মোটিভেশন শুনে কারো লাইফে কিছু আসে না: ঝংকার মাহবুব

ভিন্ন ধারার একজন তরুণ লেখক হিসেবেই মূলত পাঠকসমাজে পরিচিতি পেয়েছেন ঝংকার মাহবুব। বুয়েট থেকে পাশ করে, নর্থ ডাকোটা স্টেট্ ইউনিভার্সিটি থেকে কম্পিউটার সায়েন্সে মাস্টার্স করে বর্তমানে শিকাগো শহরে সিনিয়র ওয়েব ডেভেলপার হিসেবে কর্মরত আছেন তিনি। তবে কাজের ফাঁকে ফাঁকে দিব্যি লেখালেখি চালিয়ে যাচ্ছেন তিনি। এবারের বইমেলায় আদর্শ প্রকাশনী থেকে তার নতুন বই ‘প্যারাময় লাইফের প্যারাসিটামল’ প্রকাশিত হচ্ছে। তাঁর প্রকাশিত বই নিয়েই কথা বলতে মুখোমুখি হয়েছেন অলিগলি.কম-এর।

বইমেলায় আপনার নতুন বই ‘প্যারাময় লাইফের প্যারাসিটামল’। নামটা এমন অদ্ভুত কেন?

– আমি চেষ্টা করি তরুণ সমাজের কারেন্ট টাইমস্ট্যাম্প বা চলমান সময়কে একজাক্টলি প্রেজেন্ট করতে। কোন ভণিতা বা কোন ফিল্টার ছাড়াই সেটাকে তুলে ধরতে। আর এখনকার ছেলেপুলে সবাই প্যারা খেতে খেতে, প্যারা দিতে দিতে, প্যারা ফুটাতে ফুটাতে তাদের লাইফ প্যারাময় হয়ে গেছে। তাই এই সব প্যারা ক্ষেপিয়া তরুণদের লাইফের সাথে কানেক্ট করার জন্যই- প্যারাময় লাইফের প্যারাসিটামল।

প্যারাসিটামল কেন? ট্যাবলেট দিয়ে আপনি কি বুঝতে চাইছেন?

– ট্যাবলেট একটা মেটাফোর। আমরা জ্বর হলেও নাপা বা প্যারাসিটামল খাই, ঠান্ডা সর্দি কাশি হলেও প্যারাসিটামল। তারমানে প্যারাসিটামল একটা কমন এবং সিম্পল জিনিস দিয়ে অনেক সমস্যা সমাধান করে ফেলতে পারি।

একইভাবে লাইফের যত গ্যাঞ্জাম আছে, যত গুটিবাজি ফাঁপড়ে পড়ে সবগুলা থেকেই সহজ বের হয়ে লাইফে যেটা করার দরকার সেটা করার পরেও কিভাবে এনজয় করতে পারবে। অল্প পরিশ্রম দিয়ে সঠিক আউটপুট বের করে নিতে পারে সেটাই বলা হচ্ছে।

তার মানে আপনি বলতেছেন অল্প পরিশ্রম হলেই হবে?

– দেখো, গাছ কাঁটার জন্য হাতুড়ি হাতে যতই পরিশ্রম করো। কোন লাভ হবে না। ছয়মাস চেষ্টা করলেও গাছ আর কাটতে পারবে না। অথচ সঠিক কুড়াল বা সঠিক করাত থাকলে। সেটা কখন ধার দিতে হবে সেটা বুঝতে পারলে হাতুড়ি ওয়ালার চাইতে কম পরিশ্রমে কম সময়েই কাজটা শেষ করে ফেলা যাবে। সেই রকম প্রাকটিক্যাল টিপস- ট্রিকস আর সফলতার হাক্স নিয়েই বইটা।

বইটা কি শুধু তরুণদের জন্য বই?

– মূলত ক্লাস ৯ থেকে শুরু করে ভার্সিটির স্টুডেন্ট পর্যন্ত মাস্তি, পড়ালেখা, ফিউচার, প্রেম, বিজনেস, হতাশা, ভয়, ব্যর্থতা, নেটওয়ার্কিং এই রকম ২৫ টা বিভিন্ন প্যারা নিরাময় করার ইফেক্টিভ সিস্টেম নিয়ে বইটা। তবে তরুণ প্রফেশনাল বা মনে প্রাণে তরুণ যারা তারাও বইটা পড়ে মজা পাবে।

রিচার্জ ইয়োর ডাউন ব্যাটারি বইটি গতবার বেশ পাঠকপ্রিয়তা পেয়েছে। এবার বইটি নিয়ে কি প্রত্যাশা করছেন?

