কামিয়াব: সাইড কিক কিংবা তরকারির আলু

সিনেমায় সাইড রোল, সাইড কিক বা আলু বলা হয় এদের। সব সিনেমায় এদের লাগে। তাই তারা আলু, কারণ যেকোনো সবজির সাথেই মিশে যেতে পারার অদ্ভুত ক্ষমতা আলুর আছে। তেমনি আছে এই পার্শ্ব অভিনেতাদের। অ্যাকশন, রোম্যান্স, ড্রামা, সাসপেন্স, হরর, থ্রিলার – সব জায়গায় তাঁদের।

তাঁদেরও কোনো কিছুতে আপত্তি নেই। চাইলে, তাঁদের ভুলিয়ে ভালিয়ে কিংবা স্ক্রিপ্ট না দেখিয়ে রগরগে দৃশ্যেও কাজ করানো যায়। তবে, বর্তমানে এদের চাহিদা কম। কিন্তু, ফিল্ম রিলের যুগে প্রডিসারের রিল বাঁচানোর তাগিদে এদের প্রয়োজন ছিল অনেক।

তেমনই এক পার্শ্ব-অভিনেতার গল্প বলেছে ‘কামিয়াব’। ৪৯৯ টা সিনেমা করা একজন সাইড রোলের অভিনেতার ৫০০ তম সিনেমা করার জন্য সংগ্রামের গল্প। তার ফিরে আসার গল্প। আসলে বলিউডের মত ১০০ বছরের পুরনো ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রির এই সিনেমাটা দরকার ছিল।

আমার সিনেমার গল্পের পরে সবচেয়ে বেশি ভালো লেগেছে এর পোষাক পরিকল্পনা। একজন বলিউড ফেরত মানুষের পোষাক তো ঠিক এমনই হওয়ার কথা। লম্বা কলার, বড় কাফ, কালারফুল শার্ট, সাথে নিজেকে ‘জোয়ান’ দেখানোর এক নিশ্চিত প্রচেষ্টা।

কামিয়াবের ফিল্ম ল্যাঙ্গুয়েজ পুরোপুরি বলিউড। হুট করে একটা সিন দেখলে মনে হবে এ বুঝি কোনো মেইনস্ট্রিম মসলাদার ফিল্মের সিন। কি কালার, কি ক্যামেরা ফ্রেমে তার কোন রাখ ঢাক নেই। গল্পের সাথে এই ব্যাপারটা এতো খাপ খেয়ে গেছে, আমরা যারা নিয়মিত বলিউড দেখি তাদের কাছে ব্যাপারটা খুব চোখের আরাম দেবে। ধরেন মালায়ালাম, তেলেগু বা পশ্চিম বাংলার কোন ইন্ডাস্ট্রি এই সিনেমা বানালে হয়তো অন্য কোন ভিজ্যুয়াল দেখতে পেতাম।

মুখ্য চরিত্রে অভিনয় করেছেন সঞ্জয় মিশ্রা। এতো সুন্দর অভিনয় করে গেলেন। প্রতিটা ক্যারেক্টার তিনি করে দেখিয়েছেন। নিশ্চিত করে বলা যায় ছবিটির কেন্দ্রী চরিত্রে তাঁকে ছাড়া অন্য কাউকে কল্পনাও করা যায় না।

শেষ দৃশ্যের মঞ্চের দৃশ্যটা ভালো লেগেছে অনেক। কিন্তু মনে থেকে যাবে হ্যালুসিনেসনের দৃশ্যটা। বাস্তবতাও তো তাই, আধুনিক স্টার কাস্টিংয়ের যুগে শিল্পীকে কেউ চায় না, চায় স্টারকে।

নেটফ্লিক্সে দেখা যাচ্ছে যেহেতু সেহেতু টরেন্টেও পাওয়া যাবে। প্রডিউসার শাহরুখ খান যেহেতু এই সিনেমা প্রডিউস করতে রাজী হয়েছে, অভিনেতা শাহরুখও এই রকম শক্ত গাঁথুনির গল্পে অভিনয় করতে রাজী হোক। কতদিন একটা ভালো সিনেমা দেখি না শাহরুখের।

অলিগলি.কমে প্রকাশিত সকল লেখার দায়ভার লেখকের। আমরা লেখকের চিন্তা ও মতাদর্শের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। প্রকাশিত লেখার সঙ্গে মাধ্যমটির সম্পাদকীয় নীতির মিল তাই সব সময় নাও থাকতে পারে।