সেন্সরশিপের ভণ্ডামি, সাম্প্রদায়িকতার ছবি ও কবির সিংয়ের প্রেম

এটা ‘কবির সিং’ সিনেমার রিভিউ নয়। সিনেমাটা আমার খুব একটা পোষায়নি। তা সে যাই হোক, সিনেমাটা দুর্দান্ত ভাবে হিট এবং প্রায় ২৫০ কোটি টাকার ব্যাবসা করছে যেটা মুখের কথা নয়। ফলে আমার পছন্দ অপছন্দ খুব একটা বড় বিষয় নয়।

বিষয়টা হল যে সিনেমাটা কিছু নারীবাদীদের কাছে একেবারেই মনঃপুত হয়নি। তাদের বক্তব্য এই জাতীয় ছবি সমাজকে নষ্ট করবে। কারণ এখানে একজন রগচটা ছেলের তার প্রেমিকাকে থাপ্পর মারা দেখানো হয়েছে। কারণ এখানে একটা মাতাল ছেলের তুরি মেরে তার প্রেমিকাকে ‘ওঠানো’ দেখানো হয়েছে। কারণ এখানে একটা শান্ত মিষ্টি স্বভাবের মেয়ের একজন খ্যাপাটে, রাগী গোছের কলেজের একটা সিনিয়র ছেলের প্রেমে পরে হাবুডুবু খাওয়া দেখানো হয়েছে।

সেই মেয়েকে সেই ছেলেটা না পেয়ে যখন মদে ডুবে যায়, তখন সেই মেয়ের সেই ছেলেটির কাছে ফিরে আসা দেখানো হয়েছে। এমন একজন ছেলের কাছে ফিরে আসা যে তাকে উঠতে বসতে শাসন করে। রাগ হলেই থাপ্পর মারে। আর এতেই নারীবাদীরা বেজায় চটেছেন। আর তাদের এই চটায়, আমিও তাদের উপর বেজায় চটেছি! আর তাই আজ এই লেখা!

  • সেন্সরশিপের ভণ্ডামি

প্রথমেই আবারও বলি, কবির সিং সিনেমাটা নিয়ে আমার কিছু বলার নেই। আমি বলতে চাই সেই সমস্ত নারীবাদীদের বিরুদ্ধে যারা সিনেমায় কি দেখানো হবে, কি দেখানো হবেনা, সেই ব্যাপারে নিয়ম বেঁধে দিতে চাইছেন। আমার বক্তব্য এই জাতীয় অশিক্ষ্যার বিরুদ্ধে যা কিনা ‘সেন্সরশিপ’ এর নতুন সংজ্ঞা বের করতে চাইছে। যুক্তিবাদী ইন্টালেকচুয়ালরা ঠিক যেভাবে কোন যৌন দৃশ্য থাকলে তা বাদ দেওয়ার বিরুদ্ধে চরম আওয়াজ তোলেন, এখানেও তারা একই ভাবে আওয়াজ তুলেছেন। অথচ আমি ব্যক্তিগত ভাবে মনে করি যে কোন শিল্পেই সেন্সরশিপ থাকা কাম্য নয়।

যার যা পছন্দ সে সেটা দেখবে। এবং একটু ভাবলে বোঝা যাবে যে ছত্রাক ছবিতে পাওলি দামের নগ্ন যৌন দৃশ্য ছাড়া ছবিটা অনেকেই দেখেননি। শুধু ওইটুকু দেখেই ক্ষান্ত হয়েছেন। গান্ডু ছবির এই ৫/১০ মিনিটের যৌন দৃশ্য ছাড়া বাকি পুরো ছবিটা দেখার চাপ অনেকেই নেন নি। অর্থাৎ যার যেটা দেখার, সে সেটাই দেখবে। যার যেটা দেখার নয়, সে সেটা কখনই দেখবে না। বা দেখলেও ভ্রুক্ষেপ করবে না। এটাই নিয়ম।

চিরকাল ধরে হয়ে এসেছে এবং হবেও। ফলে এই সেন্সরশিপ বিষয়টাই একটা ইন্টালেকচুয়াল ফ্যাসিবাদ কে বোঝায়। যা আদতে সমাজের কাজে কখনই লাগেনা। ইতিহাস সাক্ষ্য আছে কিভাবে নীলদর্পণ নাটক বন্ধ করা হয়েছিল। উৎপল দত্তের উপর শাসক গোষ্ঠীর কোপ নেমে এসেছিল। একগুচ্ছ রাজনৈতিক ছবি বার বার করে ব্যান করা হয়েছে। কিন্তু যে ছবি, যে শিল্প রুচিশীল, মননশীল, কালজয়ী, তাকে কোন সেন্সরশিপ থামিয়ে রাখতে পারেনি।

