যে লেনন ক্রিকেটের!

লেখা পড়বার পূর্বে, একটা প্রশ্নের উত্তর দিন দেখি! ‘জন লেনন’, সেকেন্ডেরও কম সময়ে উচ্চারিত এই শব্দজোড়া শুনবার পরক্ষণেই আপনার মাথায় কি এলো? বেঁচে ছিলেন মোটে চল্লিশ বছর, তাতেই যেন চল্লিশ হাজার পৃষ্ঠার উপন্যাস তুলে এনেছেন।

নস্টালজিক বিটলসের স্রষ্টা, বিটলস ভেঙে কিংবদন্তি বনে যাওয়া গায়ক কিংবা গীতিকার হবার অভিজ্ঞতা, অদ্ভুতুড়ে জীবনধারা, প্রেম, শান্তি ও রাজনীতি সম্পর্কে কিছু বিশ্বাস, অনেক স্মরণীয় এবং কিছু দুর্ভাগ্যজনক উদ্ধৃতি, যৌন সম্পর্ক, মাদকাসক্তি, রক এন্ড রোল, খ্যাতি, কুখ্যাতি, এফবিআইয়ের নথিভুক্তি এবং সবশেষে মর্মান্তিক মৃত্যু, এক জীবনে তো তাঁর সবই ছিলো। ওহ, একটা বিষয় বাদ পড়েছে। তাঁর এই জীবনে ক্রিকেটও ছিলো।

কিভাবে? চলুন জেনে নেই।

  • একজন স্বপ্নের কারিগর

১৯৬২ সালের বসন্তকালের কথা। সে বছরই পদার্থবিদ্যায় স্নাতকের পর, ফ্রাঙ্ক ডাকওয়ার্থ (জ্বি, আপনার ভাবনা সঠিক। ডাকওয়ার্থ-লুইস মেথডের ডাকওয়ার্থ সাহেব) ধাতুবিদ্যায় পিএইচডি লাভের আশায় কাজ করছিলেন। যদিও পরে তিনি মেনে নেন, এটি একটি ভুল পদক্ষেপ ছিল। তাঁর অর্থের ভাণ্ডার ফুরিয়ে এসেছিলো, সাথে সাথে তার আগ্রহও যেন কমে এসেছিলো। তবে, তিনি যে তথ্য-উপাত্ত নিয়ে কাজ করেছিলেন, সেগুলিই পরবর্তীকালে একজন বিখ্যাত পরিসংখ্যান বিশ্লেষকের উত্থানের পেছনে প্রধান ভূমিকা পালন করে। ছাতার ফুটো সারানোর মতোই, টনি লুইস ও ডাক ওয়ার্থের বিশ্লেষণের ত্রুটি সারান।

তবে, ১৯৬২ সালের বসন্তে ডাকওয়ার্থের জীবনে আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা ঘটেছিলো। সে বছরই তিনি আরও তিনজন শিক্ষার্থীর সঙ্গে ওল্টনে এক লজে ওঠেন, যার মালিক ছিলেন মিমি স্মিথ নামক এক মহিলা। আর এই নিঃসন্তান মিমি স্মিথ-জর্জ স্মিথ দম্পতির ভাতিজাই ছিলেন জন লেনন। জন লেনন ছোটবেলা কেটেছে মিস্টার এন্ড মিসেস স্মিথের কাছেই।

বিস্ময়করই বটে যে মিমি স্মিথ জন লেননের ভরণপোষণের দায়িত্ব নিয়েছিলেন। একে তো তিনি বাচ্চাদের পছন্দ করতেন না, তার ওপরে লেননের নিচুশ্রেণির বন্ধুদের নিয়েও তার আপত্তি ছিলো। যদিও তিনি পল ম্যাকার্টনিকে উৎসাহ জুগিয়েছিলেন, কিন্তু জর্জ হ্যারিসন বরাবরই তার কাছে ‘লো টাইপ’ হিসেবে বিবেচিত হতেন। কারণ, সে সসময়টায় জর্জ হ্যারিসন মাংসের দোকানে কাজ করতেন। একইসাথে মিমি স্মিথ আশা করেছিলেন, তার ভাগনে জন লেননের গিটার আসক্তি কিছুদিনের মাঝেই কেটে যাবে।

সংগীতের প্রতি মিমির কোনো অনুরাগই ছিলো না। লেননকে তাই প্রায়ই শুনতে হতো, ‘গান ব্যাপারটি ভালো, কিন্তু জীবনে কিছুই করতে পারবে না এই গান নিয়ে পড়ে থাকলে।’ জন লেননের মা, জুলিয়া লেনন ব্যাপারটি জানতেন। তাই, ১৯৫৬ সালে লেননকে তিনি একটি সস্তা গ্যালোটন চ্যাম্পিয়ন একুয়িস্টিক গিটার কিনে দিলেও চেয়েছিলেন, যেন গিটারটি তার বোনের বাড়ি অব্দি না পৌঁছোয়।

