সুপরিচিত, তবে অবমূল্যায়িত

বাংলাদেশের টেলিভিশন অঙ্গনে আক্ষরিক অর্থেই নতুন এক মাইলফলক রচনা করেছিল একুশে টেলিভিশন। আর এই টেলিভিশেন সৌজন্যে সবচেয়ে আলোচিত হয়েছিল ধারাবাহিক নাটক ‘বন্ধন’। ‘ব্যস্ত শহরে, ঠাস বুনোটের ভিড়ে, আজও কিছু মানুষ, স্বপ্ন খোঁজে ফিরে’ – একুশে টেলিভিশনে প্রচারিত জনপ্রিয় ধারাবাহিকটি আজো দেখলেই  ঠিক একইরকম আবেদনময় মনে হয়।

এখন যার কথা বলছি ‘বন্ধন’ এর মাধ্যমে দর্শকদের কাছে পরিচিত হয়ে ওঠেন। তিনি মঞ্চ নাটক থেকে উঠে এসেছেন, প্রশংসনীয় কাজ করেছেন ছোট পর্দায়। বেছে বেছে বেশ কয়েকটা সিনেমায় কাজ করেন। যদিও এত কিছুর পরও অনেক সময়ই তিনি ও তাঁর কাজ অবমূল্যায়িতই থেকে যায়। তিনি হলেন ইন্তেখাব দিনার।

মঞ্চ নাটক থেকে উত্থান হয় দিনারের। বন্ধুদের সাথে তিনি নাগরিকের একটি মঞ্চ নাটক দেখতে গিয়েছিলেন, নাটকটি তাকে বেশ প্রভাবিত করেছিল।এমন সময় নাগরিক নাট্য সম্প্রদায়ের একটি বিজ্ঞাপনে সাড়া দিয়ে তিনি আবেদন করেন। ইন্টারভিউতে কৃতকার্য হয়ে তিনি আরও বিশজনের সাথে নাগরিক নাট্য সম্প্রদায়ে যোগ দেন ১৯৯৫ সালে।

২০০১ সাল পর্যন্ত তিনি এই দলের সাথেই ছিলেন। নাগরিক নাট্য সম্প্রদায়ের হয়ে তিনি নুরুল দীনের সারাজীবন, অচলায়তন, মৃত্যু সংবাদ, গ্যালিলিও, দেওয়ান গাজীর কিচ্ছা এবং শঙ্খচিল নাটকে অভিনয় করেন।

মঞ্চে কাজ করার পাশাপাশি ইন্তেখাব টিভি নাটকেও অভিনয় শুরু করেন। তার অভিনীত প্রথম নাটক গাজী রাকায়েতের পরিচালনায় গোর। নাটকটি খুবই প্রশংসিত হয়েছিল। সময়ের সেরা সব অভিনেত্রীদের সাথেই তিনি কমবেশি জুটিবদ্ধ হয়েছেন।

তবে বন্ধন নাটকের মাধ্যমে তিনি পরিচিত হয়ে উঠেন। এই অভিনেতা অভিনীত অন্যান্য উল্লেখযোগ্য নাটকের মধ্যে অরুপার জন্য, সাড়ে তিন তলা, কাছের মানুষ, স্পর্শের বাইরে, পেস মেকার, দেয়ালের ওপারে, উইঘর, ইন্টার্ভিউ, উত্তরাধিকার, মৃত্যুবান, পলাশের রং, এবং বনলতা সেন, অফবিট অন্যতম।

বাদল রহমানের স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র ‘ছানা ও মুক্তিযুদ্ধ’ দিয়ে শুরু। এরপর পূর্ণদৈর্ঘ্য ছবি ‘জয়যাত্রা’-তে অভিনয়ের মাধ্যমে চলচ্চিত্রে পদার্পন করেন তিনি। এই ছবিতে তাঁর অভিনয় বেশ প্রশংসিত হয়, এছাড়া ফিরে এসো বেহুলা, খন্ডগল্প ৭১ এ অভিনয় করেন।

সর্বশেষ মোস্তফা সারোয়ার ফারুকীর আলোচিত ছবি ‘শনিবার বিকেল’ এ অভিনয় করেছেন। সব ঠিকঠাক থাকলে অচিরেই মুক্তি পাবে এই ছবি। এই ছবিতে তিনি কেমন চরিত্রে অভিনয় করছেন তা অবশ্য এখনো জানা যায়নি।

ব্যক্তিজীবনে তিনি বিয়ে করেছেন স্বনামধন্য অভিনেত্রী ও নৃত্যশিল্পী বিজরী বরকতউল্লাহকে। ২০১৩ সালের বাংলা নববর্ষের দিন, মানে ১৪ এপ্রিল তাঁরা বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন।

আরো পড়ুন

অলিগলি.কমে প্রকাশিত সকল লেখার দায়ভার লেখকের। আমরা লেখকের চিন্তা ও মতাদর্শের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। প্রকাশিত লেখার সঙ্গে মাধ্যমটির সম্পাদকীয় নীতির মিল তাই সব সময় নাও থাকতে পারে।