আমি কোনো রহস্য স্পিনার নই: রশিদ খান

বলা হচ্ছে, রশিদ খান হচ্ছেন আধুনিক ক্রিকেটের সবচেয়ে কার্যকর লেগ স্পিনারদের একজন। কম-বেশি সব কুতুব ব্যাটসম্যানদেরই তাঁর ডেলিভারির সামনে ঝামেলায় পড়তে হয়। সেজন্য তাঁকে রহস্য স্পিনার বলাটা মোটেই অতিরঞ্জন নয়, তবে, আফগানিস্তানের এই প্রতিভা মনে করেন, কোনো রহস্য নেই তাঁর, সবই পরিশ্রমের ফসল। খেলাধুলা বিষয়ক ভারতীয় গণমাধ্যম ক্রিকেটসকার.কমে সাম্প্রতিক সময়ে দেওয়া একান্ত সাক্ষাৎকারে উঠে এসেছে তাঁর সাফল্যের গল্প।

আফগানিস্তান সাম্প্রতিক সময়ে দারুণ সব স্পিনার আনছে। এর পেছনে কারণ কি?

– হ্যা, এটা সত্যি যে আফগানিস্তান দারুণ সব স্পিনার আনছে। সব দেশেরই নিজস্ব কিছু বিশেষত্ব থাকে। যেমন, ভারত থেকে দারুণ সব ব্যাটসম্যান বের হয়। অস্ট্রেলিয়া, দক্ষিণ আফ্রিকা কিংবা ইংল্যান্ড থেকে আসে ফাস্ট বোলার। স্পিনাররা আমাদের বিশেষত্ব। এর একটা কারণ হল দেশে আমাদের মন্থর আর শুকনো উইকেটে খেলতে হয়। ওখানে স্পিনাররা বেশি সহায়তা পান।

সামনেই তো ভারতের বিপক্ষে অভিষেক টেস্ট। কতটা এক্সাইটেড?

– এটা আফগানিস্তান ক্রিকেটের একটা মাইলফলক হতে যাচ্ছে। আমি যখন থেকে খেলা শুরু করি, তখন বড় পরিসরের ক্রিকেটে নিজের দেশের প্রতিনিধিত্ব করার স্বপ্ন দেখতাম। হ্যা, এটা সত্যি যে আমরা নিয়মিত ওয়ানডে ও টি-টোয়েন্টি খেলার সুযোগ পাই, তবে টেস্ট একটা স্পেশাল ব্যাপার। আশা করি, ভারতের বিপক্ষে ম্যাচটা দারুণ উপভোগ্য হবে। সমর্থকরা অবশ্যই দেখবেন।

বিরাট কোহলি ম্যাচটায় থাকছেন না। এতে কি ম্যাচটা খানিকটা গুরুত্ব হারাবে?

– আমরা শুধু নিজেদের ভাল খেলায় ফোকাস করতে চাই। বিরাট কোহলি খেলুক বা না খেলুক, আমার কিছু যায় আসে না। টেস্টে যে কেউ আপনার জন্য কঠিন সময় আনতে পারেন। এখানেই টেস্ট ক্রিকেট অন্য সব ফরম্যাট থেকে আলাদা। আমাদের পুরো মনোযোগ তাই নিজেদের খেলায়, আমরা যে যোগ্য দল হিসেবেই টেস্ট স্ট্যাটাস পেয়েছি সেটা প্রমাষ করতে চাই। আর ভারত বিরাটকে ছাড়াও খুব শক্ত প্রতিপক্ষ। তাই, লড়াই করার জন্য আমাদের নিজেদের সেরা খেলার কোনো বিকল্প নেই।

আফগানিস্তানের পরিস্থিতি এখনো স্বাভাবিক নয়। মানুষ মারা যাচ্ছে নির্বিচারে। মাঠে যখন খেলতে নামেন, তখন কখনো কি দেশের কথা মনে পড়ে?

– কখনো নিজের মনে প্রশ্ন আসে যে আইপিএলের মত একটা হাই প্রোফাইল টি-টোয়েন্টি লিগে খেলছি, যখন কি না অসংখ্য নিরাপরাধ মানুষ মারা যাচ্ছে! তবে, এসব ঘটনা আমাকে আরো পারফরম করতে তাঁতিয়ে তোলে। ভাবি, ভাল করতে পারলে ক্রিকেটে দেশের মানুষের আগ্রহ আরো বাড়বে। এর চেয়ে বেশি কিছু এই ইস্যুতে বলতে চাই না।

সানরাইজার্স হায়দারাবাদে মুত্তিয়া মুরালিধরণের মত কিংবদন্তির সাথে কাজ করার সুযোগ পেয়েছেন। তাঁর সাথে কাজ করার অভিজ্ঞতা কেমন?

– যখন উনি আমার অ্যাকশন দেখলেন, বললেন কোনো কিছু বদলোনোর দরকার নেই। শুধু বোলিংয়ের স্পট নিয়ে কথা বললেন। বললেন, যেখানে বলটা ফেলতে চাই, সেদিকে মনোযোগী হতে। আরেকটা কথা বললেন যে যদি কোনো ব্যাটসম্যান ছক্কা হাঁকিয়ে ফেলেন তারপরও নির্ভার থাকতে। এমনকি যদি পাঁচ-ছয়টা উইকেট পেয়েও যাই তারপরও যেন নিয়ন্ত্রন হারিয়ে না ফেলি সেদিকে সচেষ্ট হতে বললেন, পরিকল্পনা থেকে সরে যেতে নিষেধ করলেন। উনি আমার সাথে নিজের অসংখ্য অভিজ্ঞতা শেয়ার করেছেন। বলেছেন, যখন তুমি মানসিক ভাবে অনেক শক্ত হবে তখন তুমি অনেক কঠিন পরিস্থিতির মোকাবেলা সহজেই করতে পারবে।

অনেকে বলেন আপনি রহস্য স্পিনার, কারণ আপনার বল খেলা খুব শক্ত…

– দেখুন, সত্যি কথা বলতে আমি মনে করি আমার বোলিংয়ে রহস্যময় কিছু নেই। আমি কোনো রহস্য স্পিনার নই। বলতে পারেন, আমি এখন যে অবস্থায় আছি তাঁর পেছনে কারণ একটাই – পরিশ্রম। আমি নেটে ঘন্টার পর ঘণ্টা ঘাম ঝরাই। আমি সব সময় নতুন কিছু শিখতে চেষ্টা করি। কারণ, আমি বিশ্বাস করি উন্নতির কোনো সীমা নেই। আমি এখনো নিজের উন্নতির জন্য চেষ্টা করছি।

Related Post

অলিগলি.কমে প্রকাশিত সকল লেখার দায়ভার লেখকের। আমরা লেখকের চিন্তা ও মতাদর্শের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। প্রকাশিত লেখার সঙ্গে মাধ্যমটির সম্পাদকীয় নীতির মিল তাই সব সময় নাও থাকতে পারে।