টানা ১০ দিন ছুটি: কাজপাগল জাপানীদের অসন্তোষ!

ছুটি পেতে কে না ভালবাসে!

কাজের ফাঁকে একটু ছুটি পাওয়া মানেই তো, ছুটি শেষে পুরনো উদ্যোম নিয়ে কাজে ফেরত যাওয়া। সমাজবিজ্ঞানীরা মনে করেন, মাঝে মধ্যে একটু লম্বা ছুটি নিলে সেটা ভাল কাজে সহায়তা করে।

কিন্তু, জাপানের লোকজন নাকি ছুটিতে ঘোর আপত্তি জানিয়েছে। দেশটার নাম যখন জাপান, তখন সেখানে উদ্ভট কিছু তো হবেই!

কাজ পাগল জাপানীরা ১০ দিনের টানা ছুটি ভোগ করছেন। শনিবার থেকে নজিরবিহীন এ ছুটি শুরু হয়েছে। টানা বেশ কয়েকদিনের ছুটিতে যে জাপানীরা সন্তুষ্ট তা কিন্তু নয়। অধিকাংশই বিরক্তি প্রকাশ করেছে। কারণ, এ সময়ে নানা ধরনের সেবা বিঘ্নিত হবে।

জাপানী দৈনিক আশাহি শিম্বুন-এর এক জরিপে দেখা গেছে, ৪৫ শতাংশ জাপানী টানা ছুটিতে খুশি নন। অন্যদিকে ৩৫ শতাংশ জাপানী তাদের সন্তুষ্টি প্রকাশ করেছে। শুনতে আজগুবি মনে হলেও এটাই সত্য।

এটা হয়েছে জাপান সম্রাটদের পালাবদলের কারণে। এর মধ্যে মঙ্গলবার সম্রাট আকিহিতো বিদায় নেবেন। এরপরই তার বড়ো ছেলে নারুহিতো (৫৯) সিংহাসনে বসবেন। মানে, নারুহিতোর অভিষেক অনুষ্ঠিত হবে।

এদিকে বেশ কয়েকদিনের এ ছুটি কাটাতে রেকর্ড সংখ্যক লোক বিদেশ ও দেশের বিভিন্ন জায়গায় বেড়াতে যাচ্ছে। ফলে উপছে পড়ছে বিমানবন্দর ও রেলস্টেশন।

পুরনো সম্রাটের বিদায় এবং নতুন সম্রাটের অভিষেক অনুষ্ঠান ছাড়াও কঠোর পরিশ্রমের জন্যে খ্যাত জাপানীরা দেশটির ঐতিহ্যবাহী ‘গোল্ডেন উইক’ও এ সময়ে উদযাপন করবে।

এ সময়ে কেউ কেউ জাতীয় অনুষ্ঠানগুলো দেশের মধ্যে পালন করলেও অনেকেই ছুটি কাটাতে বিদেশ পাড়ি দিচ্ছে। শনিবার টোকিওর নারিতা বিমানবন্দর থেকে রেকর্ডসংখ্যক ৬০ হাজার ৭শ লোক বিদেশের উদ্দেশ্যে যাত্রা করছে। জাপানের জাতীয় সম্প্রচার কেন্দ্র এনএইচকে এ তথ্য জানিয়েছে।

এদিকে দেশে যারা ছুটি কাটাতে যাচ্ছে তারা টোকিও স্টেশনে বুলেট ট্রেনের জন্যে ভিড় করছে। কেউ তাদের নিজ গ্রাম আবার কেউবা আশেপাশে বেড়াতে যাওয়ার পরিকল্পনা করেছে।

জাপানের ট্রাভেল এজেন্সি (জেটিভি) বলছে, দীর্ঘ এ ছুটিতে প্রায় দুই কোটি ৪৬ লাখ ৭০ হাজার লোক দেশ ও বিদেশে বেড়াতে যাচ্ছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এছাড়া আগামী ৬ মে পর্যন্ত ব্যাংকগুলো বন্ধ থাকবে বলে সেখানেও টাকা তোলার জন্যে দীর্ঘলাইন পড়েছে। মূলত, এসব কারণেই জাপানীরা বেশ ভালই ক্ষেপেছে এবার।

Related Post

অলিগলি.কমে প্রকাশিত সকল লেখার দায়ভার লেখকের। আমরা লেখকের চিন্তা ও মতাদর্শের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। প্রকাশিত লেখার সঙ্গে মাধ্যমটির সম্পাদকীয় নীতির মিল তাই সব সময় নাও থাকতে পারে।