তবুও, খালা-ভাগনের মাঝে গিটারের তন্ত্রীগুলোই যেন এক অদৃশ্য বাঁধন গড়ে দিয়েছিলো। ‘ডাবল ফ্যান্টাসি’র প্রযোজক জ্যাক ডগলাসের মতে, প্রথম দিন থেকেই লেনন তার ডি-স্ট্রিংটিকে সামান্য সমান করে নেন এবং পরবর্তীতে মিমি স্মিথ রেকর্ড শুনেই বলে দিতে পারতেন, কোন গিটারটি লেনন বাজিয়েছিলেন।

আমাদের গল্প এগিয়ে নেয়ার জন্যে, ১৯৬২ সালের প্রথম দিকে, ফ্রাঙ্ক ডাকওয়ার্থ বিটলসের কিংবদন্তির সঙ্গে একই বাড়িতে ছিলেন। এটা ছিলো সেই সময়, যখন হ্যামবার্গে অন্য বাসিন্দারাও আসতে শুরু করেছিলেন, মিমি স্মিথ ১৯৬১ সালের আগস্টে ঘটে যাওয়া এক ঘটনার দুঃস্বপ্নে বিভোর হয়ে পড়েছিলেন এবং এটা ছিলো সেই সময় যখন ব্রায়ান এপস্টাইন বিটলসকে ক্যাম্পফার্ট প্রোডাকশন্সের সঙ্গে চুক্তির বাধ্যবাধকতা হতে মুক্ত করবার চেষ্টা করছিলেন।

একই বাড়ির বাসিন্দা হয়েও ডাকওয়ার্থ এবং লেননের তেমন একটা কথা বলা হয়ে ওঠেনি। যতদূর জানা যায়, মাত্র একবারই তাদের মাঝে বাক্যের আদানপ্রদান হয়েছিলো, যদিও বেশ কষ্ট করেই একে ‘বাক্য বিনিময়’ বলতে হবে। এক সন্ধ্যায়, ৪ নম্বর বাসে করে বাড়ি ফেরার পথে ডাকওয়ার্থ আবিষ্কার করেন তার ঠিক বিপরীতে তখনকার দিনের উঠতি সংগীতশিল্পী জন লেনন বসে। ডাকওয়ার্থ স্বাভাবিক সৌজন্যতা দেখিয়েই বলেছিলেন, ‘হ্যালো! জন’, যার প্রত্যুত্তরে জন লেনন ‘উ!’ মত কিছু বলেছিলেন বলে শোনা যায়। কিন্তু অন্য সন্ধ্যাগুলোতে, পিএইচডির ছাত্রটির কেবল লেননের গিটার বাজানোর টুংটাং ধ্বনি-ই শোনার ভাগ্য হয়েছিলো, তাদের আর কথা হয়নি।

এরইমধ্যে ডাকওয়ার্থের সঙ্গে মিমি স্মিথের ঝামেলা হয়, এবং ডাকওয়ার্থ সে বাসাটি ছেড়ে দেন। যার বিবরণ পাওয়া যায় ডাকওয়ার্থ এবং লুইসের যৌথ আত্মজীবনীতে, ‘আমরা হয়তো সেখানে থাকতে পারতাম, তবে এর জন্য তাঁকে (মিমি স্মিথ) শীতে থরথর করে কাঁপতে থাকা ছাত্রদের রাত ন’টার পরেও ইলেকট্রিক হিটার ব্যবহার করতে দিতে হতো।’ এরপর তিনি বেশ বড় জায়গায় চলে যান। ডাকওয়ার্থ এবং লেননের সম্পর্কের অধ্যায়ও এখানেই থেমে যায়।

  • যেন মুষলধারে বৃষ্টি

১৯৬২-য়ের শরতে লেনন, জর্জ হ্যারিসন এবং পল ম্যাকার্টনি রিঙ্গো স্টারকে সাথে নিয়ে গড়ে তোলেন সেই বিখ্যাত ব্যান্ড এবং বছরের অন্তে, তারা যুক্তরাজ্যে গানের চার্টে শীর্ষস্থান দখল করে নেন।

