স্পাই জনরা: জনের নিজস্ব জগৎ

অ্যাকশন হিরো হওয়ার জন্য যা যা দরকার তার সবটাই আছে জন আব্রাহামের মধ্যে। এই অ্যাকশনের কল্যানেই সমসাময়িক নায়কদের তুলনায় তিনি যে অভিনয়টা একটু কম পারেন, সেটা খুব একটা চোখে পড়ে না।

তবে, অ্যাকশন জনারার খুব আলাদা একটা অংশ নিয়ে জন আসছেন এবার। ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে যখন যুদ্ধের দামামা বাজছে, ঠিক এই সময় ভারত-পাকিস্তানের মধ্যকার একটি সত্য ঘটনা অবলম্বনে বড় পর্দার জন্য একটি সিনেমার ট্রেলার রিলিজ দেয়া হয়েছে।

সিনেমায় অভিনীত একটি গুপ্তচরের চরিত্রের নামেই সিনেমার নাম ‘রোমিও আকবর ওয়াল্টার’। নাম ভূমিকায় অভিনয় করেছেন বলিউড তারকা জন আব্রাহাম। যুদ্ধের এই ভীতিকর সময়টিতে ট্রেলারটি দারুণ সাড়া জাগিয়েছে।

রবি গ্রেওয়াল পরিচালিত এই ছবিটির প্রযোজনায় ছিলেন ধীরজ ওয়াধওয়ান, অজয় কাপুর, ভানেসা ওয়ালিয়া এবং গ্যারি গ্রেওয়াল। জন ছাড়াও এই ছবিতে দেখা যাবে জ্যাকি শ্রফ এবং মৌনি রায়কে। ছবিটি মুক্তি পাবে আগামী পাঁচ এপ্রিল।

গুপ্তচর বা স্পাই-এর চরিত্রে জনের এটাই অবশ্য প্রথম কাজ নয়। ২০১৩ সালের ‘মাদ্রাজ ক্যাফে’, ২০১৬ সালের ‘রকি হ্যান্ডসাম’, ‘ফোর্স ২’ ও ‘ঢিশুম’ – সবগুলোতেই তিনি ছিলেন র-এজেন্ট। ফলে, বলা যায় অ্যাকশন ছবির মধ্যেও নিজের আলাদা একটা ঘরাণা বানিয়ে ফেলেছেন জন।

ফ্যাশন ইন্ডাস্ট্রি থেকে বলিউডে পা রাখা জন আব্রাহামের ইনাদিংকার সিনেমায় আরেকটা ব্যাপার লক্ষ্যণীয়। যে কয়েকটি সিনেমায় তিনি কাজ করেছেন, সব কটিই দেশপ্রেম নিয়ে। ‘সত্যমেভ জয়তে’ সিনেমায় দুর্নীতিবাজ পুলিশ কর্মকর্তাদের হত্যা করার মিশনে ছিল তাঁর। ‘পরমাণু’ ১৯৯৮ সালে পোখরানে ভারতীয় সেনাবাহিনীর পারমাণবিক বোমা পরীক্ষা নিয়ে।

সেখানে তিনি ছিলেন একজন আইএএস কর্মকর্তা। এবার ‘রোমিও আকবর ওয়াল্টার’ সিনেমায় ভারতীয় গোয়েন্দা সংস্থার গুপ্তচর। নির্মাতাদের কাছ থেকে জানা গেছে, শুরুতে জন আব্রাহমাকে নয়, এই গুপ্তচর চরিত্রের জন্য ভাবা হয়েছিল সুশান্ত সিং রাজপুতকে। কিন্তু শুটিংয়ের সময় নিয়ে সমস্যা হওয়ায় ২০১৭ সালে এই সিনেমা থেকে সরে যান তিনি।

সোমবারই মুক্তি পেয়েছে জন আব্রাহামের ছবি রোমিও আকবর ওয়ালটার অর্থাৎ ‘রোমিও আকবর ওয়াল্টার’-এর ট্রেলার। ছবির প্রেক্ষাপট ১৯৭১ সালের ভারত-পাকিস্তান যুদ্ধ। ছবিতে ভারতের গুপ্তচর সংস্থার হয়ে পাকিস্তানে পৌঁছে যেতে দেখা যাবে অভিনেতা জনকে।

ছবির ট্রেলারের শুরুতে জনের মুখে শোনা যাবে বিশেষ ডায়ালগ। যাতে একজন সাধারণ মানুষ থেকে তাঁকে বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ করে তোলার জন্য, আত্মীয়দের কাছে তাঁর গ্রহণযোগ্যতা প্রমণা ও জীবনকে আসল উদ্দেশ্য খুঁজে দেওয়ার জন্য বিশেষ কাউকে ধন্যবাদ জানাতে দেখা গেছে অভিনেতাকে।

এ-থেকেই আন্দাজ করা যায়, একজন অতি সাধারণ এক ব্যক্তিকে দেশের গুপ্তচর সংস্থার হয়ে কাজ করতে পাঠানো হবে তাঁকে। আর এভাবেই বদলে যাবে তাঁর জীবন। দেশের জন্য নিজের জীবনকে উৎসর্গ করে পাকিস্তানে পৌঁছবেন জন।

নতুন এই সিনেমায় তিনি কখনো রোমিও, কখনো আকবর, আবার কখনো বা ওয়াল্টার। ভারতীয় গুপ্তচর সংস্থার হয়ে কাজ করার জন্য এভাবেই বারবার রূপ বদলাতে হচ্ছে জন আব্রাহামকে। সুত্র মতে সিনেমায় ফুটে উঠেছে এমন এক বীর যোদ্ধার গল্প, যাঁর জীবনের মূল মন্ত্রই ছিল দেশের জন্যে বেঁচে থাকা। ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে এই সিনেমা নির্মান করা হয়েছে। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর কোনও দেশের এমন সামরিক আত্মসমর্পণের ঘটনা বিশ্ব দেখেনি। পাকিস্তান সেনার এক তৃতীয়াংশকে বন্দি করে নেওয়া হয়েছিল। সেই সত্য ঘটনাকেই রুপালি পর্দায় দেখা যাবে আরেকবার।

এই সিনেমাতে আটটি বিভিন্ন রূপে দেখা যাবে জন আব্রাহামকে। সম্প্রতি একটি সাক্ষাত্‍কারে তিনি বলেন, ‘৮৫ বছরের বৃদ্ধ থেকে ২৬ বছর বয়সী যুবক, সব লুকেই দেখা যাবে আমাকে। আমার অভিনয় জীবনের সবচেয়ে চ্যালেঞ্জিং রোল ছিল এটি।’

অলিগলি.কমে প্রকাশিত সকল লেখার দায়ভার লেখকের। আমরা লেখকের চিন্তা ও মতাদর্শের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। প্রকাশিত লেখার সঙ্গে মাধ্যমটির সম্পাদকীয় নীতির মিল তাই সব সময় নাও থাকতে পারে।