অচল ইমরুল থেকে অতিমানবীয় ইমরুল

লড়াইটা জমিয়ে দিলেন ইমরুল কায়েস!

এশিয়া কাপের ফাইনালের অতিমানবীয় সেঞ্চুরি নিয়ে জায়গাটা থিতুই করে ফেলেছিলেন লিটন দাস। বোঝাই যাচ্ছিল, ওয়ানডে বিশ্বকাপের আগে হয়তো এই পজিশন নিয়ে আর খুব একটা পরীক্ষা নিরীক্ষা করবে না টিম ম্যানেজমেন্ট।

কিন্তু, ইমরুল কায়েস এই বিষয়টাকে সম্ভবত একটু বেশিই ‘পার্সোনালি’ নিয়ে ফেলেছিলেন। তার সেই ক্ষোভটা ঝরলো তাঁর ব্যাটে। তিনি পেয়ে গেছেন ক্যারিয়ারের তৃতীয় সেঞ্চুরি, করেছেন ১৪৪ রান।

এটুকু বললেও আসলে ইনিংসের গভীরতাটা পরিস্কার বোঝা যায় না!

ইমরুল বল খেলেছেন মাত্র ১৪০ টি। ইনিংসে ছিল ১৩ টি চার ও ছয়টি ছক্কা। মানে ইনিংসের ৮৮ রানই এসেছে বাউন্ডারি থেকে। ওপেনিংয়ে ব্যাট করতে নেমে খেলেনে ৪৯ তম ওভারের চতুর্থ বল পর্যন্ত। টপ অর্ডারের ব্যাটসম্যানের কাছ থেকে এমন লম্বা ইনিংসই তো চাই।

এই অক্টোবরেই আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ১০ বছর কাটিয়ে ফেলেছেন ইমরুল। অথচ, এতটা যাওয়া আসার মধ্যে থেকেছেন যে কখনো তাকে সাদা চোখে ‘সিনিয়র’ বলে মনেই হয়নি। হবে কি করে, এই লম্বা সময়ে খেলেছেন যে মাত্র ৭৪ টি ওয়ানডে।

তবে, মিরপুর শেরে বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে জিম্বাবুয়ে সেই ১০ বছরের অভিজ্ঞতারই যেন এক ঝলক দেখা গেল। ১৭ রানের মধ্যে যখন দুই উইকেট পড়ে গেল, কিংবা যখন ১৫ ওভারের মধ্যে নেই বাংলাদেশের তিন উইকেট, অথবা যখন ১৩৭ থেকে ১৩৯ রান অবধি যেতেই তিনটা উইকেট হারিয়ে ধুকছিল বাংলাদেশ – প্রতিটা সময়েই বাংলাদেশের ইনিংসে ত্রাণকর্তা ইমরুল কায়েস।

আরো পড়ুন

ওয়ানডেতে এই ১৪৪-ই তার সর্বোচ্চ সংগ্রহ। আগের দু’টি সেঞ্চুরি ছিল নিউজিল্যান্ড ও ইংল্যান্ডের বিপক্ষে। এই ইনিংসটির মধ্য দিয়ে সাকিব আল হাসানের কানাডার বিপক্ষে (২০০৭) করা ১৩৪ রানের অপরাজিত ইনিংসটাকে ছাড়িয়ে গেলেন ইমরুল। নাম লেখালেন মুশফিকুর রহিমের পাশে।

মুশফিক গেল এশিয়া কাপেই শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে দুবাইয়ে করেছিলে ১৪৪ রান। সবার ওপরে এখনো আছেন তামিম ইকবাল। ২০০৯ সালে এই জিম্বাবুয়ের বিপক্ষেই তিনি করেছিলেন ১৫৪ রান। তামিমকে ছাড়াতে না পারলেও অবশ্য এই ইনিংসটি দিয়ে আবারো তামিমের সঙ্গী হওয়ার দাবীটা জোরালো করলেন তিনি।

এমনিতে পরিসংখ্যান অবশ্য বলছে, তামিমের সঙ্গী হিসেবে এখন অবধি ইমরুলই সবচেয়ে সফল। গেল ১০ বছরে তামিম ইকবাল কতজন ভিন্ন ভিন্ন সঙ্গীর সাথে ইনিংসের সূচনা করেছেন সেটা খুঁজে বের করতে হলে রীতিমত পরিসংখ্যান ঘাটতে হবে।

তামিম এই সময়ে শাহরিয়ার নাফিস, জুনায়েদ সিদ্দিক, মোহাম্মদ আশরাফুল, নাজিমুদ্দিন, এনামুল হক বিজয়, শামসুর রহমান শুভ, লিটন দাস, সৌম্য সরকার এমনকি মুশফিকুর রহিম কিংবা নাঈম ইসলামের সাথেও ব্যাটিং উদ্বোধন করেছেন।

তবে, ইমরুল-তামিমের মত সফল উদ্বোধনী জুটি এর আগে-পরে কখনো পায়নি বাংলাদেশ। ওপেনিংয়ে দু’জন জুটি ৫৪ ইনিংসে করেছেন করেছেন ১৭১৮ রান। অন্যদিকে সৌম্যর সাথে তামিম ২৩ ইনিংসে করেছেন ৯০৩ রান, এনামুল হক বিজয়ের সাথে ২৬ ইনিংসে করেছেন ৮৩১ রান।

তামিম ফিরলে কি হয়, এখন সেটাই দেখার ব্যাপার। তাঁর সঙ্গী যেই হোক না কেন, অন্তত এই ইনিংসটা দেখে বলাই যায় যে, ইমরুল লড়াইটা বেশ ভাল ভাবেই জমিয়ে দিয়েছেন। এভাবেই অভিজ্ঞতা প্রতিদান দেয়!

Related Post

অলিগলি.কমে প্রকাশিত সকল লেখার দায়ভার লেখকের। আমরা লেখকের চিন্তা ও মতাদর্শের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। প্রকাশিত লেখার সঙ্গে মাধ্যমটির সম্পাদকীয় নীতির মিল তাই সব সময় নাও থাকতে পারে।