গোপাল ভাঁড়ের কৌতুকও এতটা গাঁজাখুরি নয়!

ওয়ানডে ক্যারিয়ারে দুটি সেঞ্চুরি ইমরুল কায়েসের; একটি সৌম্য সরকারের। তার মানে, আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের এই ফরম্যাটে তাঁদের সর্বোচ্চ সামর্থ্যটা প্রমাণিত। এশিয়া কাপেও তাই দুজনের কারো ব্যাট থেকে, অথবা দুজনের ব্যাট থেকেই সেঞ্চুরি আসতে পারে। আসতেই পারে।

তবু যেভাবে ইমরুল-সৌম্যকে দুবাই উড়িয়ে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে, তা সমর্থন করি না। পুরো বাংলাদেশ সমর্থন করলেও আমি করি না। পুরো ক্রিকেটবিশ্ব করলেও না।

কেন? আমাদের এশিয়া কাপের স্কোয়াড ঘোষণা করা হয়েছিল পুরো টুর্নামেন্টের জন্য। মানছি, তামিমের ওভাবে ছিটকে যাওয়াটা অপ্রত্যাশিত ছিল। আবার এটিও ভুলছি না, তামিম-সাকিবদের ইনজুরি ঝুঁকির কথা চিন্তা করে স্কোয়াডটি ১৬ সদস্যের করা হয়েছিল। যেখানে সর্বশেষ সংযোজন মমিনুল হক। তাহলে সেখানে নতুন করে দুজন সংযোজন কেন?

ওপেনার হিসেবে লিটন-শান্তরা রান করতে পারছে না বলেই তো! তা ওদের এশিয়া কাপের মূল দলে নিয়েছিলেন কারা? নির্বাচকরা। ওরা তিন ম্যাচে এতই ব্যর্থ যে, একটা টুর্নামেন্টের মাঝপথে বিকল্প হিসেবে আরো দুই ওপেনার উড়িয়ে আনতে হচ্ছে! এমন ক্রিকেটারদের নির্বাচন করার দায় কী তাহলে নির্বাচকদেরও নয়?

জানি, এসব জায়গায় মিনহাজুল আবেদীন, হাবিবুল বাশারের করণীয় তেমন কিছুই থাকে না। কর্তার ইচ্ছেতেই তাঁদের কর্ম। তা সেই কর্তা অর্থাৎ বোর্ড প্রেসিডেন্ট তো মূল স্কোয়াড তৈরীর সময়ও চূড়ান্ত অনুমোদন দিয়েছেন। তাঁর ইচ্ছের বাইরে কোনো ক্রিকেটারের এই ১৬ জনে থাকার প্রশ্নই ওঠে না। তাহলে লিটন-শান্তদের মতো ক্রিকেটারদের দলে নেয়ায় নিজেকেও কাঠগড়ায় তোলা উচিত বিসিবি প্রেসিডেন্টের। অন্তত আয়নার সামনে দাঁড়ানো উচিত একবার।

কথা আছে আরো। ইমরুল-সৌম্য দুজনই তাঁদের সর্বশেষ ওয়ানডে খেলেছেন গত বছর অক্টোবরে; দক্ষিণ আফ্রিকা সফরে। পরের ১১ মাসে ৫০ ওভারের ফরম্যাটে এ দুজনের বলার মতো কোনো পারফরম্যান্স নেই। সেক্ষেত্রে কিসের ভিত্তিতে জাতীয় দলের ওয়ানডে স্কোয়াডে ফিরলেন তাঁরা? অন্যদের ব্যর্থতার কারণেই তো! তাহলে আর বাংলাদেশ ক্রিকেট গত দেড় যুগে এগোলো কোথায়! তখনো সতীর্থের ব্যর্থতার জন্য চাতক পাখির অপেক্ষা ছিল বাদ পড়াদের; নিজেরা ভালো খেলে নির্বাচকদের দলে ডাকতে বাধ্য করার বাধ্যবাধকতা ছিল না। এখনো তো সেই-ই!

আর শেষ কথা, ইমরুল-সৌম্যদের এশিয়া কাপের দলে ডাকার টাইমিং নিয়ে। যতটুকুন বুঝতে পারছি, এ সিদ্ধান্ত হয়েছে ভারতের বিপক্ষে লিটন-শান্তদের ব্যাটিং ব্যর্থতার পরপরই। ওই ম্যাচের মাঝখানে তো বটেই, সম্ভবত ব্যাটিং ইনিংসেরই মাঝপথে। এমন চর্চা যে দেশে, সে দেশে নাকি ক্রিকেট সংস্কৃতি গড়ে উঠবে!

বাংলাদেশে ক্রিকেট-সংস্কৃতি! হাহাহা… এটিকে গোপাল ভাঁড়ের কৌতুক বলেও আর চালিয়ে দেয়া যাবে না। এতটাই গাঁজাখুরি!

এই পুরো ঘটনাপ্রবাহে বড্ড অন্যায় হলো চার ক্রিকেটারের প্রতিই। লিটন-শান্তরা বুঝলেন, তাঁদের উপর অধিনায়ক-কোচ-নির্বাচক-ম্যানেজম্যান্ট-বোর্ড কারোই আস্থা নেই। দুজনের আত্মবিশ্বাসে বড় ধাক্কা লাগবে তাতে। আর যে দুজন যাচ্ছেন, সেই ইমরুল-সৌম্যদের আত্মবিশ্বাসও যে আকাশ ছোঁবে, তা নয়। বরং তাঁরা জানলেন, রান না করেও জাতীয় দলে প্রত্যাবর্তন করা যায়। তাহলে আর রান করার জন্য অনুশীলনে, জিমে, জীবনচর্চায় পরিশ্রম-আত্মনিবেদন-চেষ্টার প্রয়োজনটা কোথায়!

Related Post

অলিগলি.কমে প্রকাশিত সকল লেখার দায়ভার লেখকের। আমরা লেখকের চিন্তা ও মতাদর্শের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। প্রকাশিত লেখার সঙ্গে মাধ্যমটির সম্পাদকীয় নীতির মিল তাই সব সময় নাও থাকতে পারে।