সেজন্যেই উৎপল বাবুর ‘কল্লোল’ নাটক প্রতিষ্ঠান বিরোধী হওয়ার দায়ে ব্যান হলেও পরে বিপুল সমাদর লাভ করে; আর সাম্প্রতিক কালে অনিক বাবুর ‘ভবিষ্যতের ভুত’ ব্যান হয়ে নেগেটিভ পাবলিসিটি পেয়েও আদতে ফ্লপ করে। ফলে মোদ্দা গল্প একটাই। এইসব সেন্সরশিপ হচ্ছে চুলের মত একটা ঠুনকো বিষয়। ভাল গল্প, ভাল ছবি হলে লোকে পছন্দ করবে, নাহলে নয়।

পরিচালকের উপর ছেড়ে দেওয়াই ভাল তিনি আমাদের মানে আম দর্শকদের জন্য রেঁধে বেড়ে কি দিচ্ছেন। যদি ভাল লাগে, চেটেপুটে খাবো। নাহলে টান মেরে ছুঁড়ে ফেলে দেবো। কোন প্রতিষ্ঠান বা দল আমাদের কানের কাছে ঘ্যানর ঘ্যানর করবে যে এইটা বাজে ছবি কারন এতে যৌন দৃশ্য আছে, আর এইটা অখাদ্য ছবি কারন এতে মেয়েদের চর মারা দেখানো হয়েছে, এই জাতীয় ছেঁদো মন্তব্য শুনবই বা কেন? সেটাই তো বরং একটা অসুস্থ “রিগ্রেসিভ” সমাজের লক্ষণ!

অনেকের বক্তব্য ছেলেরা মেয়েদের চর থাপ্পর মারছে এসব লোকে দেখলে সমাজ নাকি গোল্লায় যাবে! আজ অব্দি এই পরিসংখ্যান কেউ দিতে পারবে না যে কোন গোয়েন্দা গল্প রিলিস হওয়ার পরের সপ্তাহে শহরে অপরাধ কমেছে! বা রেপ কেস নিয়ে তৈরি কোন সিনেমা শহরে রেপের সংখ্যা কমিয়ে আনতে সাহায্য করেছে!

সিনেমার প্রভাব যদি যুব সমাজে থাকেই, তাহলে তো সবার আগে সলমন খানের ছবি বন্ধ করা উচিৎ যেখানে নায়ক এই পাহাড় ওই পাহাড় লাফাচ্ছে, এক ছুটে রেল লাইন ক্রস করছে (‘কিক’ ছবিতে), খালি গায়ে বন্দুকধারী গুণ্ডাদের কাছে চলে যাচ্ছে মারামারি করতে। এসব দেখলে তো বাচ্ছা গুলো তিন তলা থেকে লাফ দিয়ে পরে ঠ্যাং ভাঙবে। কিন্তু কই? সালমানের ছবি থেকে তো ওগুলো বাদ যায়না? কেন? আমরা অভ্যস্ত হয়ে গেছি বলে?

তাহলে এতেও অভ্যস্ত হন। সময় এসেছে। সিনেমা দেখে ভাল খারাপ যা ইচ্ছা বলুন, গল্পের উপর ভিত্তি করে। অভিনয় নিয়ে বলুন। আরও বেশি বলতে চাইলে ক্যামেরা নিয়ে বলুন। আলো, সেট, কস্টিউম নিয়েও হ্যাজান। কিন্তু সমাজ শোধনকারী বা সমাজ কলুষিতকারী টাইপের কঠিন কিছু বলবেন না। আজ অব্দি সিনেমা সমাজের কল্যানে কিম্বা অকল্যানে কোনটাতেই আসেনি। ভবিষ্যতেও আসবেনা। সিনেমা সিনেমাই ছিল। সিনেমাই থাকবে। ফলে কবির সিং নিয়ে অযথা ফাটবাজি ছাড়ুন।

