বিশ্বকাপ ফুটবল মানেই সেরা ফুটবল নয়: হোসে মরিনহো

হোসে মরিনহোর সামনে ব্যস্ত একটা মৌসুম অপেক্ষা করছে। এরই মধ্যে হয়তো ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের এই কোচ পরিকল্পনাগুলো গুছিয়ে এনেছেন, যে করেই হোক এবার শিরোপা ফিরে পেতে হবে। তবে, দুয়ারে যখন বিশ্বকাপ তখন, তিনি কি করে নিজেকে দূরে সরিয়ে রাখতে পারেন। ‘গ্রেটেস্ট শো অব আর্থ’-এর দিকে চোখ আছে স্পেশাল ওয়ানেরও। জিকিউ ম্যাগাজিনকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি তাই কথা বলরেন বিশ্বকাপ নিয়েই।

বিশ্বকাপ কি এখনো আগের মতই উত্তেজনাপূর্ণ?

– হ্যা, কেন নয়!  যারা ফুটবল পছন্দ করে, তাদের বিশ্বকাপ নিয়ে উত্তেজিত থাকাটা খুব স্বাভাবিক। আমি প্রায়ই বলি, বিশ্বকাপ হল ফুটবলের চেয়েও অনেক বড় এক ব্যাপার। আমার কাছে বিশ্বকাপ আর অলিম্পিক হল ক্রীড়াবিশ্বের মহাযজ্ঞ। তবে, আমি বিশ্বাস করি বিশ্বকাপে সব সময় সেরা ফুটবলের দেখা মেলে না। ক্লাব ফুটবলে খেলোয়াড়দের নিয়ে কাজ করার অনেক সময় পাওয়া যায়, যেটা আন্তর্জাতিক ফুটবলে সম্ভব না।

আপনার চোখে এবারের বিশ্বকাপে ফেবারিট কে?

– লিওনেল মেসি আর ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো এতটাই ভাল খেলে যে লোকে তাঁদের দিকে তাকিয়ে থাকবে। আমি বিশ্বাস করি, আর্জেন্টিনা ও পর্তুগাল ভাল করবে। ব্রাজিলের কোচ চমৎকার। তার দল ট্যাকটিক্যালি ও রক্ষনাত্মকভাবে খুব ভাল খলতে পারবে। আর ব্রাজিলে তো সহজাত প্রতিভার কমতি নেই। তাদের দিকে নজর রাখতেই হবে। আর ইউরোপিয়ান দলগুলোর মধ্যে বাছাইপর্বে স্পেনকে খুব শক্তিশালী মনে হয়েছে। অভিজ্ঞতা আর প্রতিভার মিশেলে ওরা দারুণ। তবে, কে জানে বিশ্বকাপে অন্য কোনো দল এসেও চমকে দিতে পারে।

আপনার চোখে বিশ্বকাপের ইতিহাসে সেরা খেলোয়াড় কে?

– আমি এর উত্তর দিতে পারবো না। এটা খুব শক্ত প্রশ্ন। আমার জন্ম ১৯৬৩ সালে, তাই ১৯৬৬ দেখাটা আমার জন্য বাড়াবাড়ি হয়ে যায়। তবে, ইতিহাস বলে ওটা ছিল স্যার ববি চার্লটন আর ইউসেবিও’র বিশ্বকাপ। ১৯৭০ সাল থেকে আমি মনে করতে পারবো। এরপর বিশ্বকাপ অনেক দারুণ সব ফুটবলারদের দেখিয়েছে। এদের মধ্যে আলাদা করে বলা মুশকিল…. কার নাম বলবো… এর মধ্যে ফ্রাঞ্জ বেকেনবাওয়ার, পেলে, দিয়েগো ম্যারাডোনা, ব্রাজিলের রোনালদো অনেকেই থাকবে। প্রত্যেক চার বছর পর পর এখানে নতুন নতুন তারকার জন্ম হয়। আর এক প্রজন্মের সাথে আরেক প্রজন্মের তারকার তুলনা করাও সম্ভব হয় না।

১৯৬৬ সালে সেমিফাইনালে পর্তুগাল ইংল্যান্ডের কাছে হেরে বিদায় নেয়। কি মনে হয়, এবার ইংল্যান্ডের দৌঁড় কতদূর?