– সংখ্যার বিচারে বই কেমন গেল সেটা নিয়ে আমার কোন মাথা ব্যাথা নেই। আমার কাজ হচ্ছে ইয়াং যারা আছে তাদের লাইফে পজিটিভ ইমপ্যাক্ট ফালানো। সেটা আমি যদি দু’টা বই দিয়ে দু’জনের লাইফে ইমপ্যাক্ট ফেলতে পারি। তাদের লাইফকে একটু হলেও সামনে এগিয়ে নিতে হেল্প করতে পারি। সেটাই আমার পাওনা।

এই যে এই বছর প্রচুর মোটিভেশনাল বই বের হচ্ছে সেটা নিয়ে আপনি কি বলেন?

– মোটিভেশনাল বই হোক, আর মোটিভেশনাল ভিডিও হোক এগুলা সময় নষ্ট ছাড়া আর কিছুই না। মোটিভেশন এক ধরণের বিনোদন। শুনতে ভালো লাগে সবাই শুনে। মোটিভেশন শুনে কারো লাইফে কিছু আসে না। বরং যেটা দিয়ে লাইফে পরিবর্তন আসে সেটা হচ্ছে- কাজ দিয়ে। সেই কাজ করার জন্য যার প্রতিদিন মোটিভেশন লাগে সে আসলে কাজ করার মধ্যে নাই। তাকে দিয়ে কিছু হবে না। আর যে রেগুলার কাজ করে, নিজের ভীতর থেকে একটা চাহিদা আছে। সে আসলে মোটিভেশন না খুঁজে, ডিরেকশন খুঁজে। অর্ধেক চলে যাওয়ার পর বাকি অর্ধেক যাওয়ার গাইডলাইন খুঁজে। তারাই আসলে এগিয়ে যায়। বাকিরা মোটিভেশন নিয়ে নাক ঢেকে ঘুমিয়ে পড়ে।

আপনি এই পর্যন্ত কয়টা বই লিখেছেন?

– আমি এই পর্যন্ত প্রোগামিং রিলেটেড তিনটা বই লিখছি। যারা একদম কম্পিউটার অন-অফ ছাড়া কিছুই জানে না। তাদের জন্য হাবলুদের জন্য প্রোগ্রামিং। এইটা পড়া হলে- প্ৰগ্ৰেমিংয়ের বলদ টু বস। আর তারপর প্রোগ্রামিংয়ের চৌদ্দগোষ্ঠি।

আর লাইফকে রিচার্জ করার জন্য লিখছি- রিচার্জ ইউর ডাউন ব্যাটারি। আর লাইফের প্যারা দূর করে সামনে এগিয়ে যাওয়ার জন্য- প্যারাময় লাইফের প্যারাসিটামল।

ভবিষ্যত নিয়ে ভাবনা…

– খুব বেশি ভবিষ্যত নিয়ে আমি ভাবিনা। বড় প্ল্যান বানাই না। বেশির ভাগ সময়- এখন কী? তারপরে কী? এই দুইটা প্রশ্ন নিয়ে কাজ করতে থাকি। এতে সুবিধা হচ্ছে ফিউচার নিয়ে খুব বেশি চিন্তা করা হয় না। তাতে ফিউচার নিয়ে ভয়ও আসে না। আবার কোন কিছু একটু কম বেশি হলে মন খারাপও হয় না। বরং বাস্তবতার সাথে এডজাস্ট করে করে, উপভোগ করতে করতে চালিয়ে নেয়া যায়।

Related Post

অলিগলি.কমে প্রকাশিত সকল লেখার দায়ভার লেখকের। আমরা লেখকের চিন্তা ও মতাদর্শের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। প্রকাশিত লেখার সঙ্গে মাধ্যমটির সম্পাদকীয় নীতির মিল তাই সব সময় নাও থাকতে পারে।