ছবির প্রস্তাবগুলো না ফেরালেও পারতেন হৃতিক

একজনের কিছু হারানো মানেই আরেকজনের অর্জন। তবে, হৃতিক রোশন যেন এখানে এক কাঠি সরেস। তিনি ক্যারিয়ারে যে’কটা ছবির প্রস্তাব ফিরিয়ে দিয়েছেন, তাঁর সবগুলোই কালক্রমে বিশাল বিশাল হিটের জন্ম দিয়েছে। ২০০০ সালে ‘কাহো না প্যায়ার হ্যায়’ ছবি দিয়ে বলিউডে পা রাখা এই অভিনেতা বেশ কয়েকটা ব্লকবাস্টার ছবির প্রস্তাব ফিরিয়ে দিয়েছেন। নিশ্চয়ই সিনেমাগুলো নিয়ে হৃতিকের আক্ষেপ হওয়ার কথা।

  • দিল চাহতা হ্যায় (২০০১)

ছবিটি ভারতীয় সিনেমায় নতুন এক দিগন্তের সূচচনা করে। শুরুতে সিনেমাটির জন্য ভাবা হয়েছিল আমির খান, অক্ষয় খান্না ও হৃতিক রোশনকে। আকাশ চরিত্রের জন্য নয়, আমিরকে ধরে রাখা হয়েছিল সিদ্ধার্থ-এর চরিত্রটির জন্য। আর অক্ষয়কে সিদ্ধার্থ নয়, সামিরের চরিত্রের জন্য বিবেচনা করা হয়েছিল। আর হৃতিককে আকাশের চরিত্রটি প্রস্তাব করা হয়েছিল।

তবে, হৃতিকের কাছে ফারহান আখতারের অভিষেক নির্মানকে বেশি উচ্চাকাঙ্খী বলে মনে হয়েছিল। তাই তিনি প্রস্তাব ফিরিয়ে দেন। যোগ হন সাইফ আলী খান। এরপর বাকি দু’জনের চরিত্রও পাল্টে যায়। পরে এক সাক্ষাৎকারে হৃতিক বলেছিলেন যে তিনি ভাবতেও পারেননি যে ছবিটাকে ফারহান এভাবে উপস্থাপন করতে পারবেন। তিন বছর বাদে ফারহানের পরিচালনায় ‘লক্ষ্য’ ছবিটি করেন হৃতিক।

  • ম্যায় হু না (২০০৪)

আবারো শাহরুখ খানের ভাই হওয়ার সুযোগ পেয়েছিলেন হৃতিক। তবে, নির্মাতা ফারাহ খান নিজেও জানতেন যে দু’জন বিগ স্টারকে এক সিনেমায় সমান ভাবে হাইলাইট করা খুবই শক্ত ব্যাপার। তাই, হৃতিক ‘লাকি’র চরিত্রটি ছেড়ে দেন। সেখানে আসেন তাঁরই তৎকালীন শালা জায়েদ খান। সিনেমাটি বক্স অফিসে বেশ সাফল্য পায়।

  • স্বদেশ (২০০৪)

আশুতোষ গোয়ারিকর প্রস্তাব করেছিলেন হৃতিককে। ‘লগন’-এর সাফল্যের জের ধরে আশুতোষের প্রথম পছন্দ অবশ্যই ছিলেন আমির খান। তবে, মিস্টার পারফেকশনিস্টের স্ক্রিপ্ট পছন্দ হয়নি। এরপর বল যায় হৃতিকের কোর্টে। হৃতিক মনে করেন, ছবিটি আসলে তাঁর সাথে মানানসই নয়। তখন শাহরুখ এসে মোহন ভারগভের চরিত্রটি করেন। ছবিটা বক্স অফিসে বড় কোনো যুদ্ধ না জিতলেও প্রশংসনীয় একটা সিনেমা হিসেবে দর্শকদের মনে জায়গা করে নেয়।

