ইনসাইড এজ: ক্রিকেট, সিনেমা, ক্রাইম

ওয়েব সিরিজে সিনেমার স্বাদ পাওয়া মানে একের ভিতর দুই। ‘ইনসাইড এজ’-এ আপনি সিনেমা ও ওয়েব সিরিজ – দুইয়ের দ্বাদই পাবেন। যারা ক্রিকেট পছন্দ করেন, তাদের জন্য উপভোগ্য যেমন হবে, তেমনি শরীর ঘিনঘিনও করবে ক্রিকেটের ভেতরের জগৎটা দেখে। কারণ, এখানে ক্রিকেট, সিনেমা আর ক্রাইম – সব মিলে মিশে একাকার হয়েছে।

ক্রিকেট নিয়ে জুয়া খেলা, রাজনীতি, গুটি চালাচালি, ম্যাচ ও স্পট ফিক্সিং, ড্রাগ বিজনেস, খুন, ডোপিং, সেক্স, ব্ল্যাক-মেইল আনলিমিটেড অ্যাকশন, রোমান্স, উত্থান-পতন, রোমাঞ্চ, রহস্য টুইস্ট- সবই আছে ‘ইনসাইড এজ’-এ। সব মিলিয়ে আমাজন প্রাইম এবং ফারহান আখতারের করা এটি প্রথম ও  ভারতের ইতিহাসের সেরা ওয়েব সিরিজ। সমালোচকদের প্রশংসা কুড়ানোর পাশাপাশি এটা অনেক পুরস্কারও জিতেছে।

ওয়েব সিরিজের প্রধান আকর্ষণ হিসেবে ছিলেন বিবেক ওবেরয়। এখানে ভারতীয় ক্রিকেটের ম্যাচ ও স্পট ফিক্সিংয়ের মুকুটহীন সম্রাট ভিক্রান্ত হিসেবে দেখানো হয়েছে। তিনি হলেন ক্রিকেট জুয়ার মাস্টার মাইন্ড। যারা শাহরুখ খানের ‘ডন’ ছবির ফ্যান তারা এই ওয়েব সিরিজে বিবেক ওবেরয়ের মধ্যে ডন মুভির শাহরুখ খানকে খুঁজে পাবেন।

একসময় বলিউডে ‘সাথিয়া’, ‘কোম্পানি’, ‘রোড’, ‘দম’-এর মত অসাধারণ সব ছবি করা বিবেক ওবেরয় যখন একটা সময় ইন্ডাস্ট্রি থেকে হারিয়েই যেতে বসেছিলেন। এমন সময় ‘ইনসাইড এজ’-সহ আরো কয়েকটা নেতিবাচক চরিত্র তাঁকে আবারো আলোচনায় ফেরায়।

এবার সিরিজের কাহিনীতে আসা যাক। ঘটনাক্রম এগিয়েছে পাওয়ার প্লে প্রিমিয়ার লিগ (পিপিএল) নামের একটা ফ্র্যাঞ্চাইজি ভিত্তিক টি-টোয়েন্টি টুর্নামেন্টকে কেন্দ্র করে। সেখানকার একটি দল হল মুম্বাই ম্যাভরিকস। দলের মালিক বলিউড তারকা জেরিনা মালিক (রিচা চাড্ডা)। সিরিজটি রিচা চাড্ডার ক্যারিয়ারে একটা সিগনেচার কাজ হয়ে থাকবে।

তার বিশেষ গুণ হচ্ছে নিজের স্বার্থের জন্য যে কোন কিছু পারেন। তার মত আরেকজন দলের স্টার হলেন ক্রিকেটার ভায়ু রাঘবন (তানুভ ভিরওয়ানি)। তিনি সুপার স্টার ক্রিকেটা। তার বোনের চরিত্রে শায়ানা গুপ্তা ছিলেন অসাধারণ। টিম অ্যানালিস্ট হিসেবে যার বুদ্ধিমত্তা, প্লেয়ার সিলেকশন, খেলার টেকনিক, বিপক্ষের দুর্বলতা খুঁজে বের করার কৌশল ছিল মাইন্ডব্লোয়িঙ। একজন ক্রিকেটার না হয়েও ক্রিকেটের খুঁটিনাটি বিষয়ে কত অভিজ্ঞ হতে পারে তার জ্বলন্ত প্রমাণ ছিল এই চরিত্রটি । দলের অধিনায়ক অরবিন্দ ব্যাশিষ্ট (আঙ্গাদ বেদি)।

ওয়েব সিরিজের প্রথম সিজন ছিল দুর্দান্ত। দ্বিতীয় সিজনকে আকর্ষণীয় করে তুলতে চেষ্টার কমতি করা হয়নি। দক্ষিণ আফ্রিকায় শ্যুটিং, খেলোয়াড় নিলামে কেনা বেচা নিয়ে নাটকীয়তা, দুবাইয়ের সুন্দর লোকেশন আর ‘ভাই সাহাব’-এর (আমির বশির) মত একজন ধুরন্ধর ক্রিকেট প্রশাসক ছিলেন। ভাই সাহাব এখানে ভারতীয় বোর্ডের সভাপতি। তবে, চরিত্রটা আরেকটু বড় কোনো অভিনেতাকে দিলে আরো মোক্ষম হত।

প্রথম সিজন সফল হওয়ায় দ্বিতীয় ফারহান আখতারের টিমের বিশাল ইনভেস্টমেন্ট , গ্রেট স্টোরি, পরিচালনা, অক্লান্ত পরিশ্রম চোখে পরার মত। দ্বিতীয় সিজনটা প্রথমটার চেয়ে গতিশীল ছিল, কিন্তু সব মিলিয়ে দর্শকদের প্রথম সিজনটাই বেশি ভাল লাগার কথা।

দর্শক মাত্র অনেক আশা নিয়ে ক্রিকেট খেলা দেখতে বসেন। আর মাঝে মাঝে কিছু ভুতুুড়ে বোলিং দেখা যায়। কখনো ব্যাটসম্যান বোকার মতো রান নিতে গিয়ে আউট হয়ে যান, কিংবা বিশাল বিশাল নো/ওয়াইড হয়। দর্শক হতাশ হন। তবে, দর্শকের আড়ালে সব সময় জানা যায় না যে ঘটনাগুলো আদৌ পূর্বপরিকল্পিত কি না।

‘ইনসাইড এজ’ দেখলে কারো কারো ক্রিকেট প্রেম বাতাসে মিলিয়ে যেতে পারে। কিংবা অন্য ভাবে বলা যায়, নোংরা অনেক অধ্যায় পর্দায় এনে আধুনিক ক্রিকেটে টি-টোয়েন্টি লিগ থিওরিকে একেবারে ধসিয়ে দিয়েছে ‘ইনসাইড এজ’।

Related Post

অলিগলি.কমে প্রকাশিত সকল লেখার দায়ভার লেখকের। আমরা লেখকের চিন্তা ও মতাদর্শের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। প্রকাশিত লেখার সঙ্গে মাধ্যমটির সম্পাদকীয় নীতির মিল তাই সব সময় নাও থাকতে পারে।