–  পর্তুগাল তো ২০০৬ সালেও সেমিফাইনাল গেছে। ২০১৬ সালে ইউরোপিয়ান চ্যাম্পিয়নশিপও জিতেছে। এর অর্থ হল ওরা এবার শক্তিশালী দলগুলোর একটি। পর্তুগাল এমন একটা দেশ যেখানে প্রতিনিয়তই তরুন সব প্রতিভা আবিস্কার হয়। আর এবার যে দলটা খেলছে তাঁরা দু’বছর আগের দলটা থেকে বেশ শক্তিশালী। তাই, পর্তুগাল যে কোনো কিছু করতে পারে। তাঁরা কি বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন হবে? এই প্রশ্নের উত্তর আমি দেবো না, শুধু এটুকু বলতে পারি যে ওরা যে কাউকে হারাতে সক্ষম।

বিশ্বকাপের এমন কোনো মুহূর্ত কি এসেছে আপনার জীবনে, যা আপনার ক্যারিয়ারকে অনুপ্রানিত করে?

–  যখন কোনো অধিনায়ক ট্রফি তুলে ধরে, সেই মুহূর্তটা আমাকে অনুপ্রেরণা দেয়। এখানে দুটো শিরোপা খুব গুরুত্বপূর্ণ – বিশ্বকাপ আর চ্যাম্পিয়ন্স লিগ। যখন আপনি এখন শিশু হবেন, বা একজন তরুণ খেলোয়াড়, বা একজন তরুণ কোচ, তখন এই দৃশ্য দেখে ট্রফি তুলে ধরার স্বপ্ন দেখবেন। নিজে যখন চ্যাম্পিয়ন্স লিগ ট্রফি জিতেছি, তখন এ নিয়ে অনেক ভেবেছি।

এখন তো টিভিতে অনেক খেলা দেখায়। ক্লাব ফুটবলেও অনেক উঁচু মানের খেলা দেখায়। এই অবস্থায় বিশ্বকাপের আগের আবেদন কি এখনো আছে?

– হ্যা, বিশ্বকাপ এখনো বিশেষ একটা ব্যাপার। এটা সমর্থক, বিশেষ করে যেসব দেশ অংশগ্রহণ করছে তাঁদের সমর্থকদের জন্য বিশেষ কিছু। আমি মনে করি, যখন বিশ্বকাপে কোনো দেশ খেলতে নামে, সে দেশের মানুষের জীবনযাত্রা থমকে যায়। এই সময় চাইলে আপনি একটা পুরো দোকান চুরি করে ফেলতে পারবেন, কেউ হয়তো লক্ষ্যই করবে না। যারা ফুটবল সচরাচর ভাল বাসে না, তাদের জন্যও এই বিশ্বকাপ দারুণ একটা আসর।

বছর কয়েক আগে আপনার পর্তুগালের কোচ হওয়ার গুঞ্জন ছিল। আপনি বলেছিলেন, ক্লান্ত হলে তবেই পর্তুগালের দায়িত্ব নেবেন… আপনি কি ক্লান্ত হওয়ার কাছাকাছি পৌঁছেছেন?

– না, একদমই না। ক্লাব ফুটবলে কোচিং করানোই আমার কাজ। আমি প্রতি সপ্তাহে ম্যাচ খেলতে চাই। প্রতিদিন দলকে অনুশীলন করাতে চাই। বলা ভাল, আগে ক্লাব ফুটবলে যতটা ক্লান্ত ছিলাম, এখন সে তুলনায় ক্লান্তি অনেক কমেছে।

Related Post

অলিগলি.কমে প্রকাশিত সকল লেখার দায়ভার লেখকের। আমরা লেখকের চিন্তা ও মতাদর্শের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। প্রকাশিত লেখার সঙ্গে মাধ্যমটির সম্পাদকীয় নীতির মিল তাই সব সময় নাও থাকতে পারে।