  • বান্টি ওউর বাবলি (২০০৫)

যশ রাজ প্রোডাকশনের আরেকটি ছবিতে কেন্দ্রীয় চরিত্রের প্রস্তাব খুবই নম্রতার সাথে ফিরিয়ে দিয়েছিলেন হৃতিক। সিনেমার নাম ‘বান্টি ওউর বাবলি’। ওই সময় ‘কৃশ’ সিনেমার প্রস্তুতি নিয়ে খুব ব্যস্ত ছিলেন হৃতিক।পরিচালক শাদ আলীর ছবিটি বক্স অফিসে ভাল চলেছিল। অভিষেক বচ্চন, রানী মুখার্জীর সাথে ছিলেন স্বয়ং ‘বিগ বি’।

  • রঙ দে বাসন্তী (২০০৬)

আরেকটি ছবি যেটা বিস্ময়কর ভাবে হৃতিক ছেড়ে দিয়েছিলেন সেটা হল রাকেশ ওম প্রকাশ মেহরার ‘রঙ দে বাসন্তী’। ছবিটিতে আমিরের সাথে সেকেন্ড লিড করণ/ভগৎ সিংয়ের চরিত্রটির জন্য ভাবা হয়েছিল তাঁকে। হৃতিক ছেড়ে দিলে চরিত্রটি করেন তামিল স্টার সিদ্ধার্থ। হৃতিকের অবশ্য ছবির আইডিয়াটা পছন্দ হয়েছিল, আর কোনো বিস্ময় নেই যে তিনি চেয়েছিলেন আমির খানের করা ‘ডিজে’ চরিত্রটা। তবে, নির্মাতা রাকেশ হৃতিকের এই আবদার রাখেননি। বাকি ইতিহাসটা তো সবারই জানা! আচ্ছা, আমিরের চরিত্রটা যদি হৃতিক করতেন কেমন হত?

  • শুদ্ধি

ধর্ম প্রোডাকশনের পাইপলাইনে থাকা বিশাল এক প্রোজেক্ট। আর সব সময়ই এটাকে হৃতিকের ছবি বলেই ভাবা হয়েছিল। ‘অগ্নিপথ’-এর পরিচালক করণ মালহোত্রা আছেন পরিচালনার দায়িত্বে। প্রথমে কেন্দ্রীয় চরিত্রে কারিনা কাপুরের থাকা নিয়ে আপত্তি তুলেছিলেন হৃতিক। তবে, সেই আপত্তির কারণে তাকেই সরে দাঁড়াতে হয়। তাঁর জায়গায় এসেছিলেন সালমান খান, পরে তিনিও সরে দাঁড়ান। এখন গুঞ্জন আছে চরিত্রটা হয়তো বরুণ ধাওয়ান পেতে যাচ্ছেন।

  • পিঙ্ক প্যান্থার ২ (২০০৯)

শুধু বলিউড নয়, হলিউডকেও ‘না’ বলেছিলেন হৃতিক। পিঙ্ক প্যান্থার ২-তে বেশ গুরুত্বপূর্ণ একটা চরিত্রের জন্যই প্রস্তাব পেয়েছিলেন তিনি। তবে, কোনো এক বিচিত্র কারণে তিনি প্রস্তাব ফিরিয়ে দেন। ছবিটিতে ভারতের ঐশ্বরিয়া রায়ও ছিলেন। এর মধ্যে হৃতিকও থেকে গেলে দর্শকদের জন্য দারুণ একটা অভিজ্ঞতা হত।

দেশিমার্টিনি অবলম্বনে

Related Post

অলিগলি.কমে প্রকাশিত সকল লেখার দায়ভার লেখকের। আমরা লেখকের চিন্তা ও মতাদর্শের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। প্রকাশিত লেখার সঙ্গে মাধ্যমটির সম্পাদকীয় নীতির মিল তাই সব সময় নাও থাকতে পারে।