  • সাম্প্রদায়িকতার ছবি

এবার আসি নারীবাদীদের প্রসঙ্গে। প্রায় এক দশক ধরে এই নারীবাদীরা খুব গজিয়ে উঠেছে। ব্যাপারটা অনেকটা এরকম যে পুরুষদের অত্যাচারে পীড়িত, লাঞ্ছিত, শোষিত, বঞ্ছিত এবং আরও যত ‘ইতো’ আছে, এই সব গুলো হয়ে হয়ে এবার মেয়েরা খেপে গেছে।

তাই অবশেষে তারা আন্দোলনে নেমেছে। আর তাই তাদের জন্যও বাস ট্রামে সিট বরাদ্দ হয়েছে, সিনিয়র সিটিজেন বা দৈহিক ভাবে অক্ষ্যম মানুষ ছাড়াও। তাই তাদের জন্যেও সংরক্ষণ হয়েছে পড়াশোনা বা চাকরির ক্ষেত্রে, যোগ্যতা নির্বিশেষে। অথচ একটু তলিয়ে ভাবলে বোঝা যায় যেকোনো অধিকার বোধের আন্দোলনই কিন্তু অপর পক্ষ্যের অবদমন বোঝায়। যা সাম্য প্রতিষ্ঠার পথে প্রধান অন্তরায়!

লালন ফকির বলে একটা পাগল লোক ছিল। সে নাকি বলতো – ‘এমন মানব জনম কবে হবে, জাতি গোত্র নাহি রবে।’ আমরা কিছু বুদ্ধিজীবীরা সেটাকে বুঝে নিয়েছি হিন্দু মুসলিম, ব্রাহ্মণ, শূদ্র, শিডিউল্ড কাস্ট আর নিচু জাত। আমরা সেখানে সযত্নে নারী পুরুষ এড়িয়ে গেছি! ধরা যাক, আমি যদি কাল সকাল থেকেই ভাবতে শুরু করি সব মানুষ সমান, তাহলে কি হবে বলুন তো! লালনের কথা সত্যি হয়ে যাবে!

এবার ধরুন আমায় যদি সেখানো হয় – ‘তুমি নারী, বহু যুগ ধরে তুমি অত্যাচারিত। এবার তোমায় ছিনিয়ে নিতে হবে তোমার অধিকার।’ আমি কি একা পারবো? কিচ্ছু পারবোনা! শুধু মনে মনে হয়তো এই আন্দোলন কে হাল্কা সমর্থন দেবো এইটা না বুঝে যে আন্দোলনটা আসলে হচ্ছেটা কি নিয়ে?! রাস্তায় কি কেউ নামছে? কিচ্ছু বুঝবো না! একটা ফাঁপা অন্তঃসারশূন্য অধিকারবোধের লড়াইকে মান্যতা দেওয়ার একটা ঠুনকো চেষ্টা করবো!

এইবার ধরুন আমি ছেলে। আমায় বলা হল, ‘বহু যুগ আগে তোমার পূর্ব পুরুষরা অপকর্ম করেছিল। যার ফলে বিগত দশ বছর ধরে নারীরা তাদের অধিকার ছিনিয়ে নেওয়ার আন্দোলনে রত ছিল। আর ছিনিয়ে নিতে নিতে আজ তোমরা কোণঠাসা! এবার আবার তোমাদের ঘুরে দাঁড়ানোর পালা!’ আমিই বা কি করবো, বলুন তো? আমিও একটা ওই ফাঁপা অন্তঃসারশূন্য অধিকারবোধের লড়াই করতে মাঠে নেমে হালে পানি পাবো না!

তাহলে মোদ্দা কথা কি দাঁড়ালো? এই সবটাই হচ্ছে আজকের ভোগবাদের ফল। বাজার অর্থনীতি আমাদের যেভাবে খাওয়াচ্ছে, আমরাও সেভাবে খাচ্ছি। কারন আজকের দিনে দাঁড়িয়েও সার্বিক নিরিখে মেয়েরা অত্যাচারিত। গ্রাম গঞ্জে পণের জন্য বধু নির্যাতনের ঘটনা আজও বিরল নয়। কিন্তু এই সময়টাই আবার ঘুরে যাবে আজ থেকে বছর কুড়ি পরে, যখন পুরুষেরা ‘মিটূ’ বা বধু নির্যাতনের মিথ্যা কেসে ফাঁসানোর বিরুদ্ধে মেয়েদের প্রতি সরব হবে।

