মুখোশের আড়ালে আমরা কতটুকই বা দেখতে পারি?

দিওয়ালির দিন আপনি ঘুম থেকে উঠে, বারান্দায় দাড়িয়ে কফির মগে চুমুক দিচ্ছেন আর ভাবছেন আজকে রাতের পার্টি কিভাবে আরো সুন্দর করে করা যায়? বৌ গেছে বাজার করতে আর আপনি ফোন করে একের পর এক রঙিন পানির বোতলের অর্ডার দিচ্ছেন। যেনো কোথাও কোন কমতি না থাকে।

ফোনে অর্ডার দেয়ার সময়ই হঠাৎ করে দরজার বেল বেজে উঠলো। খুলে গিয়ে দেখলেন একজন অপরিচিত দাড়িয়ে। পরিচয় দেয়ার পরেও তাকে চিনতে পারলেন না। তখন অপরিচিত লোকটা তার স্ত্রীর নাম বলে পরিচয় দিলেন। এবার আপনি চিনতে পারলেন। আপনি যার সাথে এক্সট্রা ম্যারেটিয়াল অ্যাফেয়ার চালাচ্ছেন ইনি তারই হতভাগ্য স্বামী।

লোকটা জানালো সে সব জানে আপনাদের এই অবৈধ সম্পর্কের ব্যাপারে। সে শুধু বসে আপনার সাথে হার্মলেস আলোচনা করার জন্যই এসেছে। ভেতরে নিয়ে বসালেন। শুরু হলো আলোচনা।

কিন্তু হুট করেই আলোচনার মাঝেই লোকটা ব্যাগ থেকে পিস্তল বের করে আত্মহত্যা করে ফেললো আপনার সামনেই। হতব্বল আপনি কি বুঝবেন আর কিইবা করবেন? এরই মাঝে আপনার স্ত্রী ফিরে এসেছে বাজার থেকে, দরজায় কলিং বেল।

উপরে যতটুকু বলা হলো তা ৮৫ মিনিটের সিনেমার মাত্র ৭-৮ মিনিট। শাহরুখের ভাষায় বলতে হয়, ‘পিকচার আভি বাকি হ্যায় মেরে দোস্ত!’

হুম সিনেমার শুরু হলো মাত্র। তবে আপনি যেভাবে ভাবছেন, একটা টানটান উত্তেজনার হাই ক্লাস থ্রিলার সিনেমা আপনার জন্য অপেক্ষা করছে সামনে; ব্যাপারটা তেমন না। তবে হ্যাঁ, এই সিনেমায় থ্রিল তো অবশ্যই আছে কিন্তু থ্রিলারের চেয়ে বরং জীবনবোধের একটা একটা অন্য অধ্যায় তুলে ধরবে আপনার সামনে। পরিচালক আপনাকে পুরো সিনেমায় কখনো সেটেল্ড হয়ে বসতে দিবে না। একটা চাপা থ্রিল আপনাকে ডার্ক কমেডির মাধ্যমে দিয়েই যাবে।

এই যে আমরা আমাদের চারপাশের কাছের মানুষগুলোকে যেভাবে দেখি, তারা আসলেই কি সেভাবে থাকে সব সময়? নাকি প্রিটেন্ড করার একটা মুখোশ পরে থাকে। মুখোশের আড়ালে আমরা কতটুকই বা দেখতে পারি? কোন একটা অনাকাঙ্ক্ষিত সিচুয়েশন ছাড়া আপনি/আমি কখনই আমাদের চারপাশের আসল রুপ দেখতে পারবো না। দুম করে একটা বাজে অবস্থার মধ্যে ফেলে দেন, তাহলে দেখবেন আসর চেহারা।

রজত কাপুরের পরিচালনায় এই সিনেমায় অভিনয় করেছেন রনবীর শৌরে, কাল্কি কোয়েচিন, মনোজ পাউহা সহ আরো অনেকেই। ডার্ক হিউমারের সাথে মানুষের মানবিক সম্পর্কগুলো ভালো ভাবেই ফুটিয়ে তোলা হয়েছে গল্পের লেখায়। মাস্ট ওয়াচ টাইপের না হলেও বেশ উপভোগ্য এই সিনেমা।

‘কাদাখ’ হলো এমন একটা সিনেমা যা থ্রিলারের ভাষা কে অনেকটা ডার্ক কমেডির উপর বেইজড করে বানানো। সমাজ ও সামাজিক প্রানী স্বরুপ মানুষের উপর একটা সাটল কমেন্টারি ছিলো তবে বিশেষ কোন কিছুর উপর সরাসরি নিক্ষেপ করা হয়নি। এখানেই সিনেমার আসল স্বার্থকতা।

Related Post

অলিগলি.কমে প্রকাশিত সকল লেখার দায়ভার লেখকের। আমরা লেখকের চিন্তা ও মতাদর্শের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। প্রকাশিত লেখার সঙ্গে মাধ্যমটির সম্পাদকীয় নীতির মিল তাই সব সময় নাও থাকতে পারে।