জয়া-ফয়সাল: দ্য ফরগোটেন লাভ স্টোরি

বাংলাদেশ কিংবা পশ্চিমবঙ্গ – যেকোনো ইন্ডাস্ট্রিতেই এখন জয়া আহসান একটা বিরাট ব্যাপার। তিনি কি করেন, তিনি কি পরেন, কোথায় যান, কি কি কাজ করছেন বা করবেন, এমনকি জীবন-বিয়ে ইত্যাদি নিয়েও তাঁর ভাবনা নিয়মিত ছাপা হয় বিনোদনের পাতায়।

সেই জয়ার জীবনে প্রেম এসেছিল সেই নব্বই দশকেই। সেই প্রেম হল তাঁর সাবেক স্বামী ফয়সাল আহসানউল্লাহ। সেখান থেকেই জয়া মাসউদের নাম হয়েছিল জয়া আহসান।

ফয়সাল সে সময়ে বেশ জনপ্রিয় ছিলেন। পুরান ঢাকার হাফিজউল্লাহ রোডের জমিদার বাড়িতে বড় হয়েছেন তিনি। বনেদি পরিবারের ছেলে তিনি। তার পূর্বপুরুষরাই ‘আহসান মঞ্জিল’ তৈরি করেছিলেন।

অন্যদিন (১৯৯৯) ম্যাগাজিনের প্রচ্ছদে জয়া আহসান ও মডেল ফয়সাল।

স্কুল জীবন থেকেই হকি খেলার সাথে যুক্ত হন ফয়সাল। কম্বাইন্ড স্পোর্টিং ক্লাব, ঢাকা ওয়ান্ডার্স ক্লাব, ঊষা ক্রীড়া চক্রের হয়ে টানা ১০ বছর হকি খেলেছেন তিনি।

জাতীয় হকি দলের খেলোয়াড়ও ছিলেন। সেই সুবাদে হকি মাঠেও নিয়মিত দেখা যেত জয়াকে। ফয়সাল একই সাথে মডেলিং করতেন চুটিয়ে। অভিনয়ও করেছিলেন।

তাদের সম্পর্কের শুরুটা হয়েছিল ১৯৯৮ সালে। সেই ঘটনার কথা খোদ ফয়সালই বলেছিলেন ২০১১ সালে, আনন্দধারা ম্যাগাজিনকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে।

ওই সময় নির্মাতা ও অভিনেতা আফজাল হোসেনের নির্দেশনায় ‘জিইসি’ ফ্যানের বিজ্ঞাপন বেশ প্রচারিত হত। ওই বিজ্ঞাপনের শ্যুটিংয়েই প্রথম দেখা হয় জয়া আর ফয়সালের।

বিজ্ঞাপনের শ্যুটিংয়ের দিনের কথা। জয়া মেক আপ নিয়ে বসে আছেন। কিন্তু, ফয়সালের কোনো খবর নেই। তিনি আসেন পাক্কা এক ঘণ্টা দেরি করে।

ফয়সাল যখন আসলেন, তখন জয়া একটু ক্ষেপেই গিয়েছিলেন, ‘এতক্ষণে আসার সময় হল!’ কথাটা শুনেই ফয়সাল বিব্রত হলেন। বললেন,‘সরি! সরি! ভাইয়া, সত্যিই দেরি হয়ে গেল!’

এরপর ওযু করে নামাজ পড়তে যান ফয়সাল। ধর্মের প্রতি ফয়সালের আগ্রহ দেখে ভাল লেগেছিল জয়ার। যদিও, তখনও ঠিক মনের দেওয়া-নেওয়া হয়নি।

ফয়সাল ও জয়া – দু’জনই তখন সিঙ্গেল। বিয়ের জন্য পাত্রী খুঁজছিলেন ফয়সাল। স্মৃতিচারণা করে বলেছিলেন, ‘প্রথম দেখায় জয়াকে ভাল লেগেছিল। তারপর আমাদের ফোনে কথা হত।’

জয়াও ওই সময় নানারকম সাক্ষাৎকারে নিজেদের সম্পর্কের কথা বলতেন। একবার বলেছিলেন, ‘একরাতে ফয়সাল ফোন করে বলে, ‘ভাইয়া আমি তোমাকে ভীষণ পছন্দ করি।’ ব্যাপারটা আমিও বুঝতে পারছিলাম। তারপর আমিও বলি, ‘ভাইয়া, আমিও তো আপনাকে পছন্দ করি। বয়সে ছোট সবাইকে ফয়সাল ‘ভাইয়া! ভাইয়া’ করেই বলতো।ফয়সাল তখন বলে, ‘না, না, তুমি বুঝতে পারো না,আসল ব্যাপারটা হল…।’

এরপর তাঁদের মধ্যে কি কথা হয়েছিল তা নিশ্চয়ই বুঝতেই পারছেন। সেই থেকে শুরু। তারপর পাঁচ মাসের পরিচয় ও প্রণয় শেষে ১৯৯৮ সালের ১৪ মে জয়া ও ফয়সাল বিয়ে করেন।

ওই সময় জয়া ও ফয়সাল ছিলেন জমজমাট তারকা জুটি। সম্পর্ক টিকেছিল ১৩ বছর। হঠাৎ কিছু বিষয় নিয়ে মনোমালিন্য শুরু হয় তাদের। ধীরে ধীরে পরিস্থিতি চলে যায় নিয়ন্ত্রণের বাইরে। ২০১১ সালে তাদের পথ আলাদা হয়ে যায়। আনুষ্ঠানিক ভাবে বিচ্ছেদ করেন তারা। এরপর অবশ্য কেউই আর বিয়ে করেননি।

ফয়সাল ইদানিং শোবিজে আসেন খুবই কম। নিজের ব্যবসা বানিজ্য, রাজনীতি ও হকি ফেডারেশনের সাথে জড়িত তিনি।

Related Post

অলিগলি.কমে প্রকাশিত সকল লেখার দায়ভার লেখকের। আমরা লেখকের চিন্তা ও মতাদর্শের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। প্রকাশিত লেখার সঙ্গে মাধ্যমটির সম্পাদকীয় নীতির মিল তাই সব সময় নাও থাকতে পারে।