স্কুলে পড়াশোনা শেখাচ্ছে। কারণ, শিক্ষা ব্যবস্থায় ভারত এগিয়ে গেছে বহুদূর। ভারত এগিয়ে যাচ্ছে, দ্রুত এগিয়ে যাচ্ছে।

আমেরিকার কিশোর কিশোরীদের সম্মানজনক স্পেলিং বি চ্যাম্পিয়ন শিপে গত প্রায় তিন যুগ ধরে একাধারে কেবল আমেরিকা প্রবাসী ভারতীয়দের রাজত্ব। আমেরিকানরা ভারতীয়দের সাথে পারছে না।

২০৪০ সনের মধ্যে ভারতকে বিশ্বের তিনটি প্রভাবশালী দেশের মধ্যে হিসেবে গণ্য করা হচ্ছে। একটা দেশ এমনি এমনি সেরাদের কাতারে যায় না। প্রতিযোগিতায় যেতে হলে ভারতের সমকক্ষ নয় বরং তাদের চেয়ে যোগ্য হতে হবে। নিজেদের কি আমরা তৈরি করতে পারছি?

ভারতের হাজার সমস্যা আছে, উগ্র জাতীয়তাবাদ, মিডিয়া ট্রায়াল, সংখালঘুদের উপর হামলা, এমন বহু সমস্যার পরও বিশ্বের সর্বত্র ভারতীরা ঝাণ্ডা গেড়ে চলছে। আর আমরা এখনও ‘ভারতের মানুষ খোলা আকাশের নিচে হাগে’ বানীতে আত্মতৃপ্তিতে ভুগছি।

ভারত যখন চাঁদে নিজেদের মহাকাশযান পাঠাচ্ছে আমরা তখন খেলনা ড্রোন উড়িয়ে পুলকিত হচ্ছি (সেটাও আইন করে বন্ধ করে দেয়া হয়েছে)। গুগল, মাইক্রোসফট, আইবিএমের টপ পজিশনগুলো যখন ভারতীয়দের দখলে চলে যাচ্ছে আমরা তখন একটা ফেসবুক গ্রুপের অ্যাডমিনকে তেল দিয়ে কূল কিনারা পাচ্ছি না।

টেক্কা দিতে হলে লেভেলে লেভেলে খেলতে হয়, ‘তোরে খাইয়া ফালামু’ , ‘উড়াইয়া দিমু’, ‘ভাসাইয়া দিমু’ বলে টেক্কা দেয়া যায় না।

অলিগলি.কমে প্রকাশিত সকল লেখার দায়ভার লেখকের। আমরা লেখকের চিন্তা ও মতাদর্শের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। প্রকাশিত লেখার সঙ্গে মাধ্যমটির সম্পাদকীয় নীতির মিল তাই সব সময় নাও থাকতে পারে।