ইন্টারেস্টিং কেস: স্যাম্পল তামিম ইকবাল

তামিম ইকবাল বাংলাদেশ ক্রিকেট লিগে (বিসিএল) ট্রিপল সেঞ্চুরি করেছেন। উইকেট, বোলারের মান যেমনই হোক ট্রিপল সেঞ্চুরি করতে বিশেষ যোগ্যতা থাকতে হয়। এই ট্রিপল সেঞ্চুরির পর দুধরনের মন্তব্য লক্ষ্য করা যাচ্ছে।

প্রথম ধরণ, একটি সি ক্যাটেগরির লিগে ডি গ্রেডের বোলিং পেয়ে তামিম নিজের জাত চিনিয়েছেন, এবং মিডিয়া সেটিকেই ফলাও করে প্রচার করছে।

দ্বিতীয় ধরণ, ডট বল খেলা নিয়ে প্রবল সমালোচনা হচ্ছে, তামিম সকল সমালোচনার জবাব দিল ট্রিপল সেঞ্চুরির মাধ্যমে।

দু’ধরনের মন্তব্যই মেরিটলেস। তবু এগুলো এরকম বিস্তৃতি পাওয়ার কারণ কী হতে পারে?

এক্ষেত্রেও কারণ দুটো। প্রথমত বোর্ডের স্বজনপ্রীতি। দ্বিতীয়ত অধিকাংশ ক্রিকেটদর্শকই ফরম্যাট অনুযায়ী ক্রিকেটের এপ্রোচ যে আলাদা সেই মৌলিক বিষয়টিও বুঝতে পারে না। অবশ্য বিভিন্ন পর্যবেক্ষণ থেকে প্রাপ্ত ডেটানুসারে ক্রিকেট দর্শকদের ৮০% এরই বয়স ৩০ এর নিচে; ৩০ পেরিয়েও যারা ক্রিকেটের খবরাখবর রাখে তারা সাধারণত ফরম্যাট সংক্রান্ত ভুলটা করে না।

বোর্ডের স্বজনপ্রীতির প্রসঙ্গটা কীভাবে এলো?
২০১৯ সালের আয়ারল্যান্ড টুর্নামেন্ট থেকেই বলা হচ্ছিল তামিম প্রচুর ডট খেলে, যা ওয়ানডে উপযোগী নয়, এবং তারও আগে ২০১৬-১৭ এর দিকে হাথুরুসিংহ টি-টোয়েন্টি থেকে তামিম আর মুশফিককে বাদ দেয়ার পরিকল্পনা করেছিল।

বাংলাদেশের জন্য আদর্শ ফরম্যাট ওডিআই ক্রিকেট, ২০১৯ বিশ্বকাপে তামিম সেখানে বিরক্তিকর পারফরম্যান্স প্রদর্শন করে। মূলত তখন থেকেই তামিমের প্রতি কিছু মানুষের ক্ষোভ তৈরি হয়, সর্বশেষ বিপিএল-এ মাত্র ১০৯ স্ট্রাইকরেটের বিপরীতে লিটন-আফিফ জুটির ছয়টি ৫০+ ওপেনিং পার্টনারশিপ মিলিয়ে প্রকাশ্য হয়ে উঠে তামিম ইকবালের ব্যাটিং টি-টোয়েন্টিতে চলছে না।

তবু তামিম টি-টোয়েন্টিতে অটোচয়েজ ক্যাটেগরিতে খেলছে, এবং নির্বাচক-মিডিয়া-কোচ তাঁর ব্যাটিংকে ডিফেন্ড করতে ছেলেভুলানো নানা যুক্তি দিচ্ছে; এটা মানুষকে আরো ক্ষুব্ধ করেছে। ফলে ফরম্যাট নিয়ে আর ভাবার মতো ঠাণ্ডা মস্তিষ্ক থাকছে না, ব্যক্তি তামিম ইকবাল হয়ে উঠেছে অন্যায়-অবিচারের মূর্ত প্রতীক।

নয়তো তামিম ইকবাল আরো ৩-৪ বছর নির্বিঘ্নে টেস্ট খেলার যোগ্যতা রাখে, ওয়ানডেতে বাতিল হলেও বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে গোঁজামিল দিয়ে হলেও চালানো সম্ভব, যেহেতু টপ অর্ডারে কনসিসটেন্ট কোনো ব্যাটসম্যান নেই। কিন্তু টি-টোয়েন্টিতে সে যে বিষফোঁড়া এই সত্যটা স্বীকার করে এই ফরম্যাটটা ছেড়ে দিলে প্লেয়ার হিসেবে সে আরো সম্মান পেতে পারে, অন্যথায় গণট্রলিংয়ের কারণে তার টেস্ট ক্যারিয়ারও সংক্ষিপ্ত হয়ে পড়তে পারে।

মাশরাফি জিম্বাবুয়ে সিরিজেও খেলছে, ক্রিকেটার থেকে জোকারে পরিণত হয়েছে অনেকটা। টি-টোয়েন্টি চালিয়ে গেলে তামিমও নিকট ভবিষ্যতে একই পথে হাঁটবে তা তার ট্রিপল সেঞ্চুরির পর মন্তব্যগুলো পর্যালোচনা করলেই বোঝা যায়।

অলিগলি.কমে প্রকাশিত সকল লেখার দায়ভার লেখকের। আমরা লেখকের চিন্তা ও মতাদর্শের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। প্রকাশিত লেখার সঙ্গে মাধ্যমটির সম্পাদকীয় নীতির মিল তাই সব সময় নাও থাকতে পারে।