যদি বাংলাদেশ বল টেম্পারিং করতো…

আমি এখন যেই প্রশ্নটা করতে যাচ্ছি, তার জন্য আমার মুন্ডু চেয়ে বসতে পারেন অনেকেই।

ধরুন, বাংলাদেশ ও দক্ষিণ আফ্রিকার মধ্যকার ম্যাচ হচ্ছে। মাশরাফি বিন মুর্তজা অধিনায়ক, সাকিব আল হাসান সহ-অধিনায়ক। সাকিব, দলের তরুণ ক্রিকেট মোসাদ্দেক হোসেন সৈকতকে বললেন, বলটা টেম্পার করতে হবে, যেন নতুন বল পাওয়া যায়। মরিয়া মাশরাফি আর কিছু খুঁজে না পেয়ে তাতে সায় দিলেন।

কিন্তু দুর্ভাগ্যজনকভাবে, মোসাদ্দেক ধরা খেলেন। এরপর মাশরাফি প্রেস কনফারেন্সে এসে স্বীকার করলেন যে তার সম্মতিতেই ঘটনা ঘটে।

তখন আপনাদের রিঅ্যাকশন কি একই হতো? কেন হতো না?

স্মিথ অস্ট্রেলিয়ান আর মাশরাফি বাংলাদেশি বলে যেটা স্মিথের জন্য ‘ফাসিযোগ্য অপরাধ’ সেটা মাশরাফির জন্য ‘জুনিয়রকে বাচাতে নিজের বুক পেতে দেওয়ার সাহসিকতা’?

সরি, যুগে যুগে টেম্পারিং হয়ে আসতেছে, কিন্তু স্মিথের মত বাঘের বাচ্চা একটাও আসে নাই। কোন ক্রিকেটারের সাহস হল না স্বীকার করার, সে করছে, এবং যদিও আমার জানামতে সে প্ল্যান করেই নাই, তাও বাঁচানোর জন্য করছে! এরপর সে কি ট্রিটমেন্ট পেলেন?

তাঁকে গালাগালি তো করা হলোই, তাকে আইসিসি ব্যান দিলো, তাকে সিএ ব্যান দিলো, তার এক বছরে লস হবে ৫ মিলিয়ন, তাকে দক্ষিণ আফ্রিকার এয়ারপোর্টে একজন হার্ডকোর ক্রিমিনালের মত ট্রিট করা হল। এর বাদে আইপিএল-বিগ ব্যাশের কথা না হয় বাদই দিলাম।

অন দ্য ফিল্ডে খুব ভাল ক্যাপ্টেন হয়ে অফ দ্য ফিল্ডে মুখে কুলূপ আটা কেউ আমার চোখে ভাল ক্যাপ্টেন না, স্টিভেন স্মিথই অস্ট্রেলিয়ার যোগ্য অধিনায়ক।

আসলে স্মিথের এই দেশে জন্মানো দরকার ছিল, কান্না দেখে সব মাফ হয়ে যেত, পরের টেস্টেই তাকে দলে ডাকার জন্য আন্দোলন হতো। সেটা যে খুব অযৌক্তি হত সেটাও বলা যায় না!

Related Post

অলিগলি.কমে প্রকাশিত সকল লেখার দায়ভার লেখকের। আমরা লেখকের চিন্তা ও মতাদর্শের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। প্রকাশিত লেখার সঙ্গে মাধ্যমটির সম্পাদকীয় নীতির মিল তাই সব সময় নাও থাকতে পারে।