এপারের জয়া, ওপারের জয়া

| শুভদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়, কলকাতা থেকে |

জয়া মুখোপাধ্যায়। শিবপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের মা।

একটা কোনো ফিল্ম (বিগ হাউস ফিল্ম হলে তো আরো) নিয়ে এবং যখন খ্যাতনামা আর্টিস্টদের ইন্টারভিউ করার দায়িত্ব আসে আমার কাছে তখন প্রশ্ন সাজাবার আগে কি ভাবে প্রেজেন্ট করব সেটা ভেবে নিতে হয় এবং একদিন কি একবেলার মধ্যেও রিসার্চ করে নিতে হয়। তো সেরকমই একটা দায়িত্ব ছিল ‘গোত্র’ ছবির সময় কাস্টদের ইন্টারভিউ। অনসূয়াদি,নাইজেলদা।

‘গোত্র’ ছবির ভাবনাটা কোথা থেকে এল? সেটা নিয়ে কাজ করতে গিয়েই জানি গোত্র’র গল্পটা এই শিবুদার মায়ের গল্প। যার উপর আধারিত মুক্তি দেবীর চরিত্রটি। জয়া দেবীও বাড়িতে একা থাকেন বরানগরে এবং তাঁকে দেখভালের দায়িত্বে যায় নাইজেলের সংস্থার লোকরা। হিন্দু বাড়িতে অন্য ধর্মের ছেলের সহাবস্থান।

জয়া দেবী। একজন বড় মনের মানুষ, কত শিক্ষিতা, প্রচুর বই পড়েন, এই বয়সেও নিজের রান্না নিজে করেন, সব কাজ একা করেন। আর অপূর্ব এক মাতৃমূর্তি। যার জন্য অনসূয়া মজুমদার মুক্তি দেবী করার আগে শিবুদার মায়ের কাছে যান এবং মুগ্ধ হয়ে যান কি অপূর্ব ব্যক্তিত্ব।

আমি তখনই জয়া দেবী সম্পর্কে এত গল্প জানতে পারি সমৃদ্ধ হই। ‘গোত্র’র মুক্তি দেবী আর তারেক আলি কি তারক গুহ পারফেক্ট অনসূয়া-নাইজেল।

এখন জয়া দেবী ছেলের সঙ্গে বাংলাদেশে গেছেন ওখানে বাইশটির বেশি হলে ‘কণ্ঠ’ মুক্তি পেয়েছে তাই। ছবি গুলো দেখে এত ভালো লাগল তাই জয়া দেবীকে নিয়ে লিখলাম। উনি তো আড়ালেই থাকেন। কিন্তু শিবপ্রসাদ হতে ঋতুপর্ণ ঘোষ, ঋতুপর্ণা সেনগুপ্ত, নন্দিতা রায়দের যা অবদান এমন স্নেহময়ী মায়েরও অবদান আছে।

পরিচালক শিবপ্রসাদকে আমরা জানি। কিন্তু শিবুদা কত ভালো অভিনেতা সেটা বনলতা-দীপঙ্করের সেতুবন্ধন হয়ে ‘বাড়িওয়ালি’ তেই কত গুণী অভিনেতা আমরা বুঝি। কিন্তু অভিনয় তো বেশী করেন না। শিবপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের সেরা অভিনয় দেখতে কন্ঠ দেখেছেন যারা জানেন। বাংলাদেশের বন্ধুরা দেখুন।

আর জয়া মুখোপাধ্যায়ের জীবনের জলছবি নিয়ে ছবি ‘গোত্র’ ও বাংলাদেশে মুক্তি পায় যেন। এখানে যারা দেখেছেন জানেন।অনসূয়াদি বলেছিলেন, ‘ঋতুর (ঋতুপর্ণ ঘোষ) মা আর শিবুর মায়ের রোল করতে পেরে আমি ধন্য।’

জয়া আহসান দুই বাংলার দেবী স্পিচথেরাপিস্ট যে বন্ধুও হন। জয়া যে কিভাবে এমন ঢেকুড় তুলে এ ছবিতে অভিনয় করলেন সত্যি অনবদ্য। কিভাবে মারণরোগকে জীবনশক্তিতে পরিণত করা যায় তাঁর জন্য ‘কন্ঠ’ ছবি রয়ে যাবে।

যে ভাবে ক্যান্সার অলক্ষ্মীর ঝাঁপি হয়ে ঘরেঘরে ঘাঁটি নিচ্ছে সেই লড়াইকে জয় করার আলো দেখালো ‘কণ্ঠ’। উইনডোজের ভাবনা গুলো অনন্য অভিনব হয়। সমাজ থেকে উঠে আসা গল্প সমাজের শেষ প্রান্তে পৌঁছায়।

চলচ্চিত্র তো আপনারা দেখেন দেখবেন কিন্তু ছবির গল্পের পেছনে যিনি আছেন তাঁকে জানুন। জয়া মুখোপাধ্যায় প্রণাম ভালোবাসা ভালো থাকুন স্নিগ্ধ থাকুন।

শেষ করি অরিজিত সিংর গানটা দিয়ে –

নিকোনো মাটির ঘরের কোণ।
গোধূলির শাঁখের আওয়াজ।
কাজল লতার আলো টিপ।
চাদর বিছিয়ে দেওয়া ভোর।
আমি ভালোবাসায় তোমায় মুড়ে
রাখি, মা।

আমি তোমার ছায়ায় ছায়ায়
থাকি, মা।
আমি তোমার চোখের তারায়,
বাঁচি, মা।
আমি তোমার মায়ায় মায়ায়,
থাকি মা।

ছবি: রুম্মান রশিদ খান, বিনোদন সাংবাদিক

Related Post

অলিগলি.কমে প্রকাশিত সকল লেখার দায়ভার লেখকের। আমরা লেখকের চিন্তা ও মতাদর্শের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। প্রকাশিত লেখার সঙ্গে মাধ্যমটির সম্পাদকীয় নীতির মিল তাই সব সময় নাও থাকতে পারে।