একজন বদলে যাওয়া ইমরুল কায়েস

২০১৮ সালে এখন অবধি সবচেয়ে ভাল ব্যাটিং গড়ে ব্যাট করছেন  ভারতের বিরাট কোহলি। তাঁর ব্যাটিং গড় ১৪৯.৪৩। এর পরের নামটিই একজন বাংলাদেশির। তিনি হলেন তামিম ইকবাল। তাঁর ব্যাটিং গড় ৯০.১৭। ঠিক এরপরেই আছেন ইমরুল কায়েস। হ্যা, মাসখানেক আগেও যার দলে জায়গাটাই পাঁকা ছিল না তিনিই এই বছর ওয়ানডেতে ব্যাট করেছেন ৮৬.৪০ গড়ে!

ইমরুলের বদলে যাওয়া বোঝাতে এটুকু পরিসংখ্যানই যথেষ্ট। জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে সদ্য শেষ হওয়া ওয়ানডে সিরিজে ইমরুল করেছেন ৩৪৯ রান। তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজে এর চেয়ে বেশি রান ক্রিকেট ইতিহাসেই করতে পেরেছেন কেবল মাত্র একজন। তিনি হলেন পাকিস্তানের বাবর আজম (৩৬০)।

আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ইমরুল কায়েস এ মাসেই ১০ বছর কাটিয়ে ফেলেছিলেন। বাঁ-হাতি এই ব্যাটসম্যানের অভিষেক ২০০৮ সালের ১৪ অক্টোবর, নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে চট্টগ্রামে।

অথচ, এই দীর্ঘ সময়ে তিনি খেলেছেন কেবল ৭৬ টি ওয়ানডে। কখনো টিম কম্বিনেশনের কারণে, কখনো বাদ পড়েছেন অফফর্মের কারণে। এতটাই যাওয়া আসার মধ্যে ছিলেন যে, কখনোই তাকে ‘সিনিয়র’ বলে মনেই হয়নি। সর্বশেষ যেবার ফিরলেন সেটা স্রেফ কপালগুণেই।

এশিয়া কাপে ভ্রমণক্লান্তি নিয়েই আবুধাবিতে মরুর বুকে খেলেছিলেন ৭২ রানের অপরাজিত ও লড়াকু এক ইনিংস। যদিও, সেটা ছিল ছয় নম্বরে নেমে। এরপর এশিয়া কাপের পরের দুই ম্যাচেও খেলেছিলেন যথাক্রমে ছয় ও তিন নম্বরে।

এবারে জিম্বাবুয়ে সিরিজের আগেও তার ব্যাটিং পজিশন নিয়ে চলছিল বিস্তর আলোচনা। টিম ম্যানেজমেন্ট সকল আলোচনার অবসান ঘটিয়ে ইমরুলের শক্তির জায়গাতেই ভরসা রাখল। আর ওপেনিং পজিশনটা ফিরে পেয়েই নিজের ক্যারিয়ারের সেরা ইনিংসটা খেলে ফেললেন তিনি। এরপর সিরিজের বাকি দুই ম্যাচেও ছিলেন ধারাবাহিক। বড় ইনিংস খেলেছেন, আর সেটাও আধুনিক ওয়ানডে ক্রিকেটের ঢঙে স্ট্রাইক রেট ঠিক রেখে।

ক্যারিয়ারের শুরু থেকে ২০১৫ সালের নভেম্বর পর্যন্ত ইমরুলের ওয়ানডে গড় ছিল মাত্র ২৫.৪৩। ৫৬ ম্যাচে যিনি রান করেন ১৩৯৯। আর শেষ তিন বছর, অর্থাৎ নভেম্বর ২০১৫ থেকে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে তৃতীয় ওয়ানডে পর্যন্ত মাত্র ২০ ম্যাচ খেলে ইমরুল কায়েস করেছে ৫৪.২৬ গড়ে ১০৩১ রান। হাফ সেঞ্চুরি ছয়টি ও সেঞ্চুরি তিনটি। সেই ২৫.৪৩ গড় থেকে এখন গড় গিয়ে দাড়িয়েছে ৩২.৮৩। এখান থেকেই পরিস্কার যে ইমরুল কায়েস কতটা পাল্টে গেছেন!

Related Post

অলিগলি.কমে প্রকাশিত সকল লেখার দায়ভার লেখকের। আমরা লেখকের চিন্তা ও মতাদর্শের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। প্রকাশিত লেখার সঙ্গে মাধ্যমটির সম্পাদকীয় নীতির মিল তাই সব সময় নাও থাকতে পারে।