তাই এই অধিকার বোধের লড়াই নতুন কিছুর জন্ম দেবেনা, একটা সুক্ষ্য জাতিবিদ্বেষ ছাড়া, পুরুষজাতি, মহিলাজাতি। এই পক্ষ্য, ওই পক্ষ্য। আমরা, ওরা। আর এই দুই পক্ষ্যের লড়াই আমাদের কর্পোরেট সমাজ আয়েশ করে বিজ্ঞাপন, টিভি সিরিয়াল, অফিস, রাস্তা ঘাট, ট্রাম বাস এমনকি কাঁচা বাজারেও পর্যন্ত পরিবেশন করে দেবে! এই সাম্প্রদায়িকতার বীজ যেভাবে সুপরিকল্পিত ভাবে সিনেমার মাধ্যমেও পরিবেশিত হচ্ছে, সেটা বড় আশঙ্কার। কয়েকটা উদাহরণ দেওয়া যাক।

কিছু মাস আগে একটা ছবি এসেছিল। ‘ভিরে দি ওয়েডিং’। সেখানে দেখানো হচ্ছে তিনজন মহিলা যথেচ্ছ কাজকর্ম করছেন যাকে এক কথায় বেলেল্লাপনা বলে। রাস্তা ঘাটে ওপেনলি নিজেদের যৌন জীবন নিয়ে আলোচনা করছেন, লোকজন কিছু বলতে এলে বলছেন আপানাদের কি মশাই, আমার সেক্স লাইফ, আমি যা ইচ্ছা করবো, বলবো ইত্যাদি। এবং সিনেমায় এমন ভাবেই এই চরিত্র গুলো দেখানো হচ্ছে যে দিনের শেষে তারা বাহবা পাচ্ছেন তাদের ‘নিজের দমে নিজের জীবন কাটানোর’ ক্ষমতার জন্য। মেয়েদের ‘সেক্সচুয়াল লিবার্টি’ এবং স্বেচ্ছাচার এক করে দেওয়া হয়েছে এই ছবিতে। অথচ এই ছবি নিয়ে কোন শোরগোল শোনা যায়নি বিশেষ। কারন ওটা মেয়েরা করেছে বলে?!

আর একটা উদাহরণ দেই। সাঞ্জু – সঞ্জয় দত্তর বায়োপিক। ছবিতে দেখানো হচ্ছে সঞ্জু বাবা এক জায়গায় বলছেন উনি অন্তত শ খানেক মেয়েদের সাথে শুয়েছেন। কিন্তু তার বউ সেই কথাটা শুনে হেসেই উড়িয়ে দিচ্ছে! ভাবটা এমন, যা ছিল বিয়ের আগে, এখন তো আর নেই, ফলে দোষের কিছু নেই। অত্যন্ত মুন্সিয়ানার সাথে তৈরি চিত্রনাট্যে রাজু হিরানি হাসি মজার মধ্যে দিয়ে অত্যন্ত ঘৃণ্য অপরাধকেও যেভাবে মান্যতা দিয়ে দেন, তা ওনার পরিচালক হিসাবে দক্ষ্যতা, যদিও শিল্পী হিসাবে অদক্ষ্যতা। এবং তার সাথে সাথে মেয়েদেরও উনি তুষ্ট রাখলেন, কারণ এখানে ‘টেকনিকালি’ মেয়েদের ছোট দেখানো হয়নি! ফলে এই সঞ্জু নিয়েও নারীবাদীরা বিশেষ চিৎকার করেনি। তাদের রাগ হয়েছে কবির সিং এর উপর কারন এখানে সোজাসুজি মেয়েকে থাপ্পর মারা দেখানো হয়েছে!

  • কবির সিংয়ের প্রেম

এত কথা লিখলাম একটাই কারণে। সিনেমাটা লোকজন পাগলের মত দেখেছে। অনেক মেয়েরাও আছে যারা দেখেছে। বারবার গিয়েও দেখেছে। আসলে সমস্যাটা ওই চর মারায় নয়। সমস্যাটা ‘তান্নু ওয়েডস মান্নু – রিটারন্স’-এ মাধবনের কঙ্কনার কাছে ফিরে যাওয়ার মধ্যে। সমস্যাটা ‘রাঞ্ঝানা’ তে সোনামের ঠকিয়ে ধনুষকে মেরে ফেলার মধ্যে।

‘শাদি মে জারুর আনা’-তে রাজকুমারের গল্পের শেষে কৃতি কে বিয়ে করার মধ্যে। ছবিগুলো যারা দেখেছেন, তারা জানবেন সব কটা ছবিতেই ভালবাসা ভাঙ্গা, পরিবার ভাঙা, সম্পর্ক ভাঙ্গা প্রতিটি জিনিষ মেয়েরাই করেছে, এবং শেষে সুন্দর ভাবে ভালবাসার জয়গান দেখানো হয়েছে এবং নায়ক নায়িকার মিল মিশ হয়ে গেছে!

