জার্সি: ক্রিকেটের গল্প, আবেগের গল্প

খেলাধুলা নিয়ে ইদানিং দক্ষিণে বেশ ছবি হচ্ছে। এর আগেও হয়েছে, কিন্তু এবারের গুলো সাড়া জাগানোর মত। এর মধ্যে আলাদা করে ‘জার্সির কথা না বললেই নয়।

  • ব্যাক্তিগত অভিমত

ক্রিকেট খেলাটা আমার তেমন পছন্দের না। তারপরও খেলি কম বেশ, বাংলাদেশের খেলা ছাড়া অন্য কারো খেলা দেখতে মন চাই না। আর যেখানে খেলা দেখি না সেখানে খেলা নিয়ে ছবি দেখতে মন চাইবে কিভাবে? অনেক দিন পর, অনেকের সাজেস্টে, অনেকের পজিটিভ রিভিউ পড়ার পর দেখার ইচ্ছা হলো তাই দেখে নিলাম। ভালো লেগেছে তো বটেই। সাথে খুব খারাপ লেগেছে। ওটা মুভি দেখার পর আপনিই জানবেন। স্টোরি কমন, কিন্তু মেকিং দারুণ। ফিনিশিং সেরা ছিলো।

কিছুটা টুইস্ট, কিছুটা আবেগময় ইন্ডিং এই আর কি। ন্যানি, শ্রদ্ধা, সত্যরাজ ও ছোট্ট ন্যানি এই চারজনই মুভিটার প্রাণ দিয়েছে। জার্সি মুভির মুল বিষয়টাও মুভির নামের মধ্যেই আছে। ছেলের জন্মদিনে বাবা একটা জার্সি কিনে দিবেন বলে দিয়েছেন। বেকার, অবসর প্রাপ্ত ক্রিকেটার কোথায় থেকে জার্সি কেনার টাকা যোগার করবে সেটায় দেখার বিষয় ছিলো। বাবার কাছে সন্তানই সব কিছু। সন্তানের জন্য একটা বাবা যেকোন কিছু করতে পারেন। কাহিনী সামনে আরও আছে। বিজিএম অস্থির। গান গুলোও বেশ শ্রুতিমধুর। সব মিলিয়ে মাস্ট ওয়াচ। দেখতে পারেন ভালো লাগবেই।

 

  • অভিনয়

ন্যানি: মুভিতে ন্যানির নাম ছিলো অর্জুন। ন্যানি একজন মধ্যবিত্ত ক্রিকেটার এর রোল প্লে করেছেন। ন্যানির অভিনয় আপনাকে ভালো লাগাতে বাধ্য করবো। ক্রিকেটার চরিত্র করার জন্য ন্যানি কে খেলা শেখা হয়েছে হয়তো। ভালোই খেলছে। শট গুলোও দারুন ছিলো। ইমোশনাল মোমেন্ট গুলোতে ন্যানির রিএক্শন দেখার মতই। সব মিলিয়ে ন্যানির অভিনয় ১০/১০ ছিলো।

শ্রদ্ধা শ্রিনাথ: মেয়েটাকে আগে কখনো দেখি নি আমি। সুন্দর তো বটেই অভিনয়েও বেশ পটু। একটা মধ্যবিত্ত ক্রিকেটার কে নিয়ে টানাপোড়ন সংসার করা সারাহ অর্জুন চরিত্র টা ভালো ভাবে করেছে।

সত্যরাজ: আমার দেখা পরিপূর্ণ একজন অভিনেতা সত্যরাজ। অনেকের চেনার সুবিধার্থে উনার আরেক নাম কাটাপ্পা। মুভিতে সত্যরাজ কোচে ভূমিকায় অভিনয় করেছেন। ক্রিকেটার অর্জুন কে সঠিকভাবে মূল্যায়ন করা একমাত্র কোচ চরিত্রে সত্যরাজের অভিনয় প্রশংসনীয়।

হরিশ কল্যান: ছোট ন্যানি চরিত্রে অভিনয় করেছে হরিশ কল্যাণ নামক কিউট ছেলেটা। পুরোটা সিনেমায় তাকে ঘিরে।

  • প্লট

ক্রিকেটার অর্জুন ক্রিকেট হতে অবসর নিয়েছেন ১০ বছর হলো। সেই সাথে তার একটা সরকারি চাকরিও গেলো। পুরো বেকার অর্জুন এর স্ত্রী সারাহ এর অর্থেই কোন রকম দিন কাল যাচ্ছে। ছেলে ন্যানি তার বার্থডে তে একটা ইন্ডিয়ান ক্রিকেট জার্সি চাইছে বাবার কাছে। জার্সির মূল্য ৫০০ টাকা ।কিন্তু অর্জুনের পকেট পুরো ফাঁকা। মুভির শেষে জার্সিটা ন্যানি হাতে পায় কারণ তার বাবা তাঁকে জার্সিটা কিনে দিতে পেরেছিলেন। যদিও, এরই মধ্যে ঘটে অনেক ঘটনা।

অলিগলি.কমে প্রকাশিত সকল লেখার দায়ভার লেখকের। আমরা লেখকের চিন্তা ও মতাদর্শের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। প্রকাশিত লেখার সঙ্গে মাধ্যমটির সম্পাদকীয় নীতির মিল তাই সব সময় নাও থাকতে পারে।