পরবর্তী বছর যেন বিশ্ব ‘বিটলম্যানিয়ায়’ আক্রান্ত হয়। যুক্তরাজ্যে প্রকাশিত তাদের ১২ টি অ্যালবামের মধ্যে ১১টি-ই বিলবোর্ডে প্রথম স্থান অধিকার করে নেয়। যখন তারা কনসার্টে পারফর্ম করতেন, তখন যেন দর্শকসারিতে ঢেউ খেলে যেতো। ১৯৬৪ সালে, লন্ডনের হিথ্রো এয়ারপোর্টে তাদের বিদায় জানাতে হাজির হয়েছিলো ৪০০০ ভক্ত, আর যখন তারা জন এফ কেনেডি বিমানবন্দরে পৌঁছোন, তখন সেথায় উপস্থিত ছিলেন ৩০০০ পাগলাটে ফ্যান। এর কিছুদিন পরেই তারা গড়েন কোনো অনুষ্ঠানে সর্বোচ্চ উপস্থিতির রেকর্ড, এড সুলিভানের সেই কনসার্টে। অ্যাডলফ হিটলার বিশ্ব জয় করবার আশায় যুদ্ধ বেছে নিয়েছিলেন, আর বিটলস যেন গানকে বেছে নিয়েছিলো।

এরপর ‘অ্যা হারড ডে’স নাইট’ এলো, ডেনমার্ক, নেদারল্যান্ডস, হংকং, অস্ট্রেলিয়া এবং নিউজিল্যান্ড ঘুরে, ২৭ দিনে ৩৭ টি কনসার্ট গানের সুরে মাতিয়ে দেয়ার ঘটনাও ঘটলো। ওই চার তরুণের দেখাদেখি, বিশ্বজুড়ে হিড়িক পড়লো, ‘আমারও লম্বা চুল রাখা চাই।’

আরও কত কি যে ঘটেছিলো সে সময়টাতে! ১৯৬৪ সালের আগস্টে বব ডিলান তাদের ক্যানাবিতে উপস্থাপন করেন, ১৯৬৫ সালের জুন মাসে রানী দ্বিতীয় এলিজাবেথ তাদের চার সদস্যকেই ব্যান্ড অব এমবিই-তে নিযুক্ত করেন। ১৯৬৫ সালের দ্বিতীয়ার্ধে, কিং বেভারলি হিলস হোমে এলভিস প্রিসলির সাথে তাদের সখ্যতা গড়ে ওঠে। তাদের গানে মারিজুয়ানার প্রভাব দেখা যায়, যে কারণে লেনন একে ‘পট অ্যালবাম’ বলে ডেকেছিলেন। এবং, লেনন-ম্যাকার্টনি জুটির সংগীতরচনা এ সময়টাতেই যেন কিংবদন্তির পর্যায়ে পৌঁছেছিলো।

এই চার তরুণ কেবল যে নিজেদের ভাগ্যই গড়েছিলেন, তা নয়। বরং তাদের হাত ধরেই যেন গোটা ব্রিটেনের ভাগ্য ফিরেছিলো। বিশ্বযুদ্ধের পরবর্তী সময়কালে ব্রিটেন যে সমস্যার মধ্যে দিয়ে যাচ্ছিলো, তা-ও যেন বিটলসের কল্যাণেই দূর হয়েছিলো। ১৯৫৭ সালে তৎকালীন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী হ্যারল্ড ম্যাকমিলান তো এ-ও বলে বসেন, ‘আমরা কখনোই, এতোটা ভাল ছিলাম না।’

এত অল্প সময়ে তারা খ্যাতির এত উঁচু আসনে আরোহন করেছিলেন যে, তাদের নিজেদের মনেই সংশয় বাঁধতে শুরু করে, ‘গানের গুণগত মান আমরা বজায় রাখতে পারছি কি?’ অনেক কনসার্ট, লাইভ শো করে করে তারা নিজেরাও বোধহয় খুব ক্লান্ত হয়ে পড়েছিলেন। মড়ার উপর খাড়ার ঘা হয়ে আসে, লেনন-ম্যাকার্টনির দ্বন্দ্ব। এ সময়েই মুক্তি পায় তাদের চলচ্চিত্র ‘হেল্প!’। লেননের মতে, সে সময়টায় তাদের আদতেই হেল্প(সাহায্য) দরকার ছিলো।

উল্টো, ১৯৬৬ সালে লেনন এক দন্ত চিকিৎসকের বাড়িতে পার্টি করছিলেন, সেখানে বাড়ির কর্তা লেননের কফির মাঝে এলএসডি মিশিয়ে তাকে হত্যার ষড়যন্ত্র করেন। যদিও পরের বছরই, ‘লুসি ইন দ্য স্কাই উইথ ডায়মন্ড’ আরও একবার চার্টের শীর্ষে জায়গা করে নেয়।

১৯৬৬ সালের মার্চে ‘ইভিনিং স্ট্যান্ডার্ড’কে লেনন বলে বসেন, ‘যীশু খ্রিস্টের যা জনপ্রিয়তা, আমাদের জনপ্রিয়তা তার চেয়েও বেশি। আমাদের ‘রক এন্ড রোল’ অ্যালবামের কাটতি পড়তির দিকে নামার পূর্বেই বোধহয় পৃথিবী থেকে খ্রিস্টধর্ম বিলীন হয়ে যাবে।’ এ ঘটনার পরে, আটলান্টিকের এপার-ওপার জুড়ে তার বিরুদ্ধে প্রতিবাদের ঝড় ওঠে, বিটলসের গানের রেকর্ড পোড়ানো হয় এবং লেননকে মৃত্যুর হুমকিও দেয়া হয়। ১৯৮০ সালের হত্যাকাণ্ডের ঘটনাও, এই মন্তব্যেরই ফল।

  • খেলা শিখবে, তুমিও!

