ইনকার: যৌন হয়রানি ও নিরপেক্ষ দৃষ্টিকোণ

কোনো নারী যখন কোনো পুরুষের বিরুদ্ধে যৌন হয়রানি’র মতো মারাত্মক অভিযোগ আনে, তখন দু’টো বিষয় আসলে সামনে আসে। এক, সেই নারী তার নিজের স্বার্থ চরিতার্থ করার জন্য ঐ পুরুষকে সেক্সুয়াল হ্যারাজমেন্টের অভিযোগে ফাঁসিয়েছে কারণ লিঙ্গজনিত কারণে এই অস্ত্রটা বেশিরভাগ ক্ষেত্রে নারীদের পক্ষেই ব্যবহার করা সম্ভব। দুই, আসলেই সেই পুরুষ দায়ী।

যদি আসলেই পুরুষ দোষী হয়ে থাকে, তবে শাস্তি তার প্রাপ্য। তবে যদি পুরুষ কোনভাবে দায়ী না হয় এবং সেই নারী উদ্দেশ্যমূলকভাবে এই অস্ত্র প্রয়োগ করে, তাহলে পরিস্থিতি অনেক জটিল হয়ে পড়ে।

  • চলচ্চিত্র: ইনকার
  • মুক্তির সাল: ২০১৩
  • ক্যাটাগরি: ড্রামা, রোমান্স, থ্রিলার

ছবিটি শুরু হয় একটি বিজ্ঞাপনী সংস্থা’র অফিসে সেক্সুয়াল হ্যারাজমেন্ট কেইসের তদন্তকার্য শুরুর মধ্য দিয়ে। কেইসটি ফাইল করে এই সংস্থা’র ন্যাশনাল ক্রিয়েটিভ ডিরেক্টর মায়া লুথরা। যার বিরুদ্ধে করা হয় তিনি কোম্পানীর সিইও রাহুল ভার্মা। মূলত কেইসটি’র বিভিন্ন বিষয়ে মায়া ও রাহুলের জিজ্ঞাসাবাদের বিভিন্ন পর্যায়ে ফ্ল্যাশব্যাকে সেই পরিস্থিতিগুলোর দৃশ্যায়ন, বর্তমানের সাথে সেই ঘটনাগুলোর যোগাযোগ, সাক্ষীদের জবানবন্দী-সহ কেইসের বিভিন্ন দিক বিশ্লেষণের মধ্য দিয়ে এগিয়ে যায় সিনেমার কাহিনী।

কেইসটি শেষ পর্যন্ত নিরপেক্ষ দৃষ্টিকোণ থেকে বিচার করা হয়েছে। এই ছবিটি দেখলে বোঝা যাবে কেন নারী নির্যাতনের অভিযোগ বা যৌন হয়রানী’র অভিযোগের ক্ষেত্রে চোখ-মুখ বন্ধ করে নারী’র পক্ষ না নিয়ে সম্পূর্ণ নিরপেক্ষ থেকে বিচার করাটা জরুরী। আরও বুঝতে পারবেন কর্পোরেটের সিঁড়ি বেয়ে ওঠার জন্য একজন নারী কতোটা ডেসপারেট হতে পারে এবং ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাকে ব্যবহার করতে পারে।

এই ধরণের অভিযোগের সাথে মানুষের সম্মান জড়িত এবং ‘সম্মান’ বিষয়টা মানুষের সবচেয়ে দুর্বল দিক বলা যায় কারণ সব হারালেও সম্মান কেউ হারাতে চায় না। একারণে, কখনও কখনও স্বার্থ উদ্ধারের জন্য এই সম্মানে আঘাত করার উদ্দেশ্য নিয়েই এই ধরণের অভিযোগগুলো করা হয় যাতে করে মানসিকভাবে সম্পূর্ণ ধ্বংসও করে দেওয়া যায়, আবার স্বার্থও হাসিল করা যায়।

এই ধরণের কেইসে শতভাগ নিরপেক্ষ তদন্ত ও বিচারের দাবীটা পূর্ণমাত্রায় যৌক্তিক। কারণ এই ধরণের কেইসে যদি জিরো টলারেন্স রাখা হয়, তবে সত্যিকারের নির্যাতিত নারীরা বিচার পেলেও এর চাইতে বহুগুণে বেশী সংখ্যক সুযোগসন্ধানী স্বার্থপর নারীরা এর অপব্যবহার করতে ছাড়বে না। তাই এই ধরণের কেইসে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড থাকাটা খুবই জরুরী এবং উভয় পক্ষকেই আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ দেওয়া উচিৎ অবশ্যই।

মনে রাখা উচিৎ, মানুষের মাঝে শয়তান-ফেরেশতা উভয় সত্তাই বিদ্যমান। এটা নারী-পুরুষ উভয়ের ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য। এমনটা বিশ্বাস করার কোন কারণ নেই যে পৃথিবীর সকল নারীই ভাল, আর পুরুষ মানেই খারাপ।

অর্জুন রামপালের অভিনয় নিয়ে বলার কিছু নেই। অসাধারণ পারফর্মেন্স। আর চিত্রাঙ্গদা সিংয়ের অন স্ক্রিন প্রেজেন্স সবসময়ের মতোই দুর্দান্ত। এছাড়াও গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে ছিলেন বিপিন শর্মা ও দীপ্তি নাভাল। চিত্রনাট্য ও পরিচালনা করেছেন সুধীর মিশ্র। প্রযোজনা করেছে ভায়াকম ১৮ মোশন পিকচার্স যারা আন্ধাধুন, পদ্মাবত, ভাগ মিলখা ভাগের সহ সমালোচক ও দর্শকপ্রিয় অসংখ্য সফল চলচ্চিত্র উপহার দিয়েছে।

ছবিটি বক্স অফিসে মোটামুটি সফল। তবে সমালোচকদের পজিটিভ রিভিউ পেলেও দর্শকরা সেই অর্থে গ্রহণ করেনি ছবিটি। লাইফটাইম ১৫ কোটির কাছাকাছি। যারা কর্পোরেট কেইস ভিত্তিক চলচ্চিত্র দেখতে আগ্রহী, তারা দেখে নিতে পারেন ছবিটি।

Related Post

অলিগলি.কমে প্রকাশিত সকল লেখার দায়ভার লেখকের। আমরা লেখকের চিন্তা ও মতাদর্শের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। প্রকাশিত লেখার সঙ্গে মাধ্যমটির সম্পাদকীয় নীতির মিল তাই সব সময় নাও থাকতে পারে।