যদিও ‘রাঞ্ঝানা’ ছবিতে এক কাঠি উপরে গিয়ে মেয়ে একটি ছেলেকে (যে তাকে পাগলের মত ভালোবাসতো, কিন্তু মেয়েটি তাকে ভালোবাসতো না, অন্য কাউকে ভালোবাসতো) মেরে ফেলে চোখের জল ফেলছে এমনটাও দেখানো হয়েছে! এই প্রত্যেকটি চিত্রায়নই খুব সাবলীল, যত্ন করে বানানো যা আমাদের ভাবায় সম্প্রদায় গত ভাবে ভালবাসা দেখতে, বুঝতে। যা কিনা মারাত্মক! ‘রাঞ্ঝানা’ যদিও আমার ব্যাক্তিগত ভাবে খুব পছন্দের ছবি, কিন্তু তার কারণ অন্য।

যাই হোক, কবির সিং কিন্তু এসবের উর্ধে! সেখানে প্রেম উদ্দাম। ঠিক আজকাল কার যুগে ছেলে মেয়েদের যেরকম হয়। ওই চর মারা কিন্তু আমাদের খুব পরিচিত। কবির সিং কিন্তু পাশের বাড়ির ছেলে না হলেও খুব একটা অচেনাও নয়। সে হয়তো আমাদের কলেজের দিনের রাজীব আর মেয়েটা হয়তো প্রিয়াঙ্কা।

কবির সিং এর চড় মারা, মদ খাওয়া যেন রাজীবের মত আমাদের মধ্যবিত্ত প্রেমিক সত্তার অনেক কাছের। রাস্তার মোড়ে দাঁড়িয়ে রাজীব আর প্রিয়াঙ্কার ঝগড়ার মত। বাসে যেতে যেতে হুট করে চোখে পরা রাজীবের প্রিয়াঙ্কাকে চর মারা। প্রিয়াঙ্কার কেঁদে চলে যেতে চাওয়া। রাজীবের প্রিয়াঙ্কার হাত টেনে ধরা। মেয়েটার আবার হাত ছাড়াতে চাওয়া। বাস যখন চলতে শুরু করে, আমরা একটা ‘সিন ক্রিয়েট’ হওয়া দেখতে দেখতে আবার নিজের ভাবনায় ডুবে যাই। আর ওরাও দৃষ্টিসীমার বাইরে চলে যায়।

জেনে রাখুন, ওদের মত অনেক রাজীব আর প্রিয়াঙ্কার প্রেম এক হয়েই কবির সিং এর জন্ম হয়। রাজীব আর প্রিয়াঙ্কা হয়তো দেখবেন আজ থেকে পাঁচ বছর বাদে দুই বাচ্ছার বাবা মা। তাদের বিবাহিত জীবনের গরল ও সুধা দুটোই পান করে তারা দিব্য আছে। সুখে। শান্তিতে।

পারলে ওদের বাড়িতে গিয়ে দেখে আসুন। ছাদে কাক চিল ও বসছে। আবার রান্নাঘরে বাসনের ঠোকাঠুকির আওয়াজও আছে। প্রিয়াঙ্কার হলুদের ছোপ ধরা শাড়ির রঙে আর রাজীবের অফিস যাওয়ার সাদা কাচা শার্টে লিপস্টিকের দাগে যে দাম্পত্য প্রেম, সেটাই কবির সিংয়ের জীবনী শক্তি।

তাই নারী বা পুরুষ, সব বাদই বাদ থাক। এরা আমাদেরই লোক। আমরাই রাজীব আর প্রিয়াঙ্কার সমাজ। পরের স্টপে বাস থামলে আর একটা রাজীব আর প্রিয়াঙ্কাকে হয়তো দেখবেন!

Related Post

অলিগলি.কমে প্রকাশিত সকল লেখার দায়ভার লেখকের। আমরা লেখকের চিন্তা ও মতাদর্শের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। প্রকাশিত লেখার সঙ্গে মাধ্যমটির সম্পাদকীয় নীতির মিল তাই সব সময় নাও থাকতে পারে।