তামিল ইন্ডাস্ট্রির তরুণ সেনাপতি

তামিল ইন্ডাস্ট্রিতে প্রত্যাশার চাপটা বরাবরই একটু বেশি থাকে। স্বয়ং রজনীকান্ত যে ইন্ডাস্ট্রি থেকে তিলে তিলে মহীরুহ হয়েছেন, সেখানকরা দর্শক অল্পে সন্তুষ্ট হওয়ার পাত্র নন। সাম্প্রতিক সময়ে থালাইভা খ্যাত রজনীকান্তের কাছাকাছি যিনি আসতে পেরেছেন তিনি হলেন বিজয়।

পুরো নাম চন্দ্রশেখর জোসেফ বিজয়। ভক্তদের কাছে তিনি ‘ইলায়া থালাপাথি’। তামিল ভাষা থেকে এর বাংলা করলে দাঁড়ায় ‘তরুণ সেনাপতি’। রজনী যদি হন তামিলের সর্বাধিনায়ক, বিজয় তো তাহলে তরুণ সেনাপতিই। রজনীর মত তিনিও হলেন আমজনতার প্রিয় নায়ক।

বিজয় নিজেও রজনী’র বিরাট ভক্ত। বিজয় প্রায়ই বলেন, রজনী না থাকলে হয়তো তাঁর সিনেমার জগতে আসাই হত না। একবার নাকি এক অডিশনে এসে ‘আন্নামালাই’ ছবিতে রজনীর দেওয়া একটা সংলাপ শুনিয়ে সবাইকে মুগ্ধ করেন বিজয়। সংলাপটা ছিল এমন – ‘আমি যা বলবো তা করবো, যা বলবো না তাও করবো।’

সোনার চামচ মুখে নিয়ে জন্মানো বলতে যা বোঝায়, বিজয় ঠিক তাই। ১৯৭৪ সালের ২২ জুন তাঁর জন্ম হয় বাবা এস.এ চন্দ্রশখর ও মা শোভার ঘরে। বাবা তামিল ছবি পরিচালক, মা প্লে-ব্যাক সিঙ্গার। অভিনেতা হওয়ার মঞ্চটা বিজয়ের জন্মের পর থেকেই তাই যেন প্রস্তুত হয়েই ছিল।

শৈশবে নাকি খুবই চঞ্চল ছিলেন বিজয়। বাড়ির মানুষদের নাকি বিজয়কে সামলাতে খুবই বেগ পেতে হত। তবে, সব পাল্টে দেয় মাত্র দু’বছর বয়সী বোন বিদ্যা’র মৃত্যু। মা শোভা বলছিলেন, এই ঘটনাটাই একদম নীরব করে দেয় বিজয়কে। বোনের প্রতি ভালবাসা আজো বিজয়ের এক বিন্দুও কমেনি। নিজের প্রোডাকশন হাউজের নাম দিয়েছেন ভিভি প্রোডাকশন্স, যার পুরো অর্থ হল – বিদ্যা-বিজয় প্রোডাকশন্স।

মাত্র ১০ বছর বয়সে শিশু শিল্পী হিসেবে তামিল ইন্ডাস্ট্রিতে অভিষেক হয় বিজয়ের। ১৯৮৪ থেকে ১৯৮৮ – এই চার বছরে ছয়টি ছবিতে শিশু শিল্পী হিসেবে দেখা মেলে তাঁর। সবগুলোতেই পরিচালক ছিলেন তাঁর বাবা এস.এ চন্দ্রশেখর। এর মধ্যে ১৯৮৫ সালের ‘নান সিগাপ্পু মানিথান’-এ কেন্দ্রীয় চরিত্রে ছিলেন স্বয়ং রজনীকান্ত।

কেন্দ্রীয় চরিত্রে বিজয়ের অভিষেকটাও হয়েছে ‍খুব অল্প বয়সে। ১৯৯২ সালে প্রথম ছবি ‘নালায়া থিরপু’ যখন মুক্তি পায় তখন বিজয়ের বয়স মাত্র ১৮। প্রথম বড় সাফল্যের মুখ দেখেন ১৯৯৪ সালে ‘রাসিগান’ ছবি দিয়ে। তখনই তাঁর নামের সাথে ‘ইলায়া থালাপাথি’ তকমাটা যোগ হয়ে যায়। তামিলনাড়ুর রাজ্য চলচ্চিত্র পুরস্কার ‘কালাইমামানি’ যখন পান তখন ক্যারিয়ারের কাটিয়েছেন মাত্র ছয় বছর।

তামিলে বিজয় এখন বিরাট ব্যাপার। বলিউডে অল্প সময়ের জন্য হলেও পর্দায় এসেছেন তিনি। অক্ষয় কুমারের ‘রাওডি রাঠোর’ ছবির ‘চিনটা  তা তা’ গানে অক্ষয় ও পরিচালক প্রভু দেবার সাথে পা মিলিয়ে নেচেছেন। অক্ষয় আবার পরে বিজয়ের সুপারহিট ছবি ‘ঠুপাক্কি’র রিমেক করে বলিউডে বানান ‘হলিডে’।

তামিল নাড়ুতে তো বটেই, কেরালাতেও তার আকাশসমান জনপ্রিয়তা। নন-মালায়ালি অভিনেতার জন্য সেটা বিরল একটা ব্যাপার। কেরালার একটা থিয়েটারের বাইরে বিজয়ের ভক্তদের একটা গ্রুপ ১৭৫ ফুট লম্বা একটা কাটআউট বিলবোর্ড বসিয়েছে বিজয়ের। কেরালার শিশুরা এখন নাকি তামিল ভাষায়ও একটু একটু বোঝে। অবশ্য, বিজয় পর্দায় থাকলে তাঁরা ভাষা না বুঝেও সব গোগ্রাসে গিলতে পারা যায়!

অলিগলি.কমে প্রকাশিত সকল লেখার দায়ভার লেখকের। আমরা লেখকের চিন্তা ও মতাদর্শের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। প্রকাশিত লেখার সঙ্গে মাধ্যমটির সম্পাদকীয় নীতির মিল তাই সব সময় নাও থাকতে পারে।