এতসব ঘটনার ঘনঘটায়, ১৯৬৬ সালের এপ্রিল, বিরতি নেবার বেশ ভালো এক সময় ছিলো।

ম্যাকার্টনি তার বান্ধবী জেন অ্যাশারকে নিয়ে আফ্রিকা সফরে বেরোন। হ্যারিসন ও তার স্ত্রী পাটি ভারতে চলে যান। আর রিঙ্গো স্টার এবং তার স্ত্রী মরিন ইংল্যান্ডে নানা আত্মীয়ের বাড়ি-বাড়ি ঘুরে নিজেরা আরও কাছাকাছি আসবার চেষ্টায় লিপ্ত হন।

সে সুযোগে লেনন স্পেনের আলমারিয়ায় গিয়েছিলেন। তিনি তখনও কাজ করছিলেন, কিন্তু সে কাজগুলো মঞ্চের ব্যস্ততার তুলনায় কিছুই ছিলো না। তখনই তিনি ‘অ্যা হার্ড ডে’স নাইট’ এবং ‘হেল্প’ চলচ্চিত্রের পরিচালক রিচার্ড লেস্টারের দলে যোগ দেন। লেস্টার একটি নতুন সিনেমা তৈরি করেছিলেন, ‘হাউ আই উইন দ্য ওয়ার’, যে চলচ্চিত্রে লেননকে ব্যক্তিগত গ্রিপভিডের ভূমিকায় অভিনয় করতে দেখা যায়।

যখন ছবিটির শুটিং চলছিলো, তখন ফটোগ্রাফার ডেকো হিরশলার সিনেমার সেটেই ছিলেন। তার ক্যামেরাতেই সিনেমার শুটিং-য়ের ফাঁকে ক্রিকেট খেলায় মত্ত লেননকে দেখা যায়, যদিও ছবি দেখে অনুমান করতে কষ্ট হয় না, ক্রিকেটার হিসেবে লেনন কতটা আনাড়ি ছিলেন! কোনো ছবিতে ধরা পড়ে, প্রাইভেট গ্রিপওয়েডের পোশাকে সজ্জিত এক ব্যক্তি ফ্রন্ট ফুট ড্রাইভ খেলছেন, তো কোন ছবিতে ধরা পড়ে ফিল্ডিংরত অবস্থায় বল পাশ ঘেঁষে যাবার কালে লেননের ভীতসন্ত্রস্ত মুখচ্ছবি।

যদিও ছোটবেলায় লিভারপুলের রাস্তায় বন্ধুদের সাথে ক্রিকেট খেলার অভিজ্ঞতা ছিলো, কিন্তু তাঁর ক্রিকেট দক্ষতা সম্পর্কে প্রশ্ন থেকেই যায়!

কখনও তিনি শূন্য রানে প্যাভিলিয়নে ফেরত এসেছিলেন কিনা, সে সম্পর্কে কোনো তথ্য পাওয়া যায় না। কিন্তু এই সিনেমাতেই লেননকে প্রথমবার শূন্যের মতো দেখতে বিখ্যাত সেই গোল চশমায় আবিষ্কার করা যায়।

ক্রিকেটার লেননের ক্যারিয়ার বোধহয় এখানেই শেষ হয়েছিলো। হয়তোবা তিনি খেলাটি শিখতেও পারতেন, তবে খুব সম্ভবত তাঁর মনে হয়েছিল, ‘হে ঈশ্বর, এটা খুব কঠিন।’

আর কোনো নন-বিটলস চলচ্চিত্রে তিনি অভিনয় করেননি। কিন্তু ১৯৮০ সালে তার মর্মান্তিক হত্যাকান্ড অব্দি তার চোখে সেই চশমাই দেখা গিয়েছিলো, যা ছিলো ‘হাউ আই উইন দ্য ওয়ার’ ছবিতে। যে সিনেমার বদৌলতেই আমরা জানতে পারি, গায়ক লেননের ক্রিকেটার সত্ত্বা।

– ক্রিকেটকাউন্ট্রি অবলম্বনে

অলিগলি.কমে প্রকাশিত সকল লেখার দায়ভার লেখকের। আমরা লেখকের চিন্তা ও মতাদর্শের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। প্রকাশিত লেখার সঙ্গে মাধ্যমটির সম্পাদকীয় নীতির মিল তাই সব সময় নাও